• অক্টোবর ১১, ২০১৭
  • আন্তর্জাতিক
  • 32
মমতা নেত্রী, আমরা যেন চাকর

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ রাজ্যসভার সদস্যপদ ছেড়ে দিয়ে সাবেক দল তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ঝাড়লেন মুকুল রায়। ভারতের আইনসভার উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের মনোনীত সদস্য ছিলেন তিনি। এর আগেই দল থেকে পদত্যাগ করেছিলেন।

আজ বেলা সাড়ে তিনটায় মুকুল রায় ভারতের উপরাষ্ট্রপতি ও রাজ্যসভার চেয়ারম্যান ভেংকাইয়া নাইডুর বাসভবনে গিয়ে তাঁর পদত্যাগপত্র তুলে দেন। অনুরোধ জানান তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করার।

এরপর বিকেল চারটায় মুকুল রায় তাঁর দিল্লির বাসভবনে এক সাংবাদিক সম্মেলন করে জানিয়ে দেন, কেন তিনি তৃণমূল থেকে পদত্যাগ করেছেন। তবে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছিল, আজ হয়তো মুকুল রায় বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন। কিন্তু মুকুল রায় সেই পথে না হেঁটে বলেছেন, ‘কোন দলে যাব এখনো ঠিক করিনি। ঠিক হলে জানাব।’

আজকের সংবাদ সম্মেলনে মুকুলের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু ছিলেন তাঁর সাবেক দলনেত্রী মমতা। মুকুল বলেন, ‘তৃণমূল এমন একটি দল, যেখানে একজনই নায়ক। এই দলে মমতা নেত্রী, আমরা যেন চাকর। আমি এই দলের অন্য নেতাদের মতো মুখ বন্ধ করে থাকতে পারি না।’

মুকুল রায় বলেন, নির্বাচন কমিশনে তৃণমূল কংগ্রেস দলের নির্বাচন করার আবেদন তিনিই করেছিলেন। নির্বাচন কমিশনও ১৯৯৭ সালে ২৭ ডিসেম্বর দল নিবন্ধনের চিঠি তাঁকেই পাঠিয়েছিল। মুকুল রায় ক্ষোভের সঙ্গে বলেছেন, তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপিকে কখনো সাম্প্রদায়িক দল বলেনি। মমতা নিজেই বিজেপির গড়া এনডিএ জোটের মন্ত্রী ছিলেন। ১৯৯৮ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত মমতা এনডিএর সঙ্গী ছিলেন। ছিলেন একসময়ে কংগ্রেসেরও।

মুকুল রায় বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন—এমন একটি গুঞ্জন ছিল বেশ কিছুদিন থেকেই। সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘২০০৩ সালে মমতার নির্দেশে আমি আরএসএসের সঙ্গে যোগাযোগও করি। এবার আমি বিজেপি নেতা অরুণ জেটলি এবং বিজয়বর্গীয়র সঙ্গেও সাক্ষাৎ করি। এরা আমার বন্ধু মানুষ।’

মুকুল রায়ের এই সাংবাদিক সম্মেলনের পর কলকাতায় পাল্টা সাংবাদিক সম্মেলন করেন তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘আমাদের নেত্রী এক, তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আমরা সবাই সহকর্মী, চাকর নই।’ পার্থ বলেন, ‘মুকুল চলে গেল, দল বাঁচল। কাঁরাপাড়ার কাঁচা ছেলের কাছ থেকে দল বাঁচল।’

আজ একই সঙ্গে বিকেলে বিজেপিও সাংবাদিক সম্মেলন করে। তাতে দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘মুকুল রায়ের মতো নেতা যে দলে যাবেন, সেই দল লাভবান হবে। মুকুল রায় যতক্ষণ পর্যন্ত না বিজেপিতে যাচ্ছেন, ততক্ষণ আমাদের কিছু বলার নেই।’