• মে ৪, ২০১৮
  • জাতীয়
  • 54
গাধা দিয়ে সিংহ বিনিময়

টাইমস ডেস্কঃ বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানায় আনা হয়েছে চারটি নতুন সিংহ। গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাফারি পার্কের সঙ্গে প্রাণী বিনিময়ের মাধ্যমে আনা হয়েছে দুটি সিংহ ও দুটি সিংহী। গত বুধবার ওই প্রাণী চারটি ঢাকায় আনা হয়। এর বিনিময়ে সাফারি পার্কে যাবে এক জোড়া গাধা, চারটি চিত্রা হরিণ ও এক জোড়া ময়ূর। এ ছাড়া এক জোড়া জলহস্তী আগেই সাফারি পার্কে চলে গেছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর এস এম নজরুল ইসলাম।

ঢাকার চিড়িয়াখানায় এশিয়ান সিংহের অবস্থান অনেক পুরোনো হলেও আফ্রিকান সিংহ আসে ২০১১ সালে। সে সময় দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে সিংহের জেনেটিক মিউটেশনের ফলে সৃষ্ট দুটি সাদা সিংহ কিনে আনা হয়। তাদের নাম দেওয়া হয় দীপ ও দীপালি। সিংহ দুটি বয়স ছিল সে সময় ২ ও ৩ বছর। বর্তমানে দীপ ও দীপালির বয়স ১০ ও ১১ বছর করে হয়েছে। প্রজনন ক্ষমতা কমে এসেছে। এ জোড়ার একবার একটি বাচ্চা হয়েছিল। তবে দুই সপ্তাহের মাথায় সিংহী বাচ্চাটিকে দুগ্ধ পান করানো বন্ধ করে দেয়। কর্তৃপক্ষ হ্যান্ডফিডিং করার চেষ্টা করে, তারপরও রক্ষা করা যায়নি দীপ-দীপালির সন্তানকে। এরপর বেশ কয়েকবার সিংহী গর্ভধারণ করলেও বাচ্চা নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল। তাই কর্তৃপক্ষ আফ্রিকান সিংহের অভাব অনুভব করতে থাকে ।

সম্প্রতি প্রাণী বিনিময়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা থেকে এক জোড়া জলহস্তী দেওয়ার মাধ্যমে গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাফারি পার্ক থেকে দুই জোড়া আফ্রিকান সিংহ ও এক জোড়া এশিয়ান কালো ভালুকের অনুমোদন পাওয়া যায়। আগেই জলহস্তীগুলো সাফারি পার্কে পাঠানো হয়েছে। ২ মে সিংহগুলো ঢাকায় আনা হয়। এ ছাড়াও চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ সাফারি পার্ককে দেবে এক জোড়া গাধা ও চারটি চিত্রা হরিণ। গাধা দুটির বয়স চার বছর।

জাতীয় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, সাফারি পার্ক থেকে প্রাণীগুলো আনার জন্য চিড়িয়াখানার সিনিয়র ভেটেরিনারি সার্জন, ভেটেরিনারি সার্জন এবং মাংসাশী শাখার জু অফিসারের সমন্বয়ে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। এ ছাড়া ২ মে প্রাণী সংগ্রহের দিন সাফারি পার্কে এই কমিটির সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার মহাপরিচালক মোহাম্মদ আইনুল হক, কিউরেটর এস. এম. নজরুল ইসলাম, সাফারি পার্ক প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক শামসুল আজম, গাজীপুর উপজেলার লাইভ স্টক অফিসার ডা. জলিল ও বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের সহকারী ভেটেরিনারি সার্জন মো. নিজাম উদ্দিন চৌধুরী।

সাফারি পার্কে দলটি পৌঁছানোর পর প্রাণীগুলোর অজ্ঞান করার কাজ শুরু হয়। আধা ঘণ্টা পর পর অজ্ঞান করা হয় চারটি সিংহকে। অজ্ঞানের পর খাঁচায় তুলে প্রাণীগুলোকে নিয়ে আসা হয় ঢাকায় জাতীয় চিড়িয়াখানায়।

প্রাণীগুলোকে নাম দেওয়া হবে। এখন পর্যন্ত প্রস্তাবিত যে নাম এসেছে তা হলো রন ও জন এবং পদ্ম ও শাপলা। এর মধ্যে পদ্ম ও শাপলা সিংহী, বয়স ৭ বছর। জন ও রন সিংহ, এদের বয়স ৫ ও ৭ বছর। বর্তমানে জাতীয় চিড়িয়াখানার লায়ন মটে সেমি ন্যাচারাল কন্ডিশনে রাখা হয়েছে এক জোড়াকে। অপর জোড়াকে খাঁচায় (সি-১১) রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর এস. এম. নজরুল ইসলাম বলেন, নিয়ে আসা সিংহী দুটির ওজন ১৬০ থেকে ১৭০ কেজি। সিংহ দুটির ওজন ১১০ কেজির মতো। এদের মধ্যে একটি সিংহের গায়ের রং বেশ তামাটে। তিনি জানান, দীপ ও দীপালির বেশ বয়স হয়েছে। ওদের প্রজনন ক্ষমতা বেশ কমে এসেছে। ওদের আস্তে আস্তে দর্শনার্থীদের দেখানোর স্থান থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার সিনিয়র ভেটেরিনারি সার্জন নাজমুল হুদা জানান, দীপ ও দীপালির আর বাচ্চা হচ্ছে না। পরে সাফারি পার্ক থেকে সিংহ আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই চার সিংহের মধ্যে দুটির জন্ম সাফারি পার্কে। বাকি দুটি সাউথ আফ্রিকা থেকে আনা হয়।

আফ্রিকান সিংহের গায়ের রং তামাটে সোনালি বর্ণের হয়। স্ত্রী সিংহের চেয়ে পুরুষ সিংহ আকারে বড় থাকে এবং পুরুষের কেশর থাকে। সাধারণত ১০৯-১১১ দিন গর্ভধারণের পর ১-৪টি বাচ্চা প্রসব করে। বনে এরা ১০-১৮ বছর পর্যন্ত বাঁচে। আবদ্ধ অবস্থায় সুষ্ঠু ব্যবস্থায় আয়ুষ্কাল ২০-২৫ বছর পর্যন্ত হতে পারে।