• জুলাই ২১, ২০১৮
  • লিড নিউস
  • 14
সুনামগঞ্জের হাটে নৌকা আছে, ক্রেতা নেই

বিশেষ প্রতিনিধি , সুনামগঞ্জ  থেকে : সুনামগঞ্জ শহরের ধোপাখালি এলাকার স্লুইসগেটের পাশে প্রতি শনিবার বসে নৌকার হাট। সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ নৌকা বিক্রি ও ক্রয় করেতে আসেন এ হাটে। খিলা, পাতামি, ফারোগাইয়া, কিয়ারিং, ফাজিলপুরী, বারকি নৌকাসহ বিভিন্ন নামে ডাকা হয় এসব নৌকাকে।

হাওর অধ্যুষিত সুনামগঞ্জের অন্যতম পরিবহন নৌকা। যাতায়াত, মৎস্য শিকার, বালি পাথর আনা নেওয়াসহ ব্যবসায়িক কাজে নদী কিংবা হাওরের এসব ছোট-বড় নৌকা ব্যবহার হয়ে থাকে। এখন ভরা বর্ষা। হাট বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণ নৌকা উঠলেও আগের মতো ক্রেতা খুঁজে পাচ্ছেন না বিক্রেতারা।

বালি পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকা, মৎস্যজীবীর হার কমে যাওয়া, ব্যবসার কাজে অন্য যানবাহন ব্যবহার করা ও যোগাযোগ উন্নয়নে দিন দিন ছোট বড় নৌকার চাহিদা কমে যাচ্ছে বলে জানান ক্রেতা-বিক্রেতারা। তাই হাট বাজারে নৌকা নিয়ে এসে আশানুরুপ দাম পাচ্ছেন না তারা।

সরেজমিন দেখা যায়, হাটে কয়েকশ নৌকা বিক্রি করতে এসেছেন মাইজবাড়ী এলাকার নৌকা ব্যবসায়ীসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষ। ক্রেতার সমাগম না থাকায় দিনভর অপেক্ষা করে প্রত্যাশিত মূল্যের চেয়ে কম দামে নৌকা বিক্রি করতে দেখা যায় একাধিক বিক্রেতাকে। তবে তুলনামূলক কম দামে নৌকা ক্রয় করতে পেরে অনেকটাই তৃপ্তির হাসি দিতে দেখা যায় একাধিক ক্রেতাকে।

সদর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়ন থেকে নৌকা কিনতে এসেছেন সুরুজ আলী নামে এক ব্যক্তি। তিনি সাড়ে সাত হাজার টাকায় তিনটি খিলা নৌকা কিনেছেন। কম টাকায় তিনটি নৌকা কিনতে পেরে তিনি জানান, আজকের বাজার অনেক সহনশীলে আছে। সাড়ে সাত হাজার টাকায় তিনটি খিলা নৌকা কিনেছি। একটি নিজের ব্যবহারের জন্য রাখবো আর দুটি স্থানীয় বাজারের বিক্রি করে দিবো।

শহরের মাইজবাড়ী এলাকা থেকে পাঁচটি নৌকা হাটে বিক্রি করতে এসেছেন সাদ আলী নামে এক ব্যবসায়ী। দিনভর দর কষাকষি করে দুটি নৌকা পাঁচ হাজারে বিক্রি করেছেন তিনি। সাদ আলী জানান, দুই তিন বাজার ধরে নৌকার হাটের অবস্থা খুব খারাপ যায়। নৌকা হাটে প্রচুর আসলেও ক্রেতার দেখা নেই। যার ফলে কম দামে নৌকা বিক্রি করতে হচ্ছে।

একই এলাকার উজ্জ্বল মিয়া জানান, হাটে ছয়টি নৌকা নিয়ে এসেছিলাম। কম দামে দুটি নৌকা বিক্রি করছি। তবে এক দুই বাজার পরে হাটে ক্রেতার উপস্থিতি বাড়তে পারে।