• জুলাই ২৭, ২০১৮
  • মতামত
  • 30
ইসলামের ঐতিহাসিক যুদ্ধ রাসুল (সা.)-এর মু’জিযাঃ অজানাকে জানার প্রতিকৃতি

শিরোনামে বর্ণিত নামের বইয়ের প্রচ্ছদ দেখেছিলাম গত রামাদ্বান মাসে। প্রচ্ছদ দেখেই মনেমনে অনুভব করেছিলাম যে, ভেতরে নিশ্চয় লেখকের অন্যসব বইয়ের মতো ভালো কিছু হবে! অধীর আগ্রহভরে অপেক্ষা করতে লাগলাম বইটি পাঠ করার জন্য। গত ২৫ জুন আরো একটি বইসহ এই বইটি লেখক তার নিজহাতে দুটি “সৌজন্যে কপি” দেন।

খুব ইচ্ছা ছিলো বই হাতে নিয়ে লেখকের সাথে একটি ছবি তোলবো! ইচ্ছাটা আর প্রকাশ করিনি এই কারণে যে, অযথা ছবি তোলা তিনি (বইয়ের লেখক মাওলানা মঈনুল ইসলাম পারভেজ) মোটেও পছন্দ করেননা। তাছাড়া তিনি চাওয়ার অধিক মায়া করেন, স্নেহ করেন, একটিমাত্র ছবি তোলার কারণে যদি সবকিছু হারিয়ে ফেলি! তাই ছবি তোলা থেকে বিরত থাকলাম এবং মনেমনে ভাবলাম যে, হৃদয়ের ক্যামেরায় তো ছবি এমনিতেই উঠছে, বাহ্যিক দৃষ্টিতে ছবি তোলা না হয় বাদই দিলাম।

আমি যা ভেবেছিলাম, বইটি পাঠ করে তারচেয়ে বেশী কিছু জানতে পেরেছি। বই পাঠ করার পর যখন পাঠপ্রক্রিয়া হিসেবে ২/১ লাইন লিখবো বলে বসেছি, ঠিক তখনই হৃদয়ের কন্দরে বারবার ভেসে উঠছে মুরশিদে বরহক হযরত আল্লামা ইমাদ উদ্দিন চৌধুরী (বড় ছাহেব কিবলাহ ফুলতলী’র) মুখচ্ছবি। কারণ তিনি এই বইটি পাঠ করে দোয়া করেছেন আর বলেছেন যে, এই বইটি পাঠ করে জনসাধারণ উপকৃত হবে। লেখক নিজেও যেখানে অভিভূত হয়ে বলেছেন, তার প্রিয় মুরশিদের “দোয়া-ই” তার চলার পথের পাথেয়। সেখানে আমি জানি কি, আর পাঠপ্রক্রিয়াই ব্যক্ত করবো কি? তা অবশ্য ভাবার বিষয়! কোনো একটি বই সম্পর্কে আলোচনা-সমালোচনার কাজটি একটি উপভোগ্য বিষয়। শরীর, মন ও মগজ তিনটিরই কাজ একসাথে করা যায়।

মার্কিন বিজ্ঞানী রোলাঁ বার্ত বলেছেন-“পড়া আসলে এক ধরনের বিশিষ্ট কাজ”। ফলে বই যদি পড়ার মতো করে পড়া যায়, তাহলে ভাবতে হয় খুব। বিশ্ববিখ্যাত পণ্ডিতদের কেউকেউ আবার বলেছেন- “পড়া একটি আনন্দদায়ক উপলব্ধি। একটি বই সম্পূর্ণ পাঠ করার পর মননজগতে একটি নতুন অনুভূতির উদ্ভব হয়। মনটা এক নতুন রঙে রঙিন হয়ে ওঠে। এক অপার্থিব অভিজ্ঞতার আবেশ কালব্যাপী ঘিরে থাকে। বই পড়ার কাজটা আরো আনন্দদায়ক হয়ে ওঠে, যদি সেই বইটি অন্য কাউকে পড়ানো যায়। একটি পছন্দের বই পড়া ও পড়ানো দুটো একসাথে মিলে গেলে আনন্দটা অবর্ণনীয় অনুভূতিতে রূপ নেয়। এটা কমবেশ আমরা সবাই বুঝি। মানুষ হিসেবে আমরা আনন্দিত হতে পছন্দ করি, আর সেই আনন্দকে ছড়িয়ে দিয়ে অন্যকে আনন্দিত করে তুলতে আরো বেশি পছন্দ করি। আনন্দকে ভাগ করে নিতে ও দিতে মানুষ মানুষের আরো কাছাকাছি আসে এবং থাকে। এই সরল কার্যক্রমের মাধ্যমে আমরা আরো মানবিক হয়ে উঠি। গড়ে তুলি সুখপ্রদ, আনন্দময় জীবন, জনপদ, সমাজ। যে বই পাঠের তৃপ্তি এবং আনন্দ অন্যকে জানাতে ইচ্ছা করে, সে বই আমরা অন্যকে পড়তে দেই, পড়তে বলি। নিজের ভালো লাগা এমনকি মন্দলাগা কোন বইয়ের বিবরণ আমরা উৎসাহের সাথে অন্যকে জানাই। নিজের অনুভূতির যথার্থতা যাচাই করতে অন্যকে আহবান জানাই। এইযে নিজের অনুভূতি অন্যকে জানানোর প্রক্রিয়া, তার কোন বিধিবদ্ধ বিধান নেই। তবুও একটি গ্রন্থপাঠের অভিজ্ঞতা সামাজিক বা পারিবারিকভাবে আমরা একে অন্যদের কাছে প্রকাশ করি। তেমনি একটি বই হচ্ছে- “ইসলামের ঐতিহাসিক যুদ্ধ রাসুল (সা.)-এর মু’জিযা”।

বইটিতে স্থান পেয়েছে, ইসলামের ইতিহাসে প্রথম সশস্ত্র যুদ্ধ- বদর যুদ্ধ, উহুদ যুদ্ধ, খন্দকের যুদ্ধ, খায়বার যুদ্ধ, মুতার যুদ্ধ এবং তাবুক যুদ্ধের সংক্ষিপ্ত বিবরণ। বইটি আকৃতিতে ছোট হলেও অনেক গুরুত্বসহকারে সুন্দর এবং সাবলীল ভাষায় আলাদাভাবে যুদ্ধের বিবরণগুলো তুলে ধরা হয়েছে। আমার কাছে এই বইটির আকস্মিক বিষয় হচ্ছে বইয়ের মূল্য! মলাট এবং কাভার পেইজ ছাড়াও ৪৭ পৃষ্ঠার একটি বইয়ের বাজার মূল্য মাত্র ২৫ টাকা! যা হাল আমলে বইয়ের বাজারে এক আকস্মিক বিষয়ই বটে! বিশেষ করে গত একুশে বইমেলায় প্রকাশিত কিছু বই দেখেছি, যেগুলোকে আসলে কোন বই-ই বলা যাবেনা। অথচ মূল্য আকাশচুম্বী! এক্ষেত্রে আমার মনে হচ্ছে যে, উক্ত বইয়ের লেখক (অধ্যক্ষ মাওলানা মঈনুল ইসলাম পারভেজ) যেভাবে সর্বমহলে পরিচিত, তার এতো কষ্টের ফসল একটি বইয়ের দাম বর্তমান সময়ে “পঁচিশ টাকা” নির্ধারণ না করে, তার পরিচিত মহলে শুধুমাত্র সৌজন্যে কপি দিয়ে “বিনামূল্যে বিতরণের জন্য” টাইপের কিছু একটা রেখে দিতে পারতেন! ইতিপূর্বে বেশকিছু বই দেখেছি যে, চকচকে প্রচ্ছদ, মলাট এবং কাভার পেইজ আর ভেতরকার অবস্থা আগডুম-বাগডুম মার্কা! বই সম্পর্কে আলোচনা-সমালোচনায় দেখেছি বইয়ের চেয়ে লেখকের গুণ-গরিমা একটু বেশী গাওয়া হয়ে থাকে এবং এটা খুবই স্বাভাবিক। অথচ এখানে লেখক সম্পর্কে কিছুই বলা হলোনা, আশ্চর্যজনক বিষয়! হ্যা, এখানে লেখক সম্পর্কে বেশকিছু বলার প্রয়োজনবোধ করছিনা এই কারণে যে, তিনি নিজগুণে স্ব-মহিমায় সর্বমহলে পরিচিত। তিনি একজন সর্বগুণে গুণান্বিতা ব্যক্তি, (তবে তিনি মানুষও বটে, যেহেতু মানুষ ভুলের উর্ধ্বে নয়, তাই সাময়িক দোষত্রুটি থাকাটা স্বাভাবিক) তিনি জাতীয় পর্যায়ে নেতৃত্বদানকারী একজন জননেতা, তিনি পল্লী গায়ে গড়ে ওঠা একটি বিশ্ববিদ্যালয় সমতুল্য ফাযিল মাদ্রাসার সফল অধ্যক্ষ, তিনি একজন দক্ষ সংগঠক, তিনি একজন বিচক্ষণ বুদ্ধিদীপ্ত মেধাবী ব্যক্তি, তিনি একজন সুবক্তা, তিনি একজন বিদগ্ধ লেখক ও গবেষক, তিনি অনেকের মাথার ছায়া স্বরূপ একজন অভিভাবক। বিশেষ করে চলতি বছরের শেষের দিকে অথবা ২০১৯ সালের শুরুর দিকে শেষ হতে যাচ্ছে তার দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের ফসল, তারই স্বীয় পীর ও মুরশিদ উপমহাদেশের প্রখ্যাত মুজাদ্দিদে যামান, শামসুল উলামা হযরত আল্লামা আব্দুল লতিফ চৌধুরী ছাহেব কিবলাহ ফুলতলী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর জীবন ও কর্ম নিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়া থেকে পিএইছডি থিসিস। এর বাইরেও তার আরো অনেক সামাজিক পরিচয় আছে, যেগুলো বিস্তারিত লিখতে গেলে একটি বই অনায়াসে লিখা সম্ভব। আল্লাহ চাহেন তো এব্যাপারে পরবর্তীতে দেখা যাবে কিছু করা যায় কি না ।  (বইটিতে মুদ্রণজনিত কিছু ত্রুটি পরিলক্ষিত হয়েছে, আশা করছি পরবর্তী সংস্করণে সংশোধন হয়ে যাবে)।

লেখক :
আলী মোহাম্মাদ ইউসুফ
কবি ও সংগঠক