• অক্টোবর ২৫, ২০১৮
  • লিড নিউস
  • 65
ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশের পর চাপে সিলেটের নেতারা

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রথম সাংগঠনিক সমাবেশ আয়োজন করে অনেকটাই চাপে পড়েছেন গেছেন সিলেটের নেতারা। গতকাল বুধবার (২৬ অক্টোবর) নগরীর রেজিস্ট্রারী মাঠে ফ্রন্টের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশের পর থেকে নগরীর নেতারা কেউ-ই আর নিজেদের বাসায় থাকতে পারছেন না। চলছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর তল্লাশিও।

এদিকে, প্রথম সাংগঠনিক সমাবেশ সফলভাবে আয়োজন করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নজর এখন আন্দোলনে। ফ্রন্টের দেওয়া সাত দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আগামী কয়েকটি সমাবেশ থেকে আলোচনার আহ্বান জানাবে তারা। এরপরই ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি দেওয়ার চিন্তা-ভাবনা আছে বিএনপি-জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়া-জেএসডি ও নাগরিক ঐক্যের সমন্বয়ে গঠিত ঐক্যফ্রন্টের।

ফ্রন্টের দায়িত্বশীলরা বলছেন, আগামীকাল শুক্রবার (২৬ অক্টোবর) ফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটি বৈঠক করবে। এই বৈঠকে সিলেটের সমাবেশের সাফল্য-ব্যর্থতা ও আগামী দিনের কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হবে।

ঐক্যফ্রন্টের একাধিক নেতা মনে করেন, প্রত্যাশা অনুযায়ী মানুষের সমাগম হয়নি ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশে। যদিও সমাবেশের দিন বক্তারা অভিযোগ করেছেন, সমাবেশে আসতে নানা ধরনের নাটক ও বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে।

বুধবার (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সমাবেশ শেষ হওয়ার পর কেন্দ্রীয় নেতাদের বিদায় দিয়ে সিলেটের স্থানীয় নেতারা কেউ-ই নিজেদের বাসায় যেতে পারেননি। ইতোমধ্যে জেলা সভাপতি আবদুল কাহের শামীমের বাসায় দফায়-দফায় পুলিশ তল্লাশি চালিয়েছে। বুধবার সমাবেশ শেষ হওয়ার পর একটি হোটেলের সামনে থেকে আটক হন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। বৃহস্পতিবার সকালে তাকে একটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। একই অবস্থা সুনামগঞ্জ বিএনপিসহ ফ্রন্টের কয়েকটি নেতাদের।

আটক বা গ্রেফতার, পুলিশের তল্লাশি সত্ত্বেও সিলেটের নেতারা বলছেন, ফ্রন্টের সমাবেশের পর সিলেট বিভাগে ঐক্যফ্রন্টের বিষয়টি জোরালোভাবে সামনে এসেছে। নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হয়েছেন। আগামী দিনে দাবি আদায়ের যেকোনও কর্মসূচি তারা পালন করবেন। তবে খুব দ্রুত তারা ফ্রন্টের একটি সাংগঠনিক কাঠামো তৈরি করতে চান সিলেটে।

সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাহের শামীম বলেন, ‘ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশের পর সিলেটের নেতাকর্মীরা উৎসাহিত হয়েছে। তারা সরাসরি কেন্দ্র থেকে মেসেজ পেয়ে গেছে, কী করতে হবে। যদিও সরকারের নির্যাতন অব্যাহত আছে। সমাবেশের পর থেকে আমরা কেউ বাড়িতে থাকতে পারছি না।’

সিলেটের স্থানীয় নেতারাও আগামী কয়েকদিনের মধ্যে চারটি দলের নেতারা বসে আগামী দিনের কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। এছাড়া ইতোমধ্যে গ্রেফতার হওয়া খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ, স্মারকলিপি প্রদানের চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে।

তবে বিএনপির জেলা সভাপতি আবদুল কাহের বলছেন, ‘কেন্দ্র ঠিক করবে কী কর্মসূচি দেওয়া হবে। আমরা তা বাস্তবায়ন করবো। আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ করতে ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচির কোনও বিকল্প নেই।’