• নভেম্বর ১, ২০১৮
  • জাতীয়
  • 33
আওয়ামী লীগ-ঐক্যফ্রন্ট সংলাপ শুরু

নিউজ ডেস্ক: আওয়ামী লীগ ও যুক্তফ্রন্টের নেতাদের মধ্যে সংলাপ শুরু হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় সাতটার দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে এই সংলাপ শুরু হয়। সংলাপে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলে নেতৃত্বে রয়েছেন দলটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, যুক্তফ্রন্টের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবাইকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ দশ বছর ক্ষমতায় থেকে দেশের যা উন্নয়ন করেছে, তা সবাই দেখতে পেয়েছেন।

এখন দেশটা সবাই মিলে ঘুরতে হবে। কারণ দেশটা আমাদের সবার।’ গণভবনের একটি সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটের সময় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম প্রধান নেতা ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ২১ সদস্যের প্রতিনিধি দল গণভবনে প্রবেশ করে।

গণভবনের প্রবেশ পথে নিয়মিত নিরাপত্তাতল্লাশি শেষে ঐক্যফ্রন্টের গাড়িবহর গণভবনে ঢোকে। এ সময় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের স্বাগত জানান আওয়ামী লীগের জানান আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকন ও এপিএস-২ সাইফুজ্জামান শেখর।

সাত দফা দাবি ও ১১ দফা লক্ষ্যের ভিত্তিতে সংলাপের দাবিতে গত ২৮ অক্টোবর আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ড. কামাল হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠি দেয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। পরদিন আওয়ামী লীগ সংলাপে সম্মতির কথা জানায়। একইসঙ্গে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সময় নির্ধারণ করে ২৯ অক্টোবর সকালে ঐক্যফ্রন্ট প্রধান ড. কামাল হোসেনের বাসায় চিঠি পৌঁছে দেয় আওয়ামী লীগ। আগামীকাল শুক্রবার বিকল্প ধারার সভাপতি বি চৌধুরীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে শাসক দলের সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে।

ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ফ্রন্টের প্রতিনিধি দলে আছেন, হচ্ছেন—বিএনপির মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার ও মির্জা আব্বাস; নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না ও এসএম আকরাম; গণফোরামের মোস্তফা মোহসীন মন্টু ও সুব্রত চৌধুরী; জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) আ স ম আব্দুর রব, আব্দুল মালেক রতন ও তানিয়া রব; ঐক্যপ্রক্রিয়া থেকে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর, আ ব ম মোস্তফা আমিন। আরও থাকছেন গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। এছাড়া বৃহস্পতিবার বিকালে আরও ৫ সদস্য বৃদ্ধি করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। এই পাঁচজন হচ্ছেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, গণফোরামের জগলুল হায়দার আফ্রিক, আওম সফিক উল্লাহ, মোতাব্বের খান।’

আওয়ামী লীগের পক্ষে সংলাপে নেতৃত্ব দেবেন দলটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের ২১ সদস্যের প্রতিনিধিদের মধ্যে দলের বাইরে দলটির শরিক ১৪ দলীয় জোটের তিন নেতাও রয়েছেন। আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা হচ্ছেন—আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মোহাম্মদ নাসিম, কাজী জাফরউল্লাহ, ওবায়দুল কাদের, আবদুল মতিন খসরু, ড. আব্দুর রাজ্জাক, রমেশ চন্দ্র সেন, আনিসুল হক, মাহবুবউল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, ড. হাছান মাহমুদ, ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ ও শ. ম. রেজাউল করিম এবং শরিকদের মধ্যে রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, মইন উদ্দীন খান বাদল ও দিলীপ বড়ুয়া।

প্রসঙ্গত, উল্লেখ্য, বাংলাদেশের রাজনীতিতে সংলাপের ইতিহাস পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এর সফলতা নেই বললেই চলে। জিয়াউর রহমানের শাসনামলে ১৯৭৬ সালের ২২ জানুয়ারি, এরশাদের শাসনামলে ১৯৮৪ সালের এপ্রিল ও ১৯৮৭ সালের সেপ্টেম্বর সংলাপের উদ্যোগ হলেও এর প্রত্যেক ক্ষেত্রেই ব্যর্থ হয়েছে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে ১৯৯৪ সালে কমনওয়েলথের তৎকালীন মহাসচিব এনিয়াওকুর এমেকা ও তার বিশেষ দূত স্যার নিনিয়ানের মধ্যস্থতায় সংলাপ হলেও ওই সময়ের প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছিল। এছাড়া ২০০৬ সালের অক্টোবরে বিএনপির মহাসচিব আবদুল মান্নান ভূঁইয়া ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিল তিন সপ্তাহব্যাপী ছয় দফা বৈঠক করলেও সমঝোতা হয়নি। দশম সংসদ নির্বাচনের আগে ২০১৩ সালের শেষ দিকে নির্বাচন নিয়ে সংকট নিরসনে জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকো আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে সমঝোতা করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়াকে সরাসরি ফোন দিয়ে সংলাপের আমন্ত্রণ জানালে তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। পরে বিএনপির বর্জনের মধ্য দিয়ে দেশে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।