• ডিসেম্বর ৮, ২০১৮
  • রাজনীতি
  • 49
সিলেটের ছয়টি আসনে অধিকাংশ ব্যবসায়ী, সঙ্গে ‘জমিদারি’ ও ‘ডিপেনডেন্ট’

বিশেষ প্রতিবেদন: সিলেটের ছয়টি সংসদীয় আসনে ৬৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে ৩৩ জনই ব্যবসায়ী। বাকি প্রার্থীদের মধ্যে ‘জমিদার’ থেকে অন্যের আয়ের ওপর ‘ডিপেনডেন্ট’ পেশার প্রার্থীও আছেন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের জমা দেওয়া হলফনামা ঘেঁটে পেশার এসব তথ্য পাওয়া গেছে। এতে দেখা যায়, ব্যবসায়ী ছাড়াও শিক্ষক, আইনজীবী, কৃষিজীবী, চাকরিজীবী ও রাজনৈতিক কর্মীরা প্রার্থী হয়েছেন।

সিলেট-১ (মহানগর ও সদর) আসনে প্রার্থী ১১ জন। এর মধ্যে পেশায় পাঁচজন শিক্ষক, তিনজন ব্যবসায়ী, একজন জমিদার ও দুজন রাজনৈতিক কর্মী। পাঁচজন শিক্ষকের মধ্যে তিনজন মাদ্রাসার শিক্ষক। তাঁরা হচ্ছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. রেদওয়ানুল হক চৌধুরী, ইসলামী ঐক্যজোটের মুহাম্মদ ফয়জুল হক ও স্বতন্ত্র মাওলানা নাসির উদ্দিন।  এছাড়া আওয়ামী লীগের এ কে আবদুল মোমেন ও বাসদের প্রণব জ্যোতি পালও পেশায় শিক্ষক। ব্যবসায়ী তিনজন হচ্ছেন বিএনপির খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির ইউসুফ আহমদ ও স্বতন্ত্র মো. আনোয়ার উদ্দিন বোরহানাবাদী। জাতীয় পার্টির মাহবুবুর রহমান চৌধুরী পেশার স্থলে উল্লেখ করেছেন ‘জমিদারি’। এর বাইরে বিএনপির ইনাম আহমদ চৌধুরী অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা ও বাসদের (মার্ক্সবাদী) উজ্জল রায় নিজের পেশা হিসেবে ‘সার্বক্ষণিক রাজনৈতিক কর্মী’ উল্লেখ করেছেন।

সিলেট-২ (বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর) আসনের ১২ জন প্রার্থীর মধ্যে ৮ জনই ব্যবসায়ী। বাকিদের মধ্যে একজন করে গৃহিণী, কাজী, শিক্ষক ও আইনজীবী আছেন। অপর একজন নিজেকে ‘ডিপেনডেন্ট’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ব্যবসায়ীরা হচ্ছেন বর্তমান সাংসদ ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. ইয়াহ্ইয়া চৌধুরী, খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদ মুনতাছির আলী, স্বতন্ত্র মো. আমির উদ্দিন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. মনোয়ার হোসাইন, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের মো. মোশাহিদ খান, গণফোরামের মোকাব্বির খান এবং স্বতন্ত্র মুহিবুর রহমান। স্বতন্ত্র এনামুল হক সরদার পেশায় শিক্ষক। বিএনপির মোছা. তাহসিনা রুশদীর লুনা গৃহিণী। জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের আমিন উদ্দীন পেশায় কাজী। স্বতন্ত্র মোহাম্মদ আবদুর রব আইনজীবী। বিএনপির মো. আবরার ইলিয়াস নিজেকে ‘ডিপেনডেন্ট’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ) আসনের ১৩ জন প্রার্থীর মধ্যে ৭ জন ব্যবসায়ী, ২ জন করে কৃষিজীবী, আইনজীবী ও মাদ্রাসাশিক্ষক। ব্যবসায়ী প্রার্থীরা হচ্ছেন বর্তমান সাংসদ আওয়ামী লীগের মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস, খেলাফত মজলিসের মো. দিলওয়ার হোসাইন, জাতীয় পার্টির মো. উছমান আলী ও মো. তোফায়েল আহমদ, বিএনপির মো. শফি আহমদ, এম এ হক ও আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী। কৃষিজীবী প্রার্থীরা হচ্ছেন স্বতন্ত্র জুনায়েদ মোহাম্মদ মিয়া ও ইসলামী আন্দোলনের এম এ মতিন বাদশা। মাদ্রাসাশিক্ষক প্রার্থী হচ্ছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মো. নজরুল ইসলাম ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের হাফিজ মাওলানা আতিকুর রহমান। আইনজীবী প্রার্থীরা হচ্ছেন বিএনপির মো. আবদুস সালাম ও স্বতন্ত্র মো. আবদুল ওদুদ।

সিলেট-৪ (গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও কোম্পানীগঞ্জ) আসনের আটজনের চারজন ব্যবসায়ী, দুজন শিক্ষক, একজন আইনজীবী ও একজন মাদ্রাসার পরিচালক। ব্যবসায়ী প্রার্থীরা হচ্ছেন বর্তমান সাংসদ আওয়ামী লীগের ইমরান আহমদ, বিএনপির দিলদার হোসেন সেলিম, জাতীয় পার্টির এম ইসমাইল আলী আশিক ও আহমেদ তাজ উদ্দিন তাজ রহমান। বাংলাদেশ ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের মো. জিল্লুর রহমান মাদ্রাসার পরিচালক। বিএনপির মো. সামসুজ্জামান জামান আইনজীবী। বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়াকার্স পার্টির মনোজ কুমার সেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মাওলানা আতাউর রহমান মাদ্রাসাশিক্ষক।

সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট) আসনের ১২ জন প্রার্থীর মধ্যে ৭ জন ব্যবসায়ী, ১ জন করে শায়খুল হাদিস, কনসালট্যান্ট, প্রবাসী, আইনজীবী ও কৃষিজীবী। ব্যবসায়ী প্রার্থীরা হচ্ছেন বর্তমান সাংসদ ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী সেলিম উদ্দিন, আওয়ামী লীগের হাফিজ আহমদ মজুমদার, ইসলামী ঐক্যজোটের এম এ মতিন চৌধুরী, স্বতন্ত্র ফয়জুল মুনির চৌধুরী, জামায়াতের ফরীদ উদ্দিন চৌধুরী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. নুরুল আমিন এবং বিএনপির মামুনুর রশীদ। জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের উবায়দুল্লাহ ফারুক পেশায় শায়খুল হাদিস, স্বতন্ত্র আহমদ আল ওয়ালী কনসালট্যান্ট, বিএনপির শরীফ আহমদ লস্কর প্রবাসী, স্বতন্ত্র মো. বাহার উদ্দিন আল রাজী আইনজীবী এবং স্বতন্ত্র মো. শহিদ আহমদ চৌধুরী কৃষিজীবী।

সিলেট-৬ (বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ) আসনের ১০ জন প্রার্থীর মধ্যে সিলেট-৫ আসনের সাংসদ সেলিম উদ্দিন স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। বাকি ৯ জনের মধ্যে ৪ জন ব্যবসায়ী এবং ১ জন করে রাজনৈতিক কর্মী, মাদ্রাসাশিক্ষক, আইনজীবী ও বেসরকারি চাকরিজীবী। ব্যবসায়ী প্রার্থীরা হচ্ছেন বিএনপির ফয়সল আহমদ চৌধুরী ও হেলাল খান, জামায়াতের হাবিবুর রহমান, স্বতন্ত্র মো. জাহাঙ্গীর হোসেন মিয়া ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আজমল হোসেন। শিক্ষামন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রার্থী নুরুল ইসলাম নাহিদ পেশায় রাজনৈতিক কর্মী। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের আসআদ উদ্দিন আল মাহমুদ মাদ্রাসাশিক্ষক। ইসলামী ঐক্যজোটের মোহাম্মদ আবদুর রকিব আইনজীবী এবং বিকল্পধারার শমসের মবিন চৌধুরী বেসরকারি চাকরিজীবী।