• ফেব্রুয়ারি ৭, ২০১৯
  • জাতীয়
  • 20
আওয়ামী লীগে থেকে কী লাভ, বিএনপির উপদেষ্টা হোন

নিউজ ডেস্ক: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে কটাক্ষ করে বিএনপিতে যোগ দিয়ে উপদেষ্টা পদ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রুহুল কবির রিজভী।

নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, “আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রতিনিয়ত বিএনপিকে উপদেশ দিচ্ছেন। সভা-সমিতি-মঞ্চ, গণমাধ্যমের ব্রিফিঙে বিএনপির কি করা উচিত, বিএনপির পরিণতি কী হবে, বিএনপি নির্বাচন ভীতিতে ভুগছে, বিএনপি সংসদে যোগ দেবে-ইত্যাদি নানা কথার খই ফুটাচ্ছেন প্রতিদিন।

“আমরা জানি না সিদ্ধান্ত কখন হবে বা এখনো যে সিদ্ধান্ত হয়নি- উনি আগাম বলে দিচ্ছেন। আবার নানা ধরনের পরামর্শ দিচ্ছেন-বিএনপির নির্বাচনে কেনো বিপর্য্য় হল ইত্যাদি, ইত্যাদি …..।”

রিজভী বলেন, “সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী হিসেবে ওবায়দুল কাদের সাহেব শালীনতা, ভদ্রতার গুণমান বিবেচনা না করে বিএনপির বিরুদ্ধে স্বেচ্ছায় ক্রমাগত উপদেশের ভাঙ্গা টেপ রেকর্ড বাজিয়েই চলেছেন। যেভাবে তিনি কথা-বার্তা বলছেন তার ইচ্ছাই হচ্ছে বিএনপির উপদেষ্টা হবেন। সুতরাং খামোখা উনার এখন আওয়ামী লীগে থেকে কি লাভ? বরং ওবায়দুল কাদের সাহেবকে বিএনপিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। বিএনপির দরজা খোলা আছে।”

বিএনপিকে নিয়ে সংসদে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনায় তিনি বলেন, “বিএনপি সংসদে না গেলেও বিএনপি ও জিয়া পরিবারকে নিয়ে সংসদে বিষোদগার করছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন- আওয়ামী লীগের বিজয় ছিল প্রত্যাশিত, ৩০ ডিসেম্বর সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ হয়েছে এবং জনগণ বিপুল ভোটে আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করেছে।

“এদেশে বাক স্বাধীনতা শুধু একজনেরই আছে, তিনি হলেন মিডনাইট ভোটের প্রধানমন্ত্রী। তিনি সবার বাক স্বাধীনতা কেড়ে নিয়ে একাই লাগামহীন কথাবার্তা বলেন। বিরোধী দলকে কারাগারে ঢুকিয়ে নির্বাচনী ময়দান শুন্য করার পর বিজয় তো প্রত্যাশিত হবেই। শেখ হাসিনা ও তার দলের নেতাকর্মী ছাড়া কেউ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু বলেনি। এমনকি মহাজোটের শরিকরাও এখন বলছে যে, ভোট হয়েছে আগের রাতেই। প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল ক্ষমতাক্ষুধা গ্রাস করেছে গণতন্ত্রকে।”

রিজভী বলেন, “দলের চেয়ারপারসন, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, গণমানুষের নেত্রী, গণতন্ত্রের প্রতীক, গণতন্ত্রের মাতা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে প্রতিহিংসা পূরণের সাজা দেওয়ার এক বছর পূর্ণ হল আজ। চরম অবিচার আর অন্যায়ের আঘাতে দেশনেত্রীকে কারাবন্দি করে রাখা হয়েছে, এক ব্যক্তির অত্যুগ্র ক্ষমতার ক্ষুধা চরিতার্থ করতেই গণতন্ত্রকে চূড়ান্তভাবে কবরস্থ করার জন্য তাকে বন্দি করে রাখা হয়েছে। এটি অপরিসীম জাতীয়তাবাদী নেত্রীর বিরুদ্ধে দেশ-বিদেশি শক্তির নিষ্ঠুর প্রতিশোধের খেলা, এটি প্রতিহিংসার সাজা।”

খালেদা জিয়াসহ নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে দুইদিনের কর্মসূচি তুলে ধরে তিনি বলেন, শুক্রবার দুপুর আড়াইটায় রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে প্রতিবাদ সভা এবং ৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মহানগর ছাড়া সারাদেশের জেলা ইউনিট প্রতিবাদ কর্মসূচি করবে।

সংবাদ সম্মেলনে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য নাজমুল হক নান্নু, সাহিদা রফিক, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম আজাদ, মুনির হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।