• এপ্রিল ১১, ২০১৯
  • মৌলভীবাজার
  • 85
মৌলভীবাজারে এক শিক্ষক দিয়ে ছয় শ্রেণির পাঠদান!

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: হাওর বাওর অধ্যুষিত মৌলভীবাজার জেলা। এ জেলায় প্রায় সব গুলো হাওর অঞ্চলের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা চলছে জোড়া তালি দিয়ে। মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কাউয়াদীঘির হাওরের পূর্বাঞ্চলে আবস্থিত শাহবাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৮ বছর যাবৎ একজন শিক্ষক দ্বারা চলছে ছয় শ্রেণির পাঠদান। ফলে প্রকৃত শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন হাওর পাড়ের বিদ্যালয়ে পড়ুয়া কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। নেই উপযুক্ত পরিবেশও। দূর্গম হাওর এলাকায় যেতে চাননা শিক্ষকরা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাওর অধুষ্যিত রাজনগর উপজেলার কাউয়াদীঘির পূর্বাঞ্চলে আবস্থিত শাহাবাজপুর গ্রামে পরির্দশন করে দেখে যায়, অন্যান্য এলাকার তুলনায় শিক্ষাক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে ওই এলাকার শিশুরা। শাহবাজপুর গ্রামের শিক্ষার্থীদের জন্য একমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শাহবাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। কিন্তু বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে একজন মাত্র শিক্ষক দ্বারা পাঠদান পরিচালিত হচ্ছে।

এদিকে বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে প্রাক-প্রাথমিক থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত ১১৮ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত থাকলেও বিদ্যালয়ে একজন শিক্ষক দিয়ে পাঠদান করা হচ্ছে। প্রায় একই চিত্র পাশের গ্রামের ফতেপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। সেখানেও একজন প্রধান শিক্ষক ও একজন সহকারী শিক্ষক দিয়ে পাঠদান করা হচ্ছে। এছাড়াও হাওরপাড়ের অন্যান্য গ্রামগুলোর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সময়মত বিদ্যালয়ে আসেন না। আবার অনেকেই ছুটি না নিয়ে একের পর এক বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকছেন।

শাহবাজপুর ও ফতেপুর এলাকার বিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা অভিযুগ করে বলেন, অনেক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী আমাদের এলাকার বিদ্যালয় থেকে কম কিন্তু শিক্ষক পর্যাপ্ত রয়েছেন। আমাদের হাওর অধুষ্যিত গ্রামগুলো উপজেলার অন্যান্য এলাকার তুলনায় শিক্ষা ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে কিন্তু আমাদের বিদ্যালয়গুলোতে পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই। পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকার কারণে আমাদের ছেলে-মেয়েরা প্রকৃত শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন; পাচ্ছেন না পাঠদানের উপযুক্ত পরিবেশ। সময়মতো ক্লাস না হওয়াতে অনেক সময় ছেলে-মেয়েরা বিদ্যালয়ে আসতে চান না।

শাহবাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক যোগময় চক্রবর্তী বলেন, আমি ২০০৬ সালে এপ্রিল মাস থেকে এই বিদ্যালয়ে কর্মরত আছি। ২০১১ পূর্বে তিন জন শিক্ষক ছিলেন এর পর থেকে আমি একাই স্থানীয়দের সহযোগিতায় বিদ্যালয় পরিচালনা করে আসছি, ৮ বছর যাবৎ একাই বিদ্যালয়ের পাঠদান করছি। তিনি আরও বলেন, ৬টি ক্লাস চালাতে অনেক হিমশিম খাচ্ছি। বিদ্যালয়টিতে শিক্ষক দেয়ার জন্য একাধিকবার লিখিত ও মৌখিক আবেদন করলেও এর সুরাহ হচ্ছে না। ফতেপুর সরকারি

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. সাইদুর রহমান বলেন, আমরা দু’জন শিক্ষক অনেক কষ্ট করে পাঠদান করাচ্ছি।

রাজনগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাফর আল সাদেক দুই স্কুলে শিক্ষক সংকটে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দুর্গম এলাকায় শিক্ষক যেতে চান না, আরমা প্রতি মাসে শিক্ষক সংকটের কাথা উদ্ধর্তন অফিসে জানাচ্ছি। নতুন শিক্ষক নিয়োগ দিলে আশা করছি সেখানে শিক্ষক দেওয়া হবে।

মৌলভীবাজার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মালেকা পারভীন জানান, বিষয়টি আমার জানা ছিলোনা খুব শিগ্রহী আমরা সেখানের দুটি স্কুলেই শিক্ষক প্রদানের চেষ্টা করবো।