• এপ্রিল ১৪, ২০১৯
  • জাতীয়
  • 6
আপনারা পান্তাভাত খেয়েছেন? নববর্ষের অনুষ্ঠানে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক: ‘আপনাদের সবাইকে আমার মন থেকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানাই। আপনারা পান্তাভাত খেয়েছেন? আমি আজকে খুবই খুশি। আমি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করার পর ঢাকায় এফসিপিএস করেছি। তাই এখানে আসাটা আমার দ্বিতীয় বাসায় আসার মতো হয়েছে। আমার মন উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্ত অনুভব করছে, কখন ময়মনসিংহ যাব।’

বাংলাদেশে চার দিনের সফরে এসে বৈশাখের আমেজে সিক্ত হয়ে এভাবেই বাংলায় কথা বলে বৈশাখকে বরণ করে নেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং। বাংলায় তাঁর মুগ্ধকর কথা শুনে উপস্থিত সবাই আনন্দে উচ্ছ্বসিত হয়ে একযোগে করতালি দিয়ে বাংলাদেশের বন্ধু লোটে শেরিংকেও শুভেচ্ছা জানান।

আজ রোববার সকাল সোয়া ৬টার দিকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে চ্যানেল আই সুরের ধারা আয়োজিত বাংলা নববর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে অংশ নেন লোটে শেরিং।

পয়লা বৈশাখের সকালটা যেমন বাংলাদেশ তথা বাংলাভাষীদের জন্য ভিন্নরকম একটি দিন, তেমনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ছাত্র ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিংয়ের জন্যও ছিল অন্যরকম।

লোটে শেরিং তাঁর স্ত্রীসহ ঘণ্টাব্যাপী বর্ষবরণের এই উৎসব উপভোগ করেন। তাঁর সম্মানে সংগীত পরিবেশন করেন রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা এবং সারা দেশ থেকে আগত হাজারও শিল্পী। বাংলা ও ভুটানের ভাষায় ‘রাঙামাটির রঙে চোখ জুড়ালো’ গানটি পরিবেশন করেন সংগীতশিল্পী কোনাল।

এরপর লোটে শেরিংকে মঞ্চে নিয়ে আসেন চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, শাইখ সিরাজ ও সুরের ধারার চেয়ারম্যান রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা।

এ সময় উৎসব ও সুরের ধারার পক্ষ থেকে লোটে শেরিংকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা। ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিংয়ের হাতে শ্রুতি গীতবিতানও তুলে দেন তিনি। তাঁর হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন ফরিদুর রেজা সাগর। এ ছাড়া উৎসবস্থলে আসার সময় লোটে শেরিংয়ের সঙ্গে তোলা ফ্রেমে বাঁধাই করা একটি ছবি তাঁর হাতে তুলে দেন শাইখ সিরাজ। ছবি দেখে লোটে শেরিং উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন।

নববর্ষ উদযাপনের এ অনুষ্ঠানে লোটে শেরিং ও তাঁর স্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন তাঁর সফরসঙ্গী ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তানভী দর্জি। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন, ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলী দাশ, বর্ষবরণ উৎসবের প্রধান পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান ইউনিলিভারের বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড লিভার আয়ুশের পক্ষে ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কেদার লেলে, ব্র্যান্ড অ্যান্ড মার্কেটিং ডিরেক্টর নাফিস আনোয়ার প্রমুখ।

প্রতিবছরই বর্ষবরণ উৎসবের একটা প্রতিপাদ্য থাকে। এবারের প্রতিপাদ্য ‘লোক সুরে বাংলা গান’। বর্ষবরণ উৎসবে গান করেছেন তপন চৌধুরী, দিনাত জাহান মুন্নী, মাকসুদসহ চ্যানেল আই সেরাকণ্ঠ, ক্ষুদে গানরাজ, গানের রাজা ও বাংলার গানের শিল্পীরা। ছিল নৃত্য পরিবেশনা ও আবৃত্তি পাঠ। উৎসবে একদল তরুণীর অংশগ্রহণে ফ্যাশন শো অনুষ্ঠিত হয়। মেলার স্টলগুলো শোভা পায় বাঙালির হাজার বছরের বিভিন্ন ঐতিহ্যের উপাদান, বৈশাখের হরেক রকম পণ্যসামগ্রী। আরো ছিল পিঠা-পুলি, মাটির তৈরি তৈজস, বেত, কাঁথা, পিতল, পাট-পাটজাত দ্রব্যের জিনিসপত্রসহ রকমারি ও ঐতিহ্যসমৃদ্ধ নানান পণ্যসামগ্রী।

বর্ষবরণ উৎসব উপস্থাপনা করেন অপু মাহফুজ, প্রিয়ান ও সাথী। পরিচালনায় ছিলেন আমীরুল ইসলাম ও শহিদুল আলম সাচ্চু। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের প্রাঙ্গণ থেকে বর্ষবরণ উৎসব দুপুর ২টা পর্যন্ত চ্যানেল আই সরাসরি সম্প্রচার করেছে।

এর আগে একই স্থানে ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয় চৈত্রসংক্রান্তি বা বর্ষবিদায় উৎসব ১৪২৫। চৈত্রসংক্রান্তির বিদায় সূর্য মেঘের আড়ালে লুকিয়ে থাকলেও যথাসময়েই উদ্বোধন করে চৈত্রসংক্রান্তি উৎসব করেন জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। সঙ্গে ছিলেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আখতারুজ্জামান, উপ-উপাচার্য কবি মুহাম্মদ সামাদ, সুরের ধারার চেয়ারম্যান রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা প্রমুখ। এরপর সুরের ধারার শিল্পীরা এবং রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা বাংলার খ্যাতনামা শিল্পীদের জনপ্রিয় বিভিন্ন গান মধ্যরাত পর্যন্ত পরিবেশন করেন।