• এপ্রিল ১৪, ২০১৯
  • রাজনীতি
  • 38
লন্ডনের কমিটি মানেন না আমানউল্লাহ আমান!

নিউজ ডেস্ক: বিএনপির কেন্দ্রীয় চার নেতার চাহিদা অনুযায়ী ঢাকা জেলা কমিটির অনুমোদন দেন লন্ডনে অববস্থানরত দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। কিন্তু এ কমিটিতে নিজের অনুসারীরা ‘পর্যাপ্ত পদ না পাওয়ায়’ ক্ষুদ্ধ হয়েছেন দলটির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমানউল্লাহ আমান। কেন্দ্রের অপর তিন নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র, দেওয়ান সালাউদ্দিন ও আবু আশফাকের অনুসারীদের কমিটিতে স্থান দিতে গিয়ে তার অনুসারী ‘ত্যাগী’ নেতাদের বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে। এ অবস্থায় গত ১১ এপ্রিল কমিটির পরিচিতি সভায় আমান গ্রুপের নেতাকর্মীরা অন্যদের সঙ্গে হাতাহাতি ও মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে। ‘অবৈধ কমিটি, মানি না, মানব না’ বলে স্লোগানও দেয় তারা।

এ বিষয়ে আমানউল্লাহ আমান বলেন, ‘আমার কোনও মন্তব্য নেই।’

হাতাহাতি ও মারামারি ঘটনার তদন্তে শনিবার (১৩ এপ্রিল) বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান ও ঢাকা বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদকে নিয়ে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন তারেক রহমান। এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে এই কমিটিকে। ২০১৬ সালে ৩০ আগস্ট দেওয়ান সালাউদ্দিনকে সভাপতি ও আবু আশফাককে সাধারণ সম্পাদক করে ঢাকা জেলা বিএনপির কমিটি করা হয়। এর আড়াই বছর পর গত ২৭ মার্চ ২৬৬ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, চার নেতার চাহিদা অনুযায়ী ঢাকা জেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি করে লন্ডনে তারেক রহমানের কাছে পাঠানো হয়। তিনি তা অনুমোদন করেন। ২৬৬ সদস্যের কমিটির মধ্যে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্রের ৬২ জন অনুসারী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমানউল্লাহ আমানের ২৯ জন, জেলা কমিটির সভাপতি দেওয়ান সালাউদ্দিনের ৮০ জন এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু আশফাকের ৭৭ জন অনুসারী পদ পেয়েছেন। এই চার নেতার অনুসারীদের বাইরে পদ পেয়েছেন মাত্র ১৮ জন।

তবে কমিটিতে আমানপন্থীরা সংখ্যায় কম হওয়ায় শুরু থেকে তারা বিদ্রোহ করে আসছেন। গত ১১ এপ্রিল রাজধানীর নয়াপল্টন ভাসানী ভবনে ঢাকা জেলা বিএনপির নবগঠিত কমিটির পরিচিতিসভার আয়োজন করা হয়। কিন্তু সভার কয়েক মিনিটের মধ্যে কমিটিতে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের অনুসারীদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন আমানউল্লাহর অনুসারীরা। একপর্যায়ে গয়েশ্বর ও আমানউল্লাহর অনুসারীদের নেতাকর্মীরা হাতাহাতি ও মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় আমানের অনুসারীরা ভাসানী ভবনের দরজা ভেঙে ফেলারও চেষ্টা করেন। পণ্ড হয়ে যায় সভা।

১১ এপ্রিলের এ ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন সেলিমা রহমান। তিনি বলেন, ‘কমিটি হওয়ার পর কিছু নেতাকর্মীর ক্ষোভ, অসন্তোষ থাকে। কারণ, চাইলেই তো সবাইকে কমিটিতে পদ দেওয়া যায় না। এ কারণে ওই দিন এ রকম ঘটনা ঘটেছে।’ তিনি বলেন, ‘তবে আমরা এখনও তদন্ত শুরু করিনি। তদন্ত করার পরে প্রকৃত ঘটনা জানতে পারবো আসলে কী কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে?’

বিএনপির সূত্রে জানা গেছে, কমিটিতে আমানউল্লাহ আমানের ২৯ জন অনুসারী পদ পেলেও তিনি বলছেন এ সংখ্যা ১৭। কমিটিতে আরও পদ চান তিনি। তখন তাকে (আমানউল্লাহ) বলা হয়েছিল, কমিটির পরিচিতসভার পর নাম দিতে। পরে সেগুলো লন্ডনে পাঠানো হবে। সেখানে থেকে অনুমোদন করে দেওয়া হবে। কিন্তু আমানউল্লাহ তা মানতে রাজি হয়নি। তার বক্তব্য ছিল, আগে কমিটিতে তার অনুসারীরা পদ পাবে, এরপর পরিচিতি সভা হবে। এ কারণে তার অনুসারীরা পরিচিতি সভায় হাতাহাতি ও মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে।

ঢাকা জেলা কমিটির সভাপতি দেওয়ান সালাউদ্দিন বলেন, ‘কমিটি নিয়ে আমানউল্লাহ আমান ভাইয়ের এলাকার কিছু লোকের অন্তোষ আছে। কমিটির আকার অনুযায়ী যে রকম পদ পাওয়ার কথা, সেই রকম পদ তারা পাননি। কম পেয়েছে। এই কারণে তার এলাকার কিছু লোক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে।’ দেওয়ান সালাউদ্দিন বলেন, ‘যদিও পরে আমরা ভালোভাবে অনুষ্ঠান শেষ করেছি। আমান ভাই কিছু লোকের তালিকাও দিয়েছে। যেহেতু কমিটি অনুমোদন হয়ে গেছে। সেগুলো নিয়ে আমরা মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বসবো।’ তিনি আরও বলেন, ‘পুরো ঢাকা জেলায় ১০টি ইউনিট। তার মধ্যে আমরা এলাকায় তিনটি ইউনিট। আমাদের ভোটার, নেতাকর্মী বেশি। এবং সাধারণ সম্পাদক আশফাক ভাইয়েরও তিনটি ইউনিট। সেসব নিয়ে তাদের মধ্যে কিছু ভুল বোঝাবুঝি আছে। তাদের কিছু দাবি-দাওয়া আছে।’