• মে ১২, ২০১৯
  • লিড নিউস
  • 17
জামালগঞ্জে এডিপির কাজে অনিয়ম: ৫ বস্তা সিমেন্ট দিয়ে ১ লাখ টাকার কাজ

জামালগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জে জামালগঞ্জ উপজেলায় ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে এডিপি’র খাতে ৫৯টি প্রকল্পের বিপরীতে ১ কোটি ২০ লাখ ৬০ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এসব প্রকল্প টেন্ডার, পিআইসি ও সরাসরি ক্রয়ের মাধ্যমে বার্ষিক উন্নয়ন তহবিল (রাজস্ব ও জিওবি) থেকে বাস্তবায়ন হচ্ছে। ৫৯নং প্রকল্পটি অন্য সকল প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে কি-না তার তদারকির ব্যয়ভার হিসাবে ৮২ হাজার ৫শ’ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। আগামী ৩০ জুন ২০১৯ তারিখের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন করার কথা রয়েছে। কিন্তু হাওরাঞ্চলের এসব প্রকল্প মৌসুম ভিওিক ডুবন্ত এলাকায় সিসি কালভার্ট, ইউড্রেন, রাস্তা নির্মাণ, প্রটেকটিভ ওয়ার্কস, গাইড ওয়ালসহ ব্লকের রাস্তা মেরামত ও সংস্কার কাজ বাস্তবায়ন না করলে এ জাতীয় প্রকল্পগুলো অসমাপ্ত থেকে যায়। মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে শেষ না হলে বর্ষা মৌসুমে ডুবে যায় প্রকল্পগগুলো। সচেতন মহল মনে করেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন ছাড়াই প্রতি জুন মাসে উক্ত প্রকল্পগুলোর বিল-ভাউচার দিয়ে অবৈধ অর্থ উত্তোলনের প্রচেষ্টায় থাকে সংশ্লিষ্টরা।

চলতি বছরের এডিপির জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ৬নং প্রকল্পের লক্ষ্মীপুরের মিছফারুন মিয়ার বাড়ির সামন থেকে উপজেলা চেয়াম্যানের বাড়ির সামনে পর্যন্ত ২ লাখ টাকার সিসি রাস্তা ও ইউ ড্রেন নির্মাণ এবং ৯নং প্রকল্পের লক্ষ্মীপুর বাজারের রাস্তা নির্মাণ খাতে ৩ লাখ টাকার কোন কাজ শুরু হয়নি।

৪৪নং প্রকল্প ফেনারবাঁক ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর বাজারের রাস্তা থেকে নাজিম নগরের ব্লকের রাস্তায় ১ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও যেভাবে রাস্তায় ব্লক বিচ্ছিন্ন ছিল সেভাবেই পড়ে আছে আজও। কৃষি মৌসুমের সুবিধার জন্য অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ এ রাস্তায় ১০ হাজার কৃষক পরিবারের হাওরের ধান গোলায় তুলে। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন না হওয়ায় চলতি বছরে চরম হয়রানির শিকার হয়েছেন এলাকার স্থানীয় কৃষকরা। এজন্য এডিপি প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষের কারা দায়ী? মেরামতের জন্য উক্ত প্রকল্পের বরাদ্দ ১ লাখ টাকা কার হাতে? এসব প্রশ্ন জনসাধারণের মনে ঘোরপাক খাচ্ছে।

এ ব্যাপারে ফেনারবাঁক ইউপি চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু তালুকদার বলেন, এটা এডিপি’র বরাদ্দ। উপজেলার ইঞ্জিনিয়ারের এই কাজের দায়িত্বে কতটুকু হয়েছে তিনি ভালো জানেন।

উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুস সাওার বলেন, ৪৪নং এডিপির কাজ কাজী আশরাফুজ্জামান করেছেন।

রাজ মিস্ত্রী নূর কালাম বলেন, ৩ জন শ্রমিক নিয়ে ৩ দিন কাজ করেছি। এতে ১শ’ ফুট বালু, ৫ বস্তা সিমেন্ট দিয়ে ৬শ’ ব্লক বসিয়েছি।

লক্ষ্মীপুর গ্রামের কাজী আশাদ মিয়া বলেন- এটুকু কাজ করতে ১০ হাজার টাকা ব্যয় হতে পারে।