• মে ১৪, ২০১৯
  • লিড নিউস
  • 26
ডা. প্রিয়াংকা হত্যা নিয়ে সিলেটে তোলপাড়

বিশেষ প্রতিবেদন: স্ত্রী ডা. প্রিয়াংকা হত্যা মামলায়ই গ্রেপ্তার হলেন সিলেটের প্রকৌশলী কল্লোল। সঙ্গে গ্রেপ্তার হলো তার পিতা ও মা। পুলিশ সোমবার (১৩ মে) তাদের আদালতে হাজির করে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ মে) থেকে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এদিকে লাশ উদ্ধারের পর থেকে সিলেটের ডা. প্রিয়াংকা তালুকদার শান্তার মৃত্যু নিয়ে তোলপাড় চলছে। এমন ঘটনায় ক্ষোভ বিরাজ করছে সনাতন সমাজে। নাড়া দিয়েছে সমাজকে।

কারন- ডা. প্রিয়াংকা ছিলেন পেশায় চিকিৎসক। ননদও ছিলেন চিকিৎসক। প্রিয়াংকার শাশুড়ি নিজের ডাক্তার মেয়েকে চাকরি করার সুযোগ দিলেও ডাক্তার বউকে চাকরি করার সুযোগ দেননি। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিন বছরের শিশুপুত্রকে রেখে চিরতরে চলে গেলো ডা. প্রিয়াংকা শান্তা। এমন ঘটনায়ও কেউ মেনে নিতে পারছেন না। ডা. প্রিয়াংকার বাড়ি সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে। তার পিতা ঋষিকেশ তালুকদার বর্তমানে সুনামগঞ্জ নতুনপাড়া এলাকায় বসবাস করেন। প্রিয়াংকা সিলেটের রাগিব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। সে বর্তমানে নগরের তেলিহাওরস্থ পার্কভিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফিজিওলজি বিভাগের প্রভাষক।

প্রিয়াংকার স্বামী দিবাকর দেব কল্লোল পেশায় একজন প্রকৌশলী। তিনি ঢাকার একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করার পর সিলেটে চলে আসেন। চাকরি নেন সিলেটের লিডিং ইউনিভার্সিটিতে। চাকরিতে চারিত্রিক স্খলন জনিত কারণে কল্লোলের চাকরি যায়। বর্তমান কল্লোল নিজের বাসা নগরীর পশ্চিম পাঠানটুলার পল্লবি ‘সি’ ব্লকের ২৫ নম্বর বাসা বসবাস করে। বাসাতেই তিনি ফার্মের নিজস্ব অফিস খুলেছেন।

পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে- কল্লোল ও প্রিয়াংকার পরিচয় অনেক আগেই। প্রায় ৬ বছর তারা একসঙ্গে প্রেম করার পর ভালোবেসেই নিজেরা নিজেদের পছন্দে একে অপরকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে প্রিয়াংকা স্বামীর বাসাতে থেকেই পার্কভিউ মেডিকেল কলেজে শিক্ষকতা করতেন। মুলত ছেলে কল্লোল নিজের পছন্দে প্রিয়াংকাকে বিয়ে করায় বিষয়টি মেনে নেননি স্বামী কল্লোলের মা রত্না রানী দেব। এ নিয়ে বিয়ের পর থেকেই তাদের পরিবারে অশান্তি চলছে। কল্লোলের পিতা সিলেটের সওজের সাবেক কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র দেব এই বিরোধ মেটাতে বারবার উদ্যোগ নেন। কখনো তিনি সফল আবার কখনো ব্যর্থ হন। কিন্তু ছেলের বউ হিসেবে প্রিয়াংকা সহ্য হচ্ছিলো না শাশুড়ি রত্নার। এর মধ্যে প্রিয়াংকার ছেলে সন্তানের জন্ম দেন।

এই সন্তানের বয়স এখন তিন বছর। এরপরও স্বামীর সঙ্গে প্রিয়াংকার বিরোধ কমেনি। এই বিরোধের এক পর্যায়ে প্রিয়াংকাকে হাসপাতালে চাকুরী করতে বারন করে দেন শাশুড়ি রত্না। অথচ তিনি তার নিজের ডাক্তার মেয়েকে ঠিকই চাকরিতে দেন। চাকুরী ছাড়ার নির্দেশ মেনে নিতে পারেননি প্রিয়াংকা। বিষয়টি নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে তাদের পরিবারের মধ্যে বিরোধ তীব্র হয়। এই বিরোধ সহ্য করতে না পেরে প্রিয়াংকা নিজের পিত্রালয়ে রাগ করে চলে যায়। কয়েক দিন আগে স্বামী কল্লোল রাগ মিটিয়ে প্রিয়াংকাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন। প্রিয়াংকা ফিরে এলে তাদের মধ্যে বিরোধ কমেনি। বরং এই বিরোধ আরো চাঙ্গা হয়ে উঠে।

প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন- প্রিয়াংকাকে কোনো ভাবেই সহ্য করতে পারছিলেন না শাশুড়ি রত্না। আর এ বিষয়টি নিয়ে অসহায় ছিলো কল্লোল। কারণ- প্রিয়াংকাকে ভালোবেসে বিয়ে করেছে কল্লোল। এই অশান্তির বিষয়টি তাদের আত্মীয়সহ বন্ধু-মহলও জানতো না। গত রোববার সকালে স্বামীর ঘর থেকে প্রিয়াংকার ঝুলন্ত দাশ উদ্ধার করা হয়। তবে- দরোজা খোলা ছিলো। অভিযোগ তোলা হয়- প্রিয়াংকাকে হত্যা করে লাশ সিলিংয়ের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। পুলিশ প্রিয়াংকার লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। সেখান থেকে ময়না তদন্ত শেষে লাশের শেষকৃত্য করা হয়।