• মে ১৮, ২০১৯
  • রাজনীতি
  • 14
ছাত্রলীগের বিতর্কিত আটজন ‘নির্দোষ প্রমাণিত’, বাকিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা সোমবার

নিউজ ডেস্ক: বিভিন্ন অভিযোগ থাকায় ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির যে ১৫ জনের তালিকা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে তাদের মধ্যে আটজন নিজেদের ‘নির্দোষ প্রমাণ’ করতে পেরেছেন। বাকিদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলে আগামী সোমবার (২০ মে) সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী।

শনিবার (১৮ মে) তিনি বলেন, পদপ্রাপ্ত এই ১৫ নেতার মধ্যে আটজন ইতোমধ্যে নিজেদের পক্ষে তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করেছেন। তবে সংগঠনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগের কোনও প্রমাণ উপস্থাপন করেননি অভিযোগকারীরা (‘পদবঞ্চিত’রা)। তাই এসব অভিযোগকে ‘মিথ্যা’ ও ‘ষড়যন্ত্র’ বলে মনে করেন তিনি। নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করতে গত বুধবার (১৫ মে) রাতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী পদপ্রাপ্ত বিতর্কিত ১৫ জনের তালিকা গণমাধ্যমে প্রকাশ করেন সংগঠনটির সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। যদিও তারা মৌখিকভাবে বলেন, এ সংখ্যা ১৭। অভিযোগের সত্যতা যাচাই-বাছাই করতে ২৪ ঘণ্টা সময় নেন ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।

গোলাম রাব্বানী দাবি করেন, এই কমিটিকে বিতর্কিত করতে কেউ কেউ অপচেষ্টা করছেন। যারা অভিযোগ করেছেন তাদের নিজেদের বিরুদ্ধেও হাজার হাজার অভিযোগ রয়েছে বলে তিনি পাল্টা দাবি করেন। ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘অভিযুক্ত ১৫ জনের নাম আমরা গণমাধ্যমে প্রকাশ করেছি। তাদের বিরুদ্ধে কেউ আমাদের কাছে লিখিতভাবে কোনও অভিযোগ দেয়নি। ইতোমধ্যে ১৭ জনের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে তাদের মধ্যে আটজন অভিযোগ খণ্ডাতে আমাদের কাছে তথ্যপ্রমাণ দিয়েছেন। তারা যে নির্দোষ তা প্রমাণ করেছেন তারা। এই তথ্যপ্রমাণ আগামীকাল রবিবার (১৯ মে) আমরা আপাকে (শেখ হাসিনা) দেখাবো। অভিযোগকারীরা কেউই আমাদের কাছে লিখিত কোনও অভিযোগ করেননি। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং সাংবাদিকদের মাধ্যমে অভিযোগ করলে তো হবে না, দিস ইজ নট দ্য রাইট ওয়ে। যারা পদ পেয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে যদি কোনও অভিযোগ থাকে তাহলে তা সাংগঠনিকভাবে বলতে হবে।’

নিজেকে আইনের ছাত্র পরিচয় দিয়ে গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘১৫ জনের মধ্যে ইতোমধ্যে আটজন যে তথ্যপ্রমাণ দিয়েছেন, তাতে তারা নিদোর্ষ প্রমাণিত হয়েছেন। বাকি যারা রয়েছেন তারাও তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করবেন। তাদের আরও এক দিন সময় বাড়িয়ে দিয়েছি।’ নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার রাখার জন্য নিজেরাই ১৭ জনের নাম গণমাধ্যমে প্রকাশ করেছি উল্লেখ করে ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আগামীকাল এই আটজনের তথ্যপ্রমাণ আমরা আপাকে দেখাবো। তাকে বলবো যে, এই আটজনের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করা হয়েছে। আপাকে আমরা এটাও বলবো যে, যারা অভিযোগ করেছে তাদের নামেও হাজার হাজার অভিযোগ রয়েছে। পদপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে সংগঠন থেকে পদ চলে যাওয়ার মতো কোনও তথ্যপ্রমাণ এখন পর্যন্ত আমরা পাইনি।’

অভিযুক্ত ১৭ জনের মধ্যে আটজন ছাড়া বাকিরা যদি নির্দিষ্ট সময়ে তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপনে ব্যর্থ হয়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থার কবে নেওয়া হবে কিনা— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আগামীকাল আপার সাথে কথা বলে তারপর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে আগামী সোমবার।’
অভিযোগকারীদের পুরো প্রক্রিয়াকে ‘প্রশ্নবিদ্ধ’ অভিহিত করে গোলাম রাব্বানী আরও বলেন, ‘বিশেষ গোষ্ঠীর যে অপপ্রচার তা ইতোমধ্যে খোলাসা হচ্ছে। নির্দোষরা যেন মিথ্যা অভিযোগে সংগঠন থেকে বাদ না যায় সে জন্য একটু সময় নেওয়া হচ্ছে। তাই অভিযুক্ত কেউ যেন রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার না হয়, সে জন্য আরও সময় বাড়ানো হয়েছে।’