• মে ২৮, ২০১৯
  • রাজনীতি
  • 19
’গণতান্ত্রিকভাবে বিরোধীতা করারও জায়গা নেই’ : সিলেটে ড. রেজা কিবরিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:  দেশে গণতন্ত্র নেই বলে দাবি করে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া বলেছেন, গণতান্ত্রিকভাবে বিরোধীতা করারও জায়গা নেই। আর গণতন্ত্র কাঠামো বজায় থাকলে মানুষের বাকস্বাধীনতা থাকে। রাস্তায় দাঁড়িয়েও অনেক কিছু বলা যায়। গণফোরাম ক্ষমতায় গিয়ে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবে।
তিনি বলেন, গণফোরাম গণতন্ত্র পূণরোদ্ধারে নেমেছে। এটা শুধু আমাদের দলের লড়াই না-আপনাদের সবার লড়াই। এই লড়াইয়ে গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভ’মিকা আছে।
মঙ্গলবার (২ মে) সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এসব কথা বলেন।

গণফোরাম সাধারণ সম্পাদক রেজা কিবরিয়া বলেন, সরকার ভোট চুরি করে ক্ষমতায় গেছে, যে কারণে সরকারের উপর জনগণের আস্থা নেই। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে গণফোরাম বিপুলভাবে বিজয় লাভ করে ক্ষমতায় যাবে। ক্ষমতায় গেলে জনগণের আস্থার প্রতিদান দেবেন বলেন তিনি।  তিনি বলেন, আমরা চাই দেশ ভাল হোক। দেশের নাগরিক হিসেবে আমরা ভাল থাকি। অথচ বর্তমানে মানুষের মধ্যে ভয়, দুশ্চিন্তা বিরাজ করছে। মানুষ ভয়ে রাস্তায় দাড়িয়ে প্রতিবাদ করতে পারে না। অপরাধ, অনিয়ম দেখলেও আতঙ্কে কথা বলে না।

ড. রেজা কিবরিয়া বলেন, আমরা সুষ্ঠু নির্বাচনমুখী দল। নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় যেতে চাই। এখন সাংগঠনিকভাবে দলকে গুছাচ্ছি। প্রত্যেক জেলায়ই গণফোরামের অবস্থান ভাল হবে, আশাবাদি তিনি। আর রাজনীতিতে বিএনপিকেও সঙ্গে রাখছেন তারা। তবে জামায়াত দেশে উন্নয়ন ও পরিবর্তন আনার মতো কোনো ক্ষমতা রাখে না। তাই জামায়াত রাখা গুরুত্বপূর্ণ নয়।

তিনি বলেন, দেশে বৈষম্য বেড়ে গেছে। বিশেষ করে মানুষের বৈষম্য। অথচ সরকারে থেকে অনেক ভাল কিছু কাজ করার ছিল। কিন্তু এখন ক্ষমতায় থাকা সরকার জনগণের না। রাতের অন্ধকারে তারা ভোট চুরি করে এমপি হয়ে ক্ষমতায় গেছে। নির্বাচনে এদেশে ১০৪ শতাংশও ভোট পড়ে।  সংসদ সদস্য মোকাব্বির খানকে দল থেকে বরখান্তের পর প্রেসিডিয়াম মেম্বার করার বিষয়ে তিনি বলেন, তিনি দলের তালিকাভূক্ত প্রার্থী ছিলেন না। তিনি পরে বাইরে থেকে এসে নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। আর প্যাড চুরির অভিযোগও সত্য নয়।

তিনি বলেন, আমার বাবা যে দলের রাজনীতি করেছেন। বাবার আদর্শের সে দল এখন নেই। বাবার দলে নেই, তাই বলে আমার বাবার নিরপপেক্ষ নীতি থেকে সরে আসিনি। বরং আওয়ামী লীগ গণতান্ত্রিক পথ থেকে সরে গেছে।

গণফোরাম সরকারের লবিষ্ট কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ ড. কামাল ৮৩ বছর বয়সে এসে এমন করবেন, এটা কখনো আমার মনে হয় না।
কৃষকের কাছ থেকে ৫০/৬০ ভাগ ধান চলে গেছে। এখন মুষ্টিমেয় লোকের কাছ থেকে ধান কিনবে সরকার। দেখাবে কৃষকদের প্রণোদনা দিচ্ছে। মূলত; লাভ হলো মধ্যস্বত্ত¡ভোগীদের।

পিতার বিচারে আদালত মুখী না হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, গত ১০ বছরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল বিচার করতে পারেনি। আর আসল খুনীদের বাদ দিয়ে মিথ্যা তদন্তে আমার বাবা হত্যা মামলার চার্জশীট দেওয়া হয়েছে। ওই চার্জশীট মেনে নিতে আমাদের হুমকীও দেওয়া হয়েছে। যেদিন চার্জশীটে সত্য বেরিয়ে আসবে, মূল আসামিদের নাম অন্তর্ভূক্ত হয়ে আসবে, সেদিন মামলা লড়তে আদালতমুখী হবো। সংবাদ সম্মেলনে এসময় উপস্থিত ছিলেন, গণফোরামের মহানগর সভাপতি অ্যাডভোকেট আনছার খান।