• জুন ১৬, ২০১৯
  • ছবি
  • 53
পাখি বাড়ির পাখিসেবা

গ্রীষ্মের শুরুতে পাখিদের কিচির মিচির ডাকে মুখরিত হয়ে উঠে পাখি বাড়ি চারদিক। শীতের শেষে এই বাড়ির গাছপালা থেকে শুরু করে টিনের চালের ফাঁক ফুকরে খড়কুটো দিয়ে শত শত ঘর তৈরী করে পাখিরা। বাড়িতে প্রবেশ করেই দেখা মেলে পাখিরা ঝাঁক বেঁধে উড়াউড়ি করছে আকাশে। বাড়ির বিভিন্ন গাছ ও বাঁশঝাড়ে বাঁধা বাসায় ডিমে তা দিচ্ছে লাল, সাদা বক। পানকৌড়ি, লাল বক ও শালিক ব্যস্ত নতুন ছানাদের মুখে খাবার তুলে দিতে। সদ্য বেড়ে উঠা পাখিরা উড়াল দেয়ার কসরত রপ্ত করায় ব্যস্ত। বাড়ি ভর্তি গাছ থেকে ভেসে আসে মণিহার বক, শালিক, মাছরাঙা, দোয়েল ও বাবুই পাখির কিচিরমিচির শব্দ।

শীত মৌসুমের শুরুতে বালি হাঁস সহ বিভিন্ প্রজাতির অতিথি পাখিরাও আশ্রয় নেয় এখানে। ঝড় বা শিলাবৃষ্টি হলে পাখিগুলো বিপদে পড়ে। তখন খুলে দেয়া হয় বাড়ির সবক’টি ঘরের দরজা। পাখিরা আশ্রয় নেয় ঘরের ভেতর। ঝড় থামলে আবার তারা নিজেদের বাসায় ফিরে যায়। ঝড়ে বাসা ভেঙে কোনো পাখির ছানা নিচে পড়ে গেলে, বাসা তৈরি করে ছানাগুলো যথাস্থানে রেখে দেন বাড়ির লোকেরা। প্রতি বছর কয়েক হাজার পাখি জন্ম নেয় এই পাখি বাড়িতে। তারা বড় হয়ে ডানা মেলে উড়াল দেয় আকাশে।


বলছিলাম সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার শ্রীরামপুরের দুদু মিয়ার পাখি বাড়ির কথা। প্রায় ৪৪ বছর পূর্বে বর্ষা মৌসুমে একদিন হঠাৎ করে কয়েকশ পাখি আশ্রয় নেয় বাড়ির গাছে। তখন দুদু মিয়ার বাবা হাবিবুর রহমান পাখিদের সেবা যত্ন করেন। এর পর থেকে প্রতিবছরই এ বাড়িতে আসতে থাকে পাখিরা।
১৯৯৭ সালে হাবিবুর রহমান মারা গেলে পাখিদের সেবা যত্নের দ্বায়িত্ব নেন তার ছেলে দুদু মিয়াকে। পাখিদের সেবা দিয়ে নিজের বাড়িকে পাখিদের অভয় আশ্রমে পরিনত করায় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তাকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। ২০১৪ সালের নভেম্বরে দুদু মিয়া মৃত্যু বরন করেন। এর পর থেকে তার তিন ছেলে রুবেল আহমদ, রাসেল আহমদ ও রামেন আহমদ পাখি সেবার দ্বায়িত্ব নেন। বাবার মত তারাও পাখিদের সেবা দিচ্ছেন এখন।

দুদু মিয়ার বড় ছেলে রুবেল আহমদ জানান, শীত মৌসুমে বক ও পাককৌড়ি হাওড়ে চলে গেলেও পাখিদের একটি অংশ সারা বছরই এখানে থাকে। তাছাড়া ধানের মৌসুমে এখানের প্রচুর পরিমান ঠিয়া পাখিও আসে।

তিনি বলেন, পাখি শিকারিদের হাত থেকে পাখিদের বাঁচাতে সব সময় সর্তক থাকতে হয়। আগে বন বিভাগের কর্মীরা পাখিদের খোঁজ খবর নিতেন কিন্ত গত কয়েক বছর থেকে তারা কোন ধরনের যোগাযোগ করেন না। পাখিদের বিস্টা থেকে দুর্গন্ধ ও বিভিন্ন রোগ জীবানো ছড়ায়। সরকার থেকে যদি কোন ধরণের মেডিসিন দিয়ে সাহায্য করা হত তাহলে আমরা উপকৃত হতাম। প্রায়ই বিভিন্ন জায়গা থেকে আগত পাখি প্রেমীরা পাখি দেখতে ভিড় জমান পাখি বাড়িতে।

যেভাবে যাবেন: সিলেট নগরী থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রাম। সিলেট নগরী থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা অথবা ভাড়া করা গাড়ি নিয়ে যেতে হবে শ্রীরামপুর বাজারে, সেখানে যে কাউকে জিজ্ঞেস করলেই দেখিয়ে দেবে দুদু মিয়ার পাখি বাড়ি। ছবিগুলো গতকাল শনিবার সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার শ্রীরামপুরের দুদু মিয়ার পাখি বাড়ি থেকে তোলা।

ছবি ও লেখা: আলোকচিত্রী মামুন হোসেন