• জুলাই ৮, ২০১৯
  • জাতীয়
  • 25
গ্যাসের দাম বৃদ্ধি মেনে নিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্কঃ অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য এলএনজি আমদানি ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধি মেনে নিতে হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, শিল্পায়ন আর প্রবৃদ্ধির জন্য এটা জরুরি। আর অর্থনৈতিক উন্নতি চাইলে তা মেনে নিতে হবে।

সোমবার বিকালে গণভবনে চীন সফর পরবর্তী আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন: প্রতি ঘনমিটার এলএনজির আমদানি খরচ ৬১.১২ টাকা এবং দাম বাড়ানোর পরও সরকার তা দিচ্ছে ৯.৮ টাকায়। তার পরেও আন্দোলন! দাম বাড়ানোর পরও ১০ হাজার কোটি টাকার ওপরে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। এরপরও আন্দোলন যখন করেছে, এক কাজ করি, যে দামে কিনব, সে দামে বেচব। ৬১ টাকাই নেব। তাহলে আমার কোনো ভর্তুকি দিতে হবে না।

বামদের হরতাল ও তাতে বিএনপির সমর্থন নিয়ে কটাক্ষ করে তিনি বলেন: বাম আর ডান মিলে গেছে। এক সঙ্গে এই তো? খুব ভালো। বহু দিন পরে হরতাল পেলাম, পরিবেশের জন্য ভালো।

এসময় গ্যাস আমদানির ওপর সব ধরনের কর মওকুফ করে দেওয়ার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের গ্যাসের দামের তুলনা টেনে তিনি বলেন: অনেকে আন্দোলন করেছে, বলছেন, ভারতে কমিয়েছে। ভারতে দাম কত গ্যাসের? ভারতে গৃহস্থালীর জন্য গ্যাসের দাম স্থান ভেদে ৩০ থেকে ৩৭ টাকা। বাংলাদেশ দিচ্ছে ১২.৬০ টাকায়। শিল্পে বাংলাদেশে দিচ্ছে ১০.৭০ টাকায়, ভারতে দাম ৪০ থেকে ৪২ টাকা। সিএনজি আমাদের এখানে ৪৩ টাকা, ওখানে (ভারতে) ৪৪ টাকা। বাণিজ্যিকে আমরা দিচ্ছি ২৩ টাকায়, ভারতে ৬৫ টাকা।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের ভুলের কারণে এলএনজি আমদানি করতে হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন: ‘২০০৪-২০০৫ সালে মিয়ানমারের গ্যাসে ভারত মিয়ানমার, জাপান, চীন সবাই মিলে বিনিয়োগ করেছিল। ভারত এই গ্যাস নিতে চেয়েছিল বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে পাইপলাইন করে। কিন্তু খালেদা জিয়া সরকার এই পাইপলাইনে গ্যাস নিতে দেয়নি। এখানে আমি হলে দিতামই, আবার আমার ভাগটাও রেখে দিতাম।’

‘‘পাইপলাইনে মিয়ানমার থেকে গ্যাস আমদানি করলে এলএনজি আমদানি না করলেও চলত। এই গ্যাস পুরোটাই চীন নিয়ে নিচ্ছে। সেখানে গ্যাসের বিপুল মজুদ আছে। দেশে কয়েকটি বিষয়ে সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে নেতৃত্বে বা সরকার ভুল করলে খেসারত জনগণকে দিতে হবে। আমাদেরকেও তা দিতে হচ্ছে।

গত ১ জুলাই ৫ দিনের সরকারি সফরে ঢাকা থেকে চীন পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি চীনের দালিয়ান শহরে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) অ্যানুয়াল মিটিংয়ে যোগদান করেন এবং ‘কোপারেশন ইন দি প্যাসিফিক রিম’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে ঢাকা এবং বেইজিং-এর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা সংক্রান্ত ৯টি চুক্তি স্বাক্ষর হয়। ৪ জুলাই চীনা প্রধানমন্ত্রী এবং ক্ষমতাসীন সিপিসির কার্যালয় গ্রেট হল অব দ্যা পিপল-এ চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেকিংয়াং-এর সঙ্গে শেখ হাসিনার দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে শেষে দুই নেতার উপস্থিতিতে এই চুক্তিগুলো স্বাক্ষরিত হয়।