• জুলাই ৩০, ২০১৯
  • রাজনীতি
  • 54
স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও দুই মেয়রের পদত্যাগ দাবি বিএনপির

নিউজ ডেস্কঃ এডিস মশা নিধনে চরম ব্যর্থতার অভিযোগে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও ঢাকার দুই মেয়রের পদত্যাগ দাবি করেছে বিএনপি। একই সঙ্গে রংপুর উপ-নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে বলেও দলটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সোমবার (২৯ জুলাই) রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কথা জানান। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত এ বৈঠক হয়। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মহাসচিব।

মির্জা ফখরুল বলেন, ডেঙ্গু সারাদেশে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। আমরা লক্ষ্য করছি, সরকার এই ডেঙ্গু সংকটকে লেজে গোবরে করে ফেলেছে। একদিকে সিটি করপোরেশনের মেয়ররা তাদের কথা বলছেন, যার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। কখনো তারা এটা গুজব বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন, কখনো তারা বলছেন যে, তারা যথাসাধ্য চেষ্টা করছেন কিন্তু তারা পেরে উঠছেন না, এটা সরকারের দায়িত্ব।

তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে ডেঙ্গু মশা নিধনে। আইসিডিডিআরবি পূর্ব সর্তকবার্তা দিয়েছিল যে ‍ওষুধগুলো ব্যবহার করছে সেটা কার্যকরী নয়, সেসব ওষুধ বাদ দিয়ে নতুন কার্যকর ওষুধ আনতে বলেছিল। দুই সিটি করপোরেশন সেটাকে গুরুত্ব না দিয়ে ইতিমধ্যে তারা ৫০ কোটি টাকার ওষুধ ব্যবহার করেছে।

এখন ঢাকা শহরের হাসপাতালগুলোতে কোনো বেড খালি নেই। চিকিৎসক, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীসহ অনেকে মারা গেছেন। আমাদের দলের ভাইস চেয়ারম্যান শাহজাহান ওমর সাংবাদিক আজহার মাহমুদও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন।

সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, শুক্রবার (২৭ জুলাই) সংবাদ সম্মেলনে দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দাঁতের সমস্যার কথা বলেছিলাম। সেই সংবাদ আপনারা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করায় পরের দিন শনিবারই তার দাঁতের চিকিৎসা করা হয়।

তিনি বলেন, আজকের বৈঠকে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিভাগীয় শহরগুলোতে যে সমাবেশ করছি তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ইতোমধ্যে বরিশাল, চট্টগ্রাম ও খুলনায় সমাবেশ হয়েছে। বাকি সমাবেশগুলো বন্যার কারণে স্থগিত রয়েছে। বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলে আমরা আবার শুরু করবো।

রংপুর (এরশাদের শূন্য আসন) উপ-নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে জানিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা রংপুর-৩ আসনে উপ-নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন ঠিক করতে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

ইভিএম বাতিলের দাবি জানিয়ে ফখরুল বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, নির্বাচন কমিশন সব নির্বাচনে ব্যবহার করার জন্য বেশ সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা বিভিন্ন নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের চেষ্টা করছে। ইভিএম পদ্ধতিতে নির্বাচন কোনো মতেই সমর্থন করি না। আমরা মনে করি যে, ইভিএম-এ কখনোই জনগণের রায়ের সঠিক প্রতিফলন ঘটবে না। আমরা ইভিএম পদ্ধতি বাতিলের দাবি জানাচ্ছি।

স্থায়ী কমিটির বৈঠকে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ছাড়াও ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন। লন্ডন থেকে স্কাইপে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও যুক্ত ছিলেন।সুত্র: বাংলানিউজ