• জুলাই ৩১, ২০১৯
  • শীর্ষ খবর
  • 79
তাহিরপুরে ৭ ইউপি চেয়ারম্যানের উপজেলা পরিষদ সভা বয়কট

তাহিরপুর প্রতিনিধিঃ সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের মাসিক উন্নয়ন সমন্বয় সভা বর্জন করলেন ৭ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান।

বার্ষিক উন্নয়ন তহবিলের টাকা তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুনা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল ও উপজেলা প্রকৌশলী ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের কোন কিছু না জানিয়েই তাদের দু’জনের ইচ্ছে মত ব্যায় করায় তারা মাসিক উন্নয়ন সমন্বয় সভা বয়কট করেন বলে অভিযোগ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান গণের।

জানা যায়, বুধবার ছিল তাহিরপুর উপজেলা পরষিদরে ৩য় মাসিক উন্নয়ন সমন্বয় সভা। সকাল ১১টার দিকে উন্নয়ন সমন্বয় সভা শুরু হয় উপজেলা পরিষদ পাবলিক লাইব্রেরী মিলনায়তনে। এসময় সভা চলাকালে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের মধ্যে বিভিন্ন উন্নয়ন সমন্বয় নিয়ে আলোচনা হলে উপজেলা পরিষদের বার্ষিক উন্নয়ন তহবিলের টাকা বন্টন নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুনা সিন্ধু চৌধুরী বাবুলের সঙ্গে। এসময় সভায় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের মধ্যে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়। পরে এই সুত্র ধরে সভায় উপস্থিত ইউনিয়ন পরিষদের ৫ চেয়ারম্যান সভা বয়কট করে সভা থেকে চলে আসলে পরে উপস্থিত ৫ ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে বাকি আরও ২ ইউপি চেয়ারম্যান সমর্থন করেন।

বিকাল ৩টার দিকে তাহিরপুরের গনম্যাধমকর্মীদের তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদে ডেকে বিষয়টি অবহিত করেন সকল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগণ। অভিযোগকালে ইউনিয়ন চেয়ারম্যানগন জানান, বার্ষিক উন্নয়ন তহবিলের ৮ লক্ষ ৬৩ হাজার টাকা সমহারে বন্টন না করে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ৮২ জোড়া ব্রেঞ্চ তৈরী করে উনার ইচ্ছে মত ৫ টি ইউনিয়নের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দিয়ে দেন। এমনকি বন্টনের দিনে তাদের কোন একজন চেয়ারম্যানকেও বিষয়টি জানাননি উপজেলা চেয়ারম্যান।

বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন বলেন,উপজেলা পরিষদ সমন্বয় সভায় যে বিষয়গুলো নিয়ে সবার সম্মতিক্রমে সিদ্বান্ত গৃহীত হয় তা কার্যকর না করে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান উনার ব্যাক্তিগত সিদ্বান্ত মতে কাজ করেন। যার জন্য ইউনিয়ন পরিষদের চেয়াম্যানরা আজকের সমন্ময় সভা বয়কট করেছেন।

উত্তর বড়দল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কাশেম বলেন. উপজেলা পরিষদে কি আছে, না আছে তাদের জানতে দিতে নারাজ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান।

তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বোরহান উদ্দিন বলেন, আমার ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠানে বার্ষিক উন্নয়ন তহবিলের টাকা দিয়ে বিভিন্ন আসবাব পত্র দেয়া হয়, অথচ আমাকে জানানো হয় না। তাই আমরা এর প্রতিকার চেয়ে আজ উপজেলা পরিষদের মাসিক উন্নয়ন সমন্বয় সভা বয়কট করি।

এ বিষয়ে তাহিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ সাইদুল্লা মিয়া বলেন, বন্যার সময় তড়িঘড়ি করে ঠিকাদারের মাধ্যমে ব্রেঞ্চ গুলো তৈরী করে ১১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বন্টন করা হয়েছে।

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুনা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল বলেন, গত মাসের সমন্বয় সভার সিদ্বান্ত অনুযায়ী বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য ব্রেঞ্চ বানানো হয়েছে। সে ধারাবাহিকতায় আমরা ৫ ইউনিয়নের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ব্রেঞ্চ গুলো বন্টন করি। তাদের কে আমরা কোন কিছুই জানাই নি একথা সত্য নয়। তা ছাড়া সভা ছেড়ে চলে যাওয়ার মত কোন ঘটনা আজ ঘটেনি, কেন তারা চলে গেলেন তা তাদের বিষয়।