• আগস্ট ৮, ২০১৯
  • শীর্ষ খবর
  • 39
হবিগঞ্জে বাপার পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কর্মসূচি

হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ  হবিগঞ্জে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জ ও খোয়াই রিভার ওয়াটারকিপার এর উদ্যোগে পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (০৮ আগষ্ট) বাপা হবিগঞ্জের সভাপতি অধ্যাপক ইকরামুল ওয়াদুদ এর সভাপতিত্বে ও তারুণ্য সোসাইটির সভাপতি পরিবেশকর্মী আবিদুর রহমান রাকিবের সঞ্চালনায়  আরডি হল প্রাঙ্গণে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী, গবেষক ও সাবেক উপসচিব ড. শেখ ফজলে এলাহী, কবি ও বাপা সহ-সভাপতি তাহমিনা বেগম গিনি, বাপা সাধারণ সম্পাদক খোয়াই রিভার ওয়াটারকিপার তোফাজ্জল সোহেল, হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ এখলাছুর রহমান খোকন, কাউন্সিলর শেখ নুর হোসেন প্রমুখ।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জ ও খোয়াই রিভার ওয়াটারকিপার আয়োজিত পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, সারাদেশের মানুষ চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন, কে কখন জ্বরে আক্রান্ত হন। কারণ, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে আশঙ্কাজনকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে ডেঙ্গু জ্বর। হাসপাতালগুলোতে বেড়েই চলেছে রোগীর ভিড়। বর্ষা মৌসুম এলেই এডিস মশার উৎপাত বাড়ে। সবাই জানেন এডিস মশা ডেঙ্গু জ্বরের বাহক। দেশজুড়ে ডেঙ্গু জ্বর ছড়িয়ে পড়ায় হবিগঞ্জবাসীও আতঙ্কে ভুগছেন।

ইতিমধ্যে হবিগঞ্জেও ডেঙ্গু জ¦র ধরা পড়েছে অনেকের। তাই এ পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। নিজ নিজ জায়গা থেকে আমাদের সকলকে সচেতন হতে হবে। এডিস মশার উৎপত্তিস্থল ধ্বংস করতে হবে। তাই আসুন আমরা নিজ দায়িত্বে কিছু কাজ সম্পন্ন করি ও অন্যকে তা করতে আহবান জানাই।

শুরুতে ডেঙ্গু জ্বর এবং এর চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেন রোটারিয়ান ডাঃ এস এস আল-আমিন সুমন ও শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ এর লেকচারার ডাঃ মঈন উদ্দিন সাকু।

কর্মসূচি উদ্বোধন শেষে শহরের আরডি হল এলাকা, শ্যামলী, নিউ মুসলিম কোয়ার্টার ও শ্মশানঘাট এলাকায় মশার ঔষধ ছিটানো এবং সচেতনতামুলক প্রচারপত্র বিলি করা হয়।

এই কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করেন তারুণ্য সোসাইটি, আমরা করব জয়, রোটারেক্ট ক্লাব হবিগঞ্জ খোয়াই, গ্রীণ ভয়েসসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মীরা।

কর্মসূচি সম্পর্কে বাপা সাধারণ সম্পাদক খোয়াই রিভার ওয়াটারকিপার তোফাজ্জল সোহেল বলেন, ডেঙ্গু জ¦রের হাত থেকে বাঁচতে হলে এডিস মশা নিধনে “সামাজিক আন্দোলন” গড়ে তুলতে হবে।

পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজটি করতে হবে সমন্বিতভাবে। প্রশাসন, চিকিৎসক, জনপ্রতিনিধি, সেবামূলক প্রতিষ্ঠান, নাগরিক সমাজ, বিএনসিসি, স্কাউট, সামাজিক-সাংস্কৃতিক, স্বেচ্ছাসেবী ও অনেক উন্নয়ন সংগঠন রয়েছে এই শহরে, এদের সম্পৃক্ত করতে হবে।

শহরকে ডেঙ্গুজ্বরের ঝুঁকিমুক্ত রাখতে তথা পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তুলতে ওই সংগঠনগুলো নিজ নিজ এলাকায় কাজ করতে পারে। এছাড়া স্কুল-কলেজ কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনাক্রমে ছাত্র-শিক্ষকদের মশা ও ডেঙ্গু বিষয়ক তথ্য প্রচারের কাজে নিয়োজিত করা যেতে পারে।

তিনি বলেন, শুধুমাত্র ডেঙ্গু আতঙ্কের জন্য নয়, যে কোন রোগ-বালাই থেকে মুক্ত থাকতে এবং স্বাস্থ্যকর জনপদ গড়ে তোলার জন্য নগরের পুকুর-জলাশয়গুলোকে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা বাঞ্ছনীয়।

এই শহরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অনেক পুকুর-জলাশয়, পুরাতন খোয়াই নদীর বেঁচে থাকা নানা স্থানে ঝোপঝাড় কচুরিপানাসহ নানানরকম আবর্জনা বিদ্যমান। দায়িত্বশীল সংগঠন-প্রতিষ্ঠানকে এসব পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতায় ভূমিকা রাখতে হবে।