• আগস্ট ১১, ২০১৯
  • মৌলভীবাজার
  • 58
কুলাউড়ায় ভাইয়ের দা-এর আঘাতে ভাই খুন!

মৌলভীবাজার প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় মামুনুর রশীদের (৩০) দা-এর আঘাতে ছোট ভাই রাজীবুর রহমান (১৭) নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রোববার (১১ আগষ্ট) সকালে উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের নোনা হোছনাবাদ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রাজীবুর স্থানীয় পুরশাই হাফিজিয়া মাদ্রাসায় পড়তেন। তাঁদের বাবার নাম ওয়াসির আলী। এ ব্যাপারে কুলাউড়া থানায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, রাজীবুরদের বাড়ি একই ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী নোনা টিলাবাড়ী গ্রামে। নোনা হোছনাবাদ গ্রামে তাঁদের মামার বাড়ি। মামা বিদেশে থাকায় বাড়িটি ফাঁকা পড়ে থাকে। এ কারণে রাজীবুরকে নিয়ে তাঁর মা নেকজান বিবি সেখানে থাকতেন। আর বাবাকে নিয়ে মামুনুর নিজেদের বাড়িতে থাকতেন। আজ সকাল ছয়টার দিকে মামুনুর মামার বাড়ি যান। এ সময় রাজীবুর ঘুমাচ্ছিলেন। মা ঘরের বাইরে ছিলেন। হঠাৎ মামুনুর দা দিয়ে ছোট ভাই রাজীবুরকে ঘুমন্ত অবস্থায় এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। রাজীবুরের চিৎকার শুনে মা ছুটে এলে মামুনুর পালিয়ে যান। প্রচণ্ড রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলে রাজীবুরের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে বেলা ১১টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। বেলা তিনটার দিকে ওয়াসির আলী বাদী হয়ে মামুনুরকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

কুলাউড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সঞ্জয় চক্রবর্তী বলেন, সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির সময় নিহত রাজীবুরের মাথায় ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাত দেখা গেছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মৌলভীবাজারের জেলা সদরে অবস্থিত ২৫০ শয্যার হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামুনুরকে গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে। এ ব্যাপারে হত্যা মামলা হয়েছে।

ওয়াসির আলী দাবি করেন, তাঁর বড় ছেলে মামুনুর বেশ কিছু দিন ধরে মানসিকভাবে অসুস্থ। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা করালেও সুস্থ হননি। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো কারণ নেই।

স্থানীয় কর্মধা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এম এ রহমান বলেন, সম্প্রতি মামুনুর তাঁর কার্যালয়ে গিয়ে অভিযোগ করেন, বাবা ওয়াসির আলী তাঁকে শারীরিক নির্যাতন করেছেন। চেয়ারম্যান বিষয়টি দেখবেন বলে জানিয়েছিলেন।