• আগস্ট ১৮, ২০১৯
  • জাতীয়
  • 17
২২ আগস্ট থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হচ্ছে

নিউজ ডেস্কঃ অবশেষে আগামী ২২ আগস্ট থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হচ্ছে। ওইদিন ৩ হাজার ৫৪০ রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে স্থল ও নৌ পথে প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে মিয়ানমার সরকার। গত জুলাই মাসে মিয়ানমার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব ইউ মিন্ট থুর নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের ডেলিগেশন টিম উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করে। এরপরই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের প্রস্তুতি গ্রহণ করে দেশটি।

বাংলাদেশের পক্ষে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সহজ করতে রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম বিভাগীয় অতিরিক্ত কমিশনার নুরুল আলম নেজামীর নেতৃত্বে প্রত্যাবাসন টাস্কফোর্সের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. আবুল কালাম, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন, পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন, অতিরিক্তি আরআরসি শামসুদৌজা নয়ন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এসএম সরওয়ার কামালসহ সেনাবাহিনী ও জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর’র প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে করণীয় বিষয়ে করেন।

বৈঠক সম্পর্কে চট্টগ্রাম বিভাগীয় অতিরিক্ত কমিশনার নুরুল আলম নেজামী বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবারের প্রত্যাবাসন নিয়ে আমরা ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শেষ করেছি। এখন শেষ পর্যায়ে কাজ চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে হয়তো এ কার্যক্রম আরও বাড়ানো হবে।

সূত্র জানায়, উখিয়া-টেকনাফে ৩০টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ১১ লাখের অধিক রোহিঙ্গার বাস। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গারা প্রাণ রক্ষায় বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন। শরণার্থী হয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়ে আন্তর্জাতিকভাবে প্রক্রিয়া শুরুর চেষ্টা চালানো হচ্ছিল শুরু থেকেই। কিন্তু এর সফলতা আসছিল না।

গত জুলাই মাসে মিয়ানমার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব ইউ মিন্ট থুর নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের ডেলিগেশন টিম উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্প পরিদর্শন ও রোহিঙ্গাদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেন। টিমের সদস্যরা দুই দিনে কয়েক দফায় ক্যাম্পগুলোতে মুসলিম, হিন্দু ও খ্রিস্টান রোহিঙ্গাদের সঙ্গে পৃথক পৃথক আলোচনায় অংশ নিয়ে রোহিঙ্গাদের ফেরত যেতে অনুরোধ জানান। সে সময় সফরকারি টিমের সঙ্গে যুক্ত হন আসিয়ানের পাঁচ সদস্যর প্রতিনিধি দল। তারা ফিরে যাবার পর বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে তোড়জোড় শুরু করেছে মিয়ানমার।

এদিকে নিজ দেশে ফিরে যেতে অধীর আগ্রহী অধিকাংশ রোহিঙ্গা শরণার্থীরা। ইতোমধ্যে বেশ কিছু রোহিঙ্গা নিজ উদ্যেগে রাখাইনে ফিরেও গেছেন। কিন্তু ক্যাম্পগুলোতে প্রত্যাবাসনবিরোধী উগ্রপন্থী ও উসকানিদাতাদের নিবৃত করা সম্ভব না হলে ফের হোঁচট খাওয়ার শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

রোহিঙ্গা নেতা সৈয়দুল আমিন বলেন, মিয়ানমার টিমের সঙ্গে আলোচনায় রোহিঙ্গারা নিজ জন্মভূমিতে ফেরার ব্যাপারে আশাবাদী। এর সফলতা হয়ত শিগগিরই আমরা পাব।

কুতুপালং ২নং ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নেতা ও আরকান রোহিঙ্গা ফর সোসাইটি হিউম্যাস রাইটস’র সভাপতি মহিবুল্লাহ জানান, মৌলিক অধিকার পূরণ হলে একজন রোহিঙ্গাও বাংলাদেশে থাকবে না। স্ব-ইচ্ছায় মিয়ানমারে ফেরত যাবে। তবে নাগরিকত্ব দিয়েই তাদের রোহিঙ্গা মুসলমান হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।

বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৯ এর মাঝি মুছা আলী ও নুরুল আমিন বলেন, মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে আগ্রহী হওয়ায় আমরা খুশি। নিজ দেশে থাকার শান্তিই আলাদা।

অধিকাংশ রোহিঙ্গার দাবি, মিয়ানমার সরকারের পক্ষ থেকে নাগরিকত্বের স্বীকৃতি এবং তাদের ওপর সংঘটিত নির্যাতনের বিচারের নিশ্চয়তা না পেলে ফিরে গিয়ে লাভ নেই। এটি জোরালো হলে ২২ আগস্টের চেষ্টা ফলপ্রসূ হবে। কারণ গত বছরের ১৫ নভেম্বর উভয় দেশের ব্যাপক প্রস্ততি থাকার পরও রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো যায়নি।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. আবুল কালাম বলেন, মিয়ানমার নিয়মিত তাদের নাগরিক রোহিঙ্গাদের যাচাইকৃত তালিকা দিচ্ছে। সম্প্রতি ছাড়পত্র দেয়া ৩ হাজার ৪৫০ জন রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে যাচ্ছে মিয়ানমার। সবকিছু ঠিক থাকলে সীমান্তের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম মৈত্রী সেতু ও টেকনাফের নাফ নদের কেরুনতলীর প্রত্যাবাসন ঘাট দিয়ে ওই সব রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরে যাবে। রোহিঙ্গাদের জন্য ওখানে একটি কাঠের সেতু এবং আধা সেমি পাকা ৩৩টি ঘরও নির্মাণ করা হয়েছে। রয়েছে ৪টি শৌচাগার। এটি দেখভাল করার জন্য ১৬ আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে একটি বৈঠক রোববার অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২২ আগস্ট রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার ব্যাপারে আমরা ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি।