• আগস্ট ২০, ২০১৯
  • মৌলভীবাজার
  • 23
দুই বছর ধরে সাত পরিবার অবরুদ্ধ

মৌলভীবাজার প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে সীমান্তবর্তী ইসলামপুর ইউনিয়নের উত্তর কানাইদেশী গ্রামে একটি রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় সাতটি পরিবার প্রায় দুই বছর ধরে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। গত রোববার ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সদস্যরা এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

গ্রামের রাস্তাটি বন্ধ করায় স্কুল, মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীসহ এ সাত পরিবারের অর্ধশতাধিক লোকের যাতায়াতে চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। রোববার দুপুরে প্রথমে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর শিশু ও নারীরা এসে নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। গতকাল সোমবার সকালে আবার ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে পুরুষ সদস্যরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে করা লিখিত অভিযোগে জানা যায়, ইসলামপুর ইউনিয়নের রাজকান্দি সংরক্ষিত বনসংলগ্ন সরকারি জমির ওপর রাস্তা দিয়ে ইউনিয়নের উত্তর কানাইদাশী গ্রামের রফিক মিয়া, ইব্রাহিম মিয়া, ছাবির মিয়া, কবির মিয়া, আজমল মিয়া, রকিব আলী ও রহিম মিয়া এবং তাঁদের পরিবার সদস্যরা যুগ যুগ ধরে ব্যবহার করে আসছেন। দুই বছর আগে গ্রামের মছদ্দর আলীর ছেলে কছির মিয়া, রশিদ মিয়া ও বশির মিয়া রাস্তাটি বন্ধ করে দেন। এরপর থেকে স্কুল ও মাদ্রাসার কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ সাত পরিবারের অর্ধশতাধিক লোক কাদামাটি ও পানি অতিক্রম করে অনেক ঘরে অন্য পথ দিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করছেন। এতে শিক্ষার্থীদের বই, খাতা পানিতে ভিজে নষ্ট হচ্ছে এবং চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

বিষয়টি প্রাথমিকভাবে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানিয়েও কোনো ফল পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি প্রথম দফা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেও কোনো সাড়া পাননি আবেদনকারীরা। সর্বশেষ রোববার দুর্ভোগের শিকার সাত পরিবার সদস্যদের স্বাক্ষরিত আবেদন কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দাখিল করা হয়। গতকাল সকালে আবার দুর্ভোগের শিকার পরিবারের পুরুষ সদস্যরা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত রহিম মিয়ার ছেলে কছির মিয়ার মুঠোফোনে কয়েক দফা ফোন করলেও তিনি ধরেননি।

কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. রফিকুর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে তিনি খোঁজ নিয়ে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন। তাই তদন্ত করে রাস্তাটি খুলে দিতে নির্বাহী কর্মকর্তাকে বলেছেন।

গতকাল দুপুরে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক বলেন, সম্ভবত রাস্তাটি সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত। তাই তিনি উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের জরিপকারীকে (সার্ভেয়ার) নির্দেশনা দিয়েছেন দ্রুত তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে। এরপর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।