• সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৯
  • মৌলভীবাজার
  • 100
একার উদ্যোগ, কাজে সবাই

মৌলভীবাজার প্রতিনিধিঃ ব্যবসায়ী, ক্রেতা, পথচারী, বাসাবাড়ির লোকজন যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ছুড়ে ফেলেন। সড়কের পাশে, বিভিন্ন দোকান ও বাসাবাড়ির সামনে জমে ময়লা-আবর্জনা। এতে এলাকায় সৃষ্টি হয় অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ। মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলা শহরে এ যেন নিত্যদিনের চিত্র।

তবে এখন থেকে এমন পরিবেশ আর দেখতে হবে না শহরবাসীকে। এলাকা পরিচ্ছন্ন রাখতে এক ব্যবসায়ী নেতা উদ্যোগ নিয়েছেন। এর অংশ হিসেবে প্রতি শনিবার সবাই মিলে এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হবে।

গত শনিবার ছিল এই কার্যক্রমের প্রথম দিন। এদিন বড়লেখা পৌরসভার ভূমি অফিস-সংলগ্ন এলাকা থেকে হাটবন্দ সড়কে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়। এ সময় ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারে স্বেচ্ছাশ্রমে হাত লাগান এলাকার অনেকেই। এই কার্যক্রমের উদ্যোক্তা বড়লেখা হাজীগঞ্জ বাজার বণিক সমিতির কোষাধ্যক্ষ শৈলেন্দ্র চন্দ্র দেবনাথ। বাজারটি বন্ধ থাকে প্রতি শনিবার। তাই প্রতি সপ্তাহে বন্ধের দিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন অভিযান চালানো হবে।

উদ্যোক্তা ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বড়লেখা পৌরসভার ভূমি অফিস-সংলগ্ন সড়কের প্রবেশমুখ থেকে হাটবন্দ এলাকার সড়কটির দুই পাশে, বিভিন্ন দোকান ও বাসাবাড়ির সামনে প্রায়ই বিভিন্ন ধরনের ময়লা-আবর্জনার স্তূপ জমে থাকে। এতে এলাকাটি যেমন অপরিষ্কার-অপরিচ্ছন্ন হয়ে ওঠে, তেমনি পলিথিনসহ বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিক বর্জ্যে পানি জমে সেখানে এডিসসহ বিভিন্ন মশার বংশবিস্তারের আশঙ্কা থাকে। এই অবস্থায় এলাকাটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে উদ্যোগ নিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতা শৈলেন্দ্র চন্দ্র দেবনাথ। তাঁর এই উদ্যোগে সাড়া দিয়ে এগিয়ে এসেছেন তরুণ ব্যবসায়ী বিপ্লব পাল, ব্যবসায়ী পুলক মোহন্ত, ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি আজিম উদ্দিন, পরিতোষ পাল, ব্যবসায়ী রুবেল আহমদসহ অনেকেই। তাঁরা নিজেরাই পরিষ্কারে হাত লাগান। আবর্জনার জঞ্জাল জড়ো করে টুকরিতে ভরে নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে গিয়ে ফেলেন। শনিবার ভূমি অফিস-সংলগ্ন সড়কের প্রবেশপথ থেকে হাটবন্দ সফিরুন নেছা মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সামনে পর্যন্ত পরিষ্কার করা হয়। তাঁদের এ কাজ দেখে তাৎক্ষণিকভাবে আরও অনেকে এগিয়ে আসেন। পরিষ্কারের কাজে হাত লাগান।

শৈলেন্দ্র চন্দ্র দেবনাথ বলেন, ‘শনিবার হাজীগঞ্জ বাজার সাপ্তাহিক বন্ধ থাকে। প্রতি শনিবারে এলাকাটিতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন অভিযান চালানো হবে। আমার সঙ্গে মহল্লার কয়েকজন ছেলে আছে। পলিথিনসহ বিভিন্ন প্রকারের ময়লা-আবর্জনায় পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। এখান থেকে ডেঙ্গু মশার জন্ম হতে পারে। এ ছাড়া পলিথিন ড্রেনে পড়ে পানিনিষ্কাশন বন্ধ হয়ে যায়। এসব ভেবে এই কাজ শুরু করেছি। মানুষকে সচেতন হওয়ারও পরামর্শ দিচ্ছি। যেখানে–সেখানে পলিথিন ও ময়লা–আবর্জনা না ফেলার অনুরোধ করছি। আমাদের এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’

বড়লেখা হাজীগঞ্জ বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছাদ উদ্দিন বলেন, ‘এটা একটা প্রশংসনীয় উদ্যোগ। আমাদের পরিবেশটাকে আমাদেরই রক্ষা করতে হবে। সুন্দর রাখতে হবে। এ রকম ব্যক্তিগত উদ্যোগে অন্য মানুষকেও উৎসাহিত করবে।’