• সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৯
  • জাতীয়
  • 92
তাহিরপুরের সেই ইউএনওকে জয়েনিং দেওয়া হবে না: আইসিটি বিভাগ

নিউজ ডেস্কঃ নারী কেলেঙ্কারী ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠা সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সেই নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ ইমতিয়াজকে গ্রহণ করেনি সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ।

সম্প্রতি বিভিন্ন অনিয়ম ও নারী ঘটিত নানা অভিযোগ ওঠায় তাকে বদলি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। আইসিটি বিভাগের সহকারী নিয়ন্ত্রক হিসেবে রোববার যোগ দিতে গেলে গ্রহণ করেনি সংশ্লিষ্ট দফতর। আইসিটি বিভাগের সচিব এন এম জিয়াউল আলম বলেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে তাহিরপুরের সাবেক ইউএনও আসিফ ইমতিয়াজকে এখানে (আইসিটি বিভাগ) বদলি করা হয়। তবে আমরা তাকে এখনও রিসিভ করিনি এবং করাও হবে না। তিনি গতকাল (রোববার) এসেছিলেন।

‘দাফতরিক কাগজপত্র দেখেছি কিন্তু আমরা তাকে গ্রহণ করব না। এর জন্য আমরা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেব। বাকিটা তারা বুঝবেন।’ এ বিষয়ে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকও অবগত রয়েছেন বলে জানান তিনি।

সচিব জিয়াউল আলম বলেন, এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী মহোদয় অবগত আছেন। ইতিমধ্যে তিনি জানিয়েছেন, তাকে (আসিফ) আমরা দায়িত্বভার দেব না। আইসিটি বিভাগে আমরা এমন কোনো বিতর্কিত কর্মকর্তাকে রাখতে পারি না। তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে বলে শুনেছি।

‘তদন্তে কী হবে, না হবে সেটা সংশ্লিষ্টদের ব্যাপার। তবে এখন তাকে আমাদের এখানে জয়েনিং দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী মহোদয়।’
উল্লেখ্য, তাহিরপুর উপজেলার সাবেক ইউএনও আসিফ ইমতিয়াজের বিরুদ্ধে এক তরুণীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগ উঠেছে।

একই সঙ্গে ওই তরুণীকে না জানিয়ে তার নামে বিভিন্ন দলিল দিয়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা ও লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় গত বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) আসিফকে আইসিটি বিভাগের কন্ট্রোলার অব ডিজিটাল সার্টিফাইং অথরিটি বিভাগে সহকারী নিয়ন্ত্রক পদে বদলি করা হয়। নতুন কর্মস্থলে রোববারের মধ্যে যোগ দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে প্রজ্ঞাপনে।

ওই সময়ের মধ্যে যোগ না দিলে ‘স্ট্যান্ডরিলিজ’ (তাৎক্ষণিক অব্যাহতি) হয়ে যাবেন তিনি। এ বিষয়ে আসিফ ইমতিয়াজ গণমধ্যমকে বলেন, আইসিটি বিভাগের সচিবের কাছে আমার পোস্টিং লেটার জমা দেওয়া হয়েছে। তার অনুমতি ছাড়া আমি কোনো মন্তব্য করতে পারি না।

উল্লেখ্য, ওই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি ২টি অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে। একটি হল, প্রেমিকার সম্মতি ছাড়াই গোপনে ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খুলে অস্বাভাবিক টাকা লেনদেন। এছাড়া বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অভিযোগকারী নারীর সঙ্গে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে সময় কাটানো। এ বিষয়ে ৪ সেপ্টেম্বর একটি জাতীয় পত্রিকা ও টিভিতে তথ্যসমৃদ্ধ সংবাদ প্রকাশিত হলে সারা দেশে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

গত মাসে জামালপুর জেলার ডিসি আহমেদ কবীরের বিরুদ্ধে অফিসের নারী কর্মীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর এবার তাহিরপুর ইউএনও আসিফ ইমতিয়াজের এই ঘটনা আগুনে ঘি ঢালার অবস্থা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সবার ধারণা ছিল, অভিযুক্ত ইউএনও আসিফ ইমতিয়াজকে ওএসডি করা হবে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে তাকে ঢাকায় বদলি করায় অনেকে ক্ষোভ অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

তারা বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন ছাড়াও ইউএনও’র ফোনালাপের যে রেকর্ড সর্বত্র ভাইরাল হয়েছে তাতে তাকে ন্যূনপক্ষে ওএসডি করা উচিত ছিল।

এদিকে এ বিষয়ে ভুক্তভোগী নারী বৃহস্পতিবার বলেন, ‘আসিফ ইমতিয়াজকে ঢাকায় একটি মন্ত্রণালয়ে বদলি করায় তিনি মানসিকভাবে আরও ভেঙে পড়েছেন। কেননা, তিনি যদি এখনও কোনো কর্মস্থলে বহাল থাকেন তাহলে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তদন্ত ও প্রশাসনিক শাস্তির প্রক্রিয়া পদে পদে বাধাগ্রস্ত করবেন। এমন আশঙ্কা ছাড়াও ভুক্তভোগী নিজেকে নিরাপদ মনে করছেন না বলে দাবি করেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করাসহ আসিফ ইমতিয়াজের প্রাপ্য শাস্তি চান।

ভুক্তভোগীর নারীর সঙ্গে পরিচয়ের সময় আসিফ ইমতিয়াজ চট্টগ্রামে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এলএ শাখায় ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা (এলএও) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। প্রাথমিক পরিচয়ের সূত্র ধরে তিনি তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন।

এক পর্যায়ে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ফ্ল্যাট ও আবাসিক হোটেল ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন। ততদিনে গোপনে বিয়েবহির্ভূত বিষয়টি অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি ঘনীভূত হয়ে ওঠে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিয়ে করতে না চাইলে বিপত্তি ঘটে। ভুক্তভোগী নারী প্রতিকার চেয়ে গত ৫ মে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন।