• সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৯
  • শীর্ষ খবর
  • 82
২৪ সেপ্টেম্বর ইতিহাস সৃষ্টি করতে চায় সিলেট বিএনপি

নিউজ ডেস্কঃ সিলেটে ২৪ সেপ্টেম্বর বিভাগীয় সমাবেশের মধ্য দিয়ে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করতে চায় বিএনপি। ওইদিন নগরীর ঐতিহাসিক রেজিস্ট্রারী মাঠ জনসমুদ্রে পরিণত করা হবে এবং এটাই সিলেটের মাটিতে নতুন ইতিহাস।

বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ২৪ সেপ্টেম্বর সিলেটের ঐতিহাসিক রেজিস্ট্রারি মাঠে বিভাগীয় সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। এতে দলের কেন্দ্রীয় মহা সচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

উপসিস্থত থাকবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, মির্জা আব্বাস, বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ জাতীয় নেতৃবৃন্দ।

রোববার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন নেতৃবৃন্দ। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক দল বিএনপির পক্ষ থেকে সিলেটের সমাবেশ সফল কবতে সব ধরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রশাসনকেও সমাবেশের বিষয়টি লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। দু:খজনক হলেও সত্য যে, এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিবাচক বা নেতিবাচক কিছুই জানানো হয়নি। এক সপ্তাহ থেকে এসএমপি কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করলেও সুযোগ পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে না, অভিযোগ বিএনপি নেতাদের।

পুলিশের দ্বিমুখী আচরণে বিস্ময় প্রকাশ করে নেতৃবৃন্দ বলেন, অথচ প্রতিদিনই নগরীতে সভা-সমাবেশ হচ্ছে। তাদের বিশ্বাস শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের সহযোগীতা পাবেন।

নেতৃবৃন্দ গণমাধ্যমের প্রসংশা করে বলেন, বিভাগীয় সমাবেশ সফল করতে সাংবাদিকদের সহযোগীতা অগ্রভাগে প্রয়োজন। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সমাবেশ সফল করতে চান তারা।

বিএনপির নেতৃবৃন্দ বলেন, বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে দীর্ঘদিন থেকে ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় ফরমায়েসী রায়ে কারাগারে আটক করা হয়েছে। কারাবদ্ধ অবস্থায় তিন বারের প্রধানমন্ত্রী গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। দেশে হাজার কোটি টাকা লুটপাটের মহোৎসব চলছে, সেখানে মাত্র দুইকোটি টাকার মামলায় খালেদা জিয়াকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে সাজা দেওয়া হয়েছে। অথচ নেত্রী কোনো টাকা আত্মসাত করেননি। বরং ২ কোটি টাকাকে বৃদ্ধি করে ৬ কোটি করা হয়েছে। যে সব মামলায় নেত্রীকে সাজা দেওয়া হয়েছে, সেসব মামলা ১/১১’র সময়ে দায়ের করা। সেই সময়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দায়ের করা সকল মামলা প্রত্যাহার করা হলেও সেই মামলায় বিএনপির চেয়ারপার্সন এখনো কারাবন্দি। যা সরকারের নগ্ন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার নগ্ন বহি:প্রকাশ বলে মনে করেন নেতারা।

তারা বিএনপির চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নি:শ্বর্ত মুক্তি, দেশ নায়ক তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ফরমায়েসী সাজা বাতিল, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও বর্তমান সংসদ ভেঙে সকল দলের অংশগ্রহণে অবিলম্বে একটি অবাদ সুুষ্টু নির্বাচনের দাবিতে ২৪ সেপ্টেম্বরের বিভাগীয় সমাবেশ। সেই সমাবেশে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। ওইদিন রেজিস্ট্রারি মাঠ জনসমুদ্রে পরিণত হবে, আশাবাদি নেতৃবৃন্দ।

সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ বএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলী, ইফতেহার হোসেন দিনার, জুনেদ আহমদ, গাড়ি চালক আনসার আলীসহ গুম হওয়া নেতাকর্মীদের অক্ষত অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান। এছাড়া দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি, অনিয়ম-দুর্নীতি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধিসহ ক্ষমতাসীন সরকারের সৃষ্ট সীমাহীন জনদুভোগের চিত্র সিলেটবাসীর সামনে তুলে ধরা হবে।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক কলিম উদ্দিন মিলন ও দিলদার হোসেন সেলিম, জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাহের চৌধুরী শামিম, কেন্দ্রীয় সদস্য মিজানুর রহমান চৌধুরী, মহানগরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামীম সিদ্দিকী, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান হাবিব, কামরুল ইসলাম জায়গিরদার রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, মাহবুবুর রব চৌধুরী ফয়ছল, মিফতাহ সিদ্দিকী, হাসান পাটোয়ারি রিপন, সৈয়দ তৌফিকুল হাদি, আবুল কাশেম, মাহবুবুল হক চৌধুরী, রেজাউল করিম আলো, আব্দুল মালিক, জেলা ছাত্রদল সভাপতি আলতাফ হোসেন সুমন, নগরের সভাপতি ফজলে রাব্বি আহসান, জেলা শ্রমিক লীগ সভাপতি সুরমান আলী, সাধারণ সম্পাদক ইউনুছ মিয়া প্রমুখ।