• সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৯
  • বিজ্ঞপ্তি
  • 37
সরকারি কলেজ শিক্ষক সমিতির ৭ দফা বাস্তবায়নের দাবি

নিউজ ডেস্কঃ সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী দেশের ২৯৯টি কলেজ সরকারি করণে চিহ্নিত মহলের অপচেষ্টায় দীর্ঘসূত্রিতা সৃষ্টি হয়েছে। এর অবসানে ৭ দফা দাবি পেশ করেছেন সরকারি কলেজ শিক্ষক সমিতি (সকশিস) সিলেট জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ।

বুধবার বিকেলে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তারা তাদের দাবিগুলো তুলে ধরেন।

দাবিগুলো হচ্ছে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিষয়ভিত্তিক সমন্বিত পদ সৃজন ও পদায়ন, বৈধভাবে নিয়েগ প্রাপ্ত সকল শিক্ষক-কর্মচারীকে আত্তীকরণ, কলেজ শিক্ষক ও কর্মচারী আত্তীকরণ বিধিমালা (২০১৮ এর ১৫ ধারার ২ উপধারার (ক) ও (খ) অনুচ্ছেদ অনুসরনের মাধ্যমে পদায়ন সম্পন্ন করণ, দ্রুততম সময়ের মধ্যে আত্তীকরণ বিধিমালা ২০১৮ এর ৮-ধারা মোতাবেক ক্যাডার ভূক্তির বিধিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, দ্রুত পদ সোপান তৈরি ও পদোন্নতির শর্তাবলী প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, শতভাগ চাকরিকাল গণনা এবং কার্যকরী চাকরিকাল পদোন্নতিসহ সব জায়গায় কার্যকর করা, অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বেতন স্কেল নির্ধারণ করা ইত্যাদি।

মতবিনিময়কালে তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগের মেয়াদে ক্ষমতায় থাকাকালীন তিন ধাপে ২৯৯টি কলেজ সরকারিকরণের ঘোষণা দেন।

তারা বলেন, জাতীয়করণের লক্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আদেশে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট কলেজগুলোর সম্পদ ও অন্যান্য বিষয় যাচাই-বাছাই ও হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। কিন্তু বি.সি.এস. সাধারণ শিক্ষা সমিতির আপত্তি ও অসহযোগিতার কারণে এক বছর সময় অপচয় করে ২০১৮ সালের ১২ আগস্ট প্রতিষ্ঠান সরকারিকরণের আদেশ জারি হয়। ফলে প্রায় দুই হাজার শিক্ষক কর্মচারী সরকারিকরণের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে অবসরে চলে গেছেন। সরকারিকরণের জন্য নির্বাচিত হওয়ার পর শিক্ষা মন্ত্রনালয় ও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশে ৯টি আঞ্চলিক অফিসের পরিচালক ও সহকারি পরিচালকের নেতৃত্বে কলেজগুলো পরিদর্শন করা হয়েছে। পরিদর্শন টিম একটি পরিদর্শন প্রতিবেদনও মাউশি-তে যথাসময়ে জমা দিয়েছেন।

এসব পরিদর্শন প্রতিবেদনকে মূল্যায়ন না করে ২০১৮ সালের ৭ এপ্রিল পত্রানুসারে ২৯৯টি কলেজের শিক্ষক কর্মচারীদের আত্তীকরণের জন্য শিক্ষা স্তরের ১ম ও শেষ অধিভূক্তির পত্রাদেশের কপিসহ প্রয়োজনীয় সব ডকুমেন্ট ডিসি/ ইউএনওর মাধ্যমে যাচাই-এর পর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর ২০১৯ সালের ১৬ মে জমা নেয়। জমাকৃত ফাইলসমূহ যাচাই বাছাই না করে কপিগুলোর মূল কাগজ মাউশিতে পূনঃরায় উপস্থাপন করতে হচ্ছে। উপস্থাপিত কলেজগুলোর কাগজপত্রাদি যাচাই করে মাউশি যে সমস্ত কলেজের ফাইল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে সেগুলো আবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ডিজিতে এনে পুনরায় যাচাই-বাছাই হচ্ছে। এভাবে যাচাই-বাছাই করা হলে কত সময় লাগবে তা ভেবে দেখার বিষয়। তারা বলেন, আবার শুনা যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও আবারও প্রত্যেক কলেজের নিকট থেকে সব মূল কাগজ যাচাই করবে। এভাবে দীর্ঘসূত্রিতা, কালক্ষেপন ও হয়রানি বৃদ্ধি হচ্ছে বলেও তারা অভিযোগ করেন। বিভিন্ন অজুহাতে স্বার্থান্বেষী ও সুবিধাভোগী মহল সরকারের মহতী উদ্যোগ ও মহান অর্জনকে নস্যাতের পাঁয়তার করছে এবং ইতোমধ্যেই প্রায় তিনবছর সময় লেগেছে।

এ কারণে সাধারণ অভিভাবক, শিক্ষার্থীসহ প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকারিকরণের সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এই বঞ্চনার অবসানের জন্য তারা তাদের ৭ দফা দাবি অবিলম্বে বাস্তবায়নের দাবি জানান। মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, সরকারি কলেজ শিক্ষক সমিতি (সকশিস) সিলেট জেলা শাখার সভাপতি মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ, সাধারণ সম্পাদক জুলহাস আহমদ, সিলেট বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শাহেদ আহমদ, সহ সভাপতি কমলপানি চৌধুরী, সিলেট জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইদ্রিস আলী, সিলেট বিভাগীয় কমিটির সহ সভাপতি আদিবা খানম, সিলেট জেলা শাখার ক্রিড়া সম্পাদক যীশুতোষ দাস, সিলেট বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম, গোপিকা রঞ্জন দাস (কাজল), দীপু কুমার ও কেন্দ্রীয় কমিটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অসীম কুমার তালুকদার প্রমুখ।