• অক্টোবর ৮, ২০১৯
  • মতামত
  • 29
“আমরা এখনো মানুষ হতে পারছিনা,আমরা হিপোক্রেট”

মতামতঃ মানুষের ভুলে যাওয়ার প্রবনতা বেশী।আর আমাদের ক্ষেত্রে একটু বেশিই বটে।অতীতকে ভূলে গিয়ে হঠাৎ করে হাতেমতাই সেজে লাভ কি??এদেশের প্রকৃত ইতিহাসকে যারা বিকৃত করেছে,কৃষ্টি,ঐতিহ্য, হাজার বছরের লালিত সংস্কৃতিকে নিয়ে যারা পুতুল খেলা খেলতেছিল আজ তারাই ততাকথিত হাইব্রীড, কাউয়া হয়ে বিভিন্ন জায়গায় অপকর্ম করে বেরাচ্ছে আর দোষ দিচ্ছে ক্ষমতাসীনদের।এটা হতে পারে না,বিচার করতে হবে আগে যারা বিভিন্ন পন্থায় বিভিন্ন সময়ে দলে যারা অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছে তাদের,শুধু অনুপ্রবেশকারীদের নয়!!!আমরা পরশ্রী কাতর মানুষ,মায়ের থেকে মাসির দরদ বেশী এমন টাইপের, যা আমাদের অনেক কাজেই ভোগায়!!আমরা অত্যান্ত আবেগীয় বটে,যারদরুন অনেক সত্য ঘটানাকেও ভুলে থাকতে পছন্দ করি।অতীতে অনেক ঘটনা ঘটে যে, কেউ প্রতিবাদ করার সাহসটুকু পায়নি বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ক্যাম্পাসে,পাড়ায় মহল্লায় ঘটে যাওয়া নিঃসংশ হত্যাকান্ডের,এমন পরিবেশ তৈরি করে রেখেছিল একটি ততাকথিত মহল সারা দেশ জুড়ে।

আমরা ভুলে যাই,আমরা ভুলে যেতে সাচ্ছন্দ্যবোধ করি,আমরা হিপোক্রেট,আমরা গিরগিটি, আমরা আত্মকেন্দ্রিক নিজের স্বার্থ ছাড়া চলিনা,প্রয়োজনে বাপ অপ্রয়োজনে, চুদির ভাই!!এই যখন অবস্থা তাহলে কিছু অতীত নিয়ে কথা বলতে হয়, শুরু করতে হয় সেই ১৭৫৭ সালের পলাশীর প্রান্তর থেকে।কিন্তু সময় কই এতো কথা বলার আমরা যে হিপোক্রেট, কি হবে এসব ইতিহাস জেনে, আমরা কি অতীতের ঘটনাবলি থেকে শিক্ষা নিতে পারবো,আমরা যে আত্মকেন্দ্রিক , কেউ কি খাবে এই সব অগোছালো কতাবার্থা?????শুধু এইটুকু বলতে চাই, প্রতিটা হত্যাকাণ্ডই অন্যায়,আর যারা অন্যায়ের পক্ষ নেয় সেও অন্যায়ের সামিল।নিজের নীতি-আদর্শের পক্ষে আর অন্যায় অবিচার, দূর্নীতির বিরুদ্ধে লিখতে গেলে অফুরন্ত সাহস লাগে,এ সাহস আমার আছে।আমি আবরার হত্যার বিচার চাই!বিচার হওয়া অবশ্যই দরকার।তবে লাশকে নিয়ে রাজনীতি করতে নেই, যারা করে তারা নোংরা,নিচু রাজনৈতিক পিলোসপী লালন করে।যারা আবরার কে হত্যা করেছে তারাই বা কারা,আর কেনই বা এই হত্যাকান্ড? ভিন্নমত পোষণ করলেই যদি কাউকে মেরে ফেলতে হয় তাহলেতো আমরা কেউই চলতে পারবো না।আর তারা এর ঠিকাদারি নিয়েনিছে।এরা নিশ্চই দুষ্কর্মকারী, এরা নিশ্চই পথভ্রষ্ট। সব থেকে কষ্ট লাগে এই ভেবে আবরার মা ছেলেকে হারানোর বেধনা নিয়ে বাচঁবে আর যারা এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে তাদের পিতামাতা বাচঁবে একজন খুনির পিতামাতা পরিচিয়ে। এই কষ্ট নিশ্চই হারানোর বেদনা থেকে অনেক ভারী,এই কালিমা কে ঘুচাবে তাদের উপর থেকে????দেশের সর্বোচ্ছ বিদ্যাপীঠে পড়ালেখা করিয়ে, উপাদী পাবে একজন খুনির পিতামাতা!!!এই কথা লিখতেই কষ্ট হচ্ছে, আমার বোধশক্তি নিস্তেজ হয়ে আসছে।তবে এইসব দৃষ্টান্ত বিভিন্ন সময়ে ক্যাম্পাসগুলোতে কারা সৃষ্টি করেছিল,আমাদের একটু অতীতে যেতেই হয়,অস্রের ঝনঝনানি দিয়ে অতর্কিত হামলা কারা চালিয়েছিল অতীতে তাদের কথাও বলতে হবে,বিচারহীনতার সংস্কৃতি কারা চালু করেছিল তাদের নিয়েও লিখতে হবে।আমি আবরার হত্যাকে অন্যকোন ঘটনার সাথে মিলাতে চাই না।প্রতিটা খুনই জগন্য, প্রতিটা প্রেক্ষাপই আলাদা।

আবরার হত্যার বিচার যেমন করতে হবে ঠিক তেমনি বিচার করতে হবে অতীতের সব হত্যাকান্ডের ও হত্যাকারীদের।উদাহারণ হিসেবে বলতে চাই-সেই বুয়েটেরই ছাত্র দ্বীপের, অনেক পুরোনে ‘৮০ দশকের সব থেকে নির্মম হত্যাখান্ড সিলেটের তপন মুনির জুয়েল হত্যাকান্ডের এবং এই সময়কালে সারা বাংলাদেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এর হত্যাকারীদের ,বিচার চাই চাপাতির আঘাতে যাদের জীবনপ্রদীপ নিভেয়ে দেওয়া হয়েছিল তাদের। আর যদি এইসবের বিচার চাওয়ার অধিকার কিংবা সাহস না রাখি, আর যেন একটা হত্যাকাণ্ড না ঘটে এই বাংলায়!!!আমরা সবাই মিলে যখন শুদ্ধ হওয়ার চেষ্টায় আছি তাহলে, কেন আমরা সাদাকে সাদা আর কালোকে কালো বলার সাহস রাখিনা!?? এই ভূখন্ডের মানুষ সবসময়ই অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়েছে,সেই ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে এখনো অবধি।আমরা বীরের জাতি আমরা কারো মুখাপেক্ষী নই,সকল অঅপপ্রচার আর গুজবকে রুখতে হবে কর্তব্যপরায়ণয়তা থেকে,দায়িত্ব নিয়ে।অন্যায়কারী যে কেউই হোক রুখতে হবে,রুখে দিতে হবে সব দূর্নীতিবাজদের।নিজের দেশের স্বার্থ দেখতে হবে আগে,ব্যাক্তির চেয়ে দল বড় আর দলের থেকে রাষ্ট্র।াই তেমনিভাবে আমাদের সবার ভাবনায় দেশের ভালোর দিকটাই দেখতে হবে,এতে যতোই সংকট আর ক্রান্তিকালে থাকি না কেন!!তাহলেই আমরা একটা শুদ্ধ বাংলাদেশ পাবো!! সবকিছুর পরে আমরা শুদ্ধ,প্রকৃত মানুষ হওয়ার শপথ নিয়ে মৃত্যঞ্জয়ের পথে আমাদের চেতনার বাতিঘর মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালন করে একই আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে এগিয়ে যেতে হবে।তাহলেই হয়তো আমরা উন্নত,সমৃদ্ধ শুদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে পারবো!!!

অনুরোধ একটাই, দাবি একটাই আমাদের দেশটাকে ভালবেসে সোনার বাংলা গড়তে চাই।যারা একসময় বাংলাদেশকে “Bottomless Basket” বলেছিল আশাকরি তারাই একসময় বলবে- “Now,Bangladesh is not bottomless Basket, Bangladesh is the Icon of Whole World”বাংলাদেশ হচ্ছে বিশ্বের রোল মডেল!!!রক্তদিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করা বাংলাদেশ বিশ্ব উঠানে মাথা নত করে নয়,মাথা উঁচু করেই নেতৃত্ব দিবে!এটাই হচ্ছে “বঙ্গবন্ধুর” সোনার বাংলা…….

লেখক: মাহবুব আলম তালুকদার
সংগঠক-ভূমিসন্তান বাংলাদেশ ও
শিক্ষানবিশ আইনজীবী-সি.জ.কোর্ট।