• অক্টোবর ১৭, ২০১৯
  • শীর্ষ খবর
  • 64
বিল নিয়ে মারামারি–খুনোখুনির এক গ্রাম কেজাউড়া

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ শিশু তুহিনের ছোট দেহটির ওপর পৈশাচিকতা নাড়া দিয়েছে দেশের মানুষকে। তবে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার কেজাউড়া গ্রামে মারামারি, মামলা, খুনোখুনি নতুন কিছু নয়। হাওরপারের এই গ্রামের আটটি বিলের দখল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিবাদ দীর্ঘদিনের।

গত ১৮ বছরে দুই পক্ষের মধ্যে চারটি হত্যাকাণ্ডের তথ্য পাওয়া যায়। মারামারি হয় প্রায়ই। এসব নিয়ে মামলাও হয়েছে প্রচুর। সংঘর্ষ–মারামারিতে ত্যক্ত–বিরক্ত গ্রামের বেশির ভাগ মানুষ, অনেকে সর্বস্বান্ত মামলায়। ওই বিবাদের জেরেই প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে গত রোববার রাতে শিশু তুহিনকে তারই বাবা–চাচারা পৈশাচিক কায়দায় হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখেন বলে জানিয়েছেন পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন।

দিরাইয়ের কালিয়াকোটা হাওরের পূর্ব পারে কেজাউড়া গ্রাম। চার’শ পরিবারের মতো বাস। গ্রামের আটটি বিল নিয়ে আবদুল মছব্বিরের পরিবারের সঙ্গে সাবেক ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেনের লোকজনের দ্বন্দ্ব। মছব্বিরের ভাই নিহত শিশু তুহিনের বাবা আবদুল বাছির।

জেলার পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানালেন, কেজাউড়া গ্রামের বিল নিয়ে মারামারির সাত–আটটি মামলা তদন্তাধীন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ২০১৫ সালের অক্টোবর মাসের শুরুতে বিল নিয়ে আনোয়ার মেম্বার ও মছব্বিরের পরিবারের মধ্যে মারামারি হয়। এরপর ৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় গ্রামের রাস্তার পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় মছব্বিরের এক ভাইয়ের ছেলের স্ত্রী নিলুফা বেগমের লাশ পাওয়া যায়। তাঁর শরীরে ধারালো অস্ত্রের ৩১টি আঘাত ছিল। সঙ্গে সঙ্গে বাছিরের পরিবারের লোকজন আনোয়ার মেম্বারের বাড়িঘরে হামলা, লুটপাট চালায়। এরপর মামলা হয় আনোয়ারসহ তাঁর ১৬ জন আত্মীয়ের বিরুদ্ধে।

এর আগে ২০০৮ গ্রামে মছব্বিরদের এক আত্মীয় জবর আলীকে হত্যার অভিযোগে আনোয়ার মেম্বারের লোকজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। ওই মামলার আসামি এলাইছ মিয়া বলেন, জবর আলী নিজের ঘরে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। পরে তাঁর লোকজনই তাঁর লাশ হাওরে নিয়ে কাদাপানিতে পুঁতে রেখে মামলা করেন। এর আগে ২০০১ সালে গ্রামে মুজিব মিয়া নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এই মামলার অন্যতম আসামি তুহিনের বাবা আবদুল বাছির।