• নভেম্বর ৩, ২০১৯
  • শীর্ষ খবর
  • 42
কলেজে ফিরতে চায় সুনামগঞ্জের সৈকত

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ হঠাৎ করেই কোমরের নিচের অংশ অবশ হয়ে গেছে সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের ছাত্র সৈকত তালুকদারের। সে আর দাঁড়াতে পারছে না। চিকিৎসকেরা বলছেন, সৈকত ভাইরাসজনিত জটিল এক রোগে আক্রান্ত। দ্রুত চিকিৎসা করাতে হবে। তা না হলে শরীরের অন্যান্য অংশে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।

সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের ছাত্র সৈকত তালুকদার আগামী বছর এইচএসসি পরীক্ষা দেবে সে। বিজ্ঞান বিভাগের এই মেধাবী শিক্ষার্থী একাদশ শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় প্রথম হয়েছে। তার গ্রামের বাড়ি জামালগঞ্জের দৌলতপুরে। বর্তমানে সিলেটের এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

সৈকতের বাবা সুভাষ তালুকদার একজন কৃষক। তাঁর পক্ষে এই চিকিৎসার ব্যয়ভার কোনোভাবেই বহন করা সম্ভব নয়। এখন হাসপাতালের ব্যয় মেটাতেই হিমশিম খাচ্ছে তাঁর পরিবার। সৈকতের সহপাঠী, গ্রামবাসী মিলে কিছু সহযোগিতা করে সেটি চালিয়ে নিচ্ছেন। চিকিৎসকেরা বলছেন, সৈকতের চিকিৎসায় প্রায় ১০ লাখ টাকা লাগবে।

সৈকতের বড় ভাই সাগর তালুকদার জানান, গত ২৪ অক্টোবর সৈকত হঠাৎ করে পায়ে ব্যথা অনুভব করে। এরপর সে দাঁড়াতে পারছিল না। পরে তাকে সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে চিকিৎসকেরা সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। ওই হাসপাতালে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ধরা পড়ে, জিবিএস ভাইরাসে আক্রান্ত সৈকত। সাগর তালুকদার বলেন, ‘অনেক কষ্ট করে আমরা দুই ভাই ও এক বোন লেখাপড়া করছি। খেয়ে না খেয়ে দিন যাচ্ছে। এ অবস্থায় ভাইয়ের চিকিৎসা করাব কেমনে?’

সৈকত তালুকদার বলেন, ‘আমি গরিব ঘরের সন্তান। অনেক স্বপ্ন নিয়ে কলেজে ভর্তি হয়েছি। টিউশনি করে শহরে থাকা-খাওয়ার খরচ জোগাড় করছি। আমি বুঝতে পারছি না কীভাবে এত বড় রোগ হলো। আমি কি আর দাঁড়াতে পারব না, কলেজে যেতে পারব না?’

সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ নীলিমা চন্দ বলেন, ‘ছেলেটি মেধাবী। ছাত্রদের কাছ থেকে শুনে আমরাও চিন্তা করছি কীভাবে তার পাশে দাঁড়ানো যায়। সমাজের অন্যদের প্রতিও আহ্বান জানাচ্ছি তার চিকিৎসায় সহযোগিতা করার জন্য। সবাই মিলে চেষ্টা করলে সৈকত হয়তো আবার দাঁড়াতে পারবে।’