• ডিসেম্বর ৮, ২০১৯
  • শীর্ষ খবর
  • 74
বিশ্বনাথে ডাকাত–আতঙ্কে নির্ঘুম এক রাত

বিশ্বনাথ প্রতিনিধিঃ সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার গ্রামে ডাকাত–আতঙ্কে নির্ঘুম এক রাত কাটিয়েছেন গ্রামবাসী।

গতকল শনিবার রাতে হঠাৎ খবর ছড়িয়ে পড়ে, উপজেলায় ঢুকে পড়েছে একদল সশস্ত্র ডাকাত। পুলিশের থেকে খবর পেয়ে জনপ্রতিনিধিরা সতর্ক করেন সাধারণ মানুষকে। বিভিন্ন মসজিদ থেকে মাইকিং করে সতর্ক করা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বিষয়টি। শেষ পর্যন্ত ডাকাত ঠেকাতে রাতভর পাহারা দেন স্থানীয় লোকজন।

ঘটনাটি ঘটেছে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায়। গতকাল রাত ১০টার পর থেকেই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে এই ডাকাত–আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বনাথ উপজেলায় আটটি ইউনিয়নে প্রায় ৪০০ গ্রাম আছে। বিশ্বনাথ সিলেটের প্রবাসী–অধ্যুষিত এলাকা। শীতের সময়ে প্রবাসীরা দেশে আসেন। সে কারণে বছরের এই সময়ে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। গত বুধবারও উপজেলার দৌলতপুর বাহাড়া দুবাগ গ্রামে আবদুল খালিকের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। গতকাল রাত ১০টার দিকে হঠাৎ বিশ্বনাথ থানার পুলিশের কাছে খবর আসে, সুনামগঞ্জের ছাতক থেকে একদল সশস্ত্র ডাকাত বিশ্বনাথে ঢুকেছে। খবর পেয়ে পুলিশ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জানায়। পরে জনপ্রতিনিধিরা স্থানীয় বাসিন্দাদের বিষয়টি জানিয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। ফেসবুকেও বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত ডাকাত–আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন গ্রামবাসী, রাত জেগে পাহারা দিয়েছেন। বিশ্বনাথ থানার পুলিশের ১১টি ভ্রাম্যমাণ দলও পাহারা দেয়।

 

উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আমির আলী বলেন, ‘পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে শনিবার রাতে আমাদের জানানো হয়, উপজেলায় ডাকাত দল ঢুকেছে। এমন খবর পাওয়ার পর আমি ইউপি সদস্যদের জানাই এবং গ্রামবাসীকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিই। শীতের সময় অনেক প্রবাসী দেশে ফেরেন বলে ডাকাতরা দল বেঁধে হামলা চালায়। প্রতিবছর স্থানীয় যুবকদের নিয়ে গ্রামগুলোয় রাত ১২টা থেকে ভোররাত চারটা পর্যন্ত পাহারার ব্যবস্থা করি। এবার এখনো পাহারা শুরু হয়নি। তারপরও শনিবার বিভিন্ন বয়সের মানুষ ডাকাত ঠেকাতে সারা রাত পাহারা দিয়েছেন।’

বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম মুসা বলেন, ‘আমাদের কাছে গোপন খবর ছিল, সুনামগঞ্জের ছাতক থেকে একদল সশস্ত্র ডাকাত আমাদের উপজেলায় ঢুকেছে। এমন খবরে আমরা টহল দল বাড়িয়ে দিই। পাশাপাশি উপজেলার জনপ্রতিনিধিদের বিষয়টি অবহিত করে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিই। আমাদের এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্কতার কারণে শনিবার রাতে উপজেলার কোথাও ডাকাতির ঘটনা ঘটেনি। এখন থেকে আমাদের ১১টি টহল দল রাতে উপজেলায় টহল দেবে।’