• জানুয়ারি ১৪, ২০২০
  • লিড নিউস
  • 57
সিলেট-চট্টগ্রাম রুটের উদয়ন-পাহাড়িকায় যুক্ত হচ্ছে নতুন কোচ

নিউজ ডেস্কঃ অবশেষে সিলেট-চট্টগ্রাম রুটের পাহাড়িকা ও উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনে যুক্ত হচ্ছে নতুন কোচ। আগামী ২৬ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইন্দোনেশিয়ার তৈরি নতুন এই কোচগুলো উদ্বোধন করবেন।

সেই সঙ্গে ঢাকা-জামালপুর রুটে নতুন ট্রেন ‘জামালপুর এক্সপ্রেসও উদ্বোধন করবেন তিনি।

রোববার (১২ জানুয়ারি) বাংলাদেশ রেলওয়ে অতিরিক্ত মহাপরিচালক মিয়া জাহান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ছিল রেলের সিলেট-চট্টগ্রাম রুটে। এর মধ্যে সিলেট চট্টগ্রামের ট্রেন উদয়ন ও পাহাড়িকা এক্সপ্রেস জীর্ণ দশায় চলছিল। ট্রেন দুটির বেশিরভাগ আসনই শোভন শ্রেণির। এই ট্রেনগুলোতে ৩৭৭ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়া কষ্টসাধ্য ব্যাপার। কারণ ট্রেনগুলোতে কোমর সোজা করে প্রায় ১০ ঘণ্টা ভ্রমণ করতে হয়। এছাড়া ঢাকা-সিলেট রুটে জয়ন্তিকা এক্সপ্রেসেও চলছে জীর্ণ দশা।

অতিরিক্ত মহাপরিচালক মিয়া জাহান জানান, এরপর জয়ন্তিকা ও কালনী এক্সপ্রেস কোচ পাচ্ছে। রেলপথ কর্তৃপক্ষ এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পরবর্তী সময়ে রেলের কোচ দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রাধান্য থাকবে মূলত সিলেট রুটে। এরপর কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ-মোহনগঞ্জ রুটে পুরাতন ট্রেন কোচ বদলে নতুন ইন্দোনেশিয়ান কোচে সজ্জিত করা হবে।

২৬ জানুয়ারি সিলেট-চট্টগ্রাম রুটের উদয়ন ও পাহাড়িকা এক্সপ্রেসে ১৪টি করে নতুন ইন্দোনেশিয়ান কোচ যুক্ত হবে বলে জানান অতিরিক্ত মহাপরিচালক।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য ড. একে আবদুল মোমেন বলেন, সিলেট রুটে নতুন ট্রেন কোচ দেওয়ার দাবি দীর্ঘ দিনের। এ নিয়ে ডিও লেটারও দেওয়া হয়েছে।

যত দ্রুত সম্ভব ঢাকা-সিলেট রুটে কালনী, জয়ন্তিকা ও উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনে নতুন কোচ দিয়ে এ অঞ্চলের মানুষের ট্রেন যাতায়াতের ভোগান্তি কমাতে রেল মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার তাগিদ দিয়েছেন মন্ত্রী।

রেলের নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, উদয়ন এক্সপ্রেস চট্টগ্রাম থেকে ছাড়ে রাত পৌনে ১০টায় এবং সিলেট পৌঁছে ভোর ৬টা। আবার সিলেট থেকে সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে ছেড়ে চট্টগ্রামে পৌঁছে বিকেল ৫টা ৫০মিনিটে। পাহাড়িকা এক্সপ্রেস সিলেট থেকে সকাল সোয়া ১০ টায় ছেড়ে চট্টগ্রাম পৌঁছে রাত ৭ টা ৩৫ মিনিটে। এছাড়া ট্রেনটি চট্টগ্রাম থেকে সিলেটের উদ্দেশে সকাল ৯ টায় ছেড়ে সিলেটে পৌঁছায় সন্ধ্যা ৬ টায়।

সিলেট-চট্টগ্রাম-সিলেট রেলপথে পাহাড়িকা ও উদয়ন এক্সপ্রেস মাত্র একটি এসি চেয়ার, একটি নন এসি কেবিন, দুটি শোভন চেয়ার ও একটি ডাইনিং শোভন চেয়ার। বাকিগুলো শোভন শ্রেণির আসন নিয়ে চলছিল। নতুন ইন্দোনেশিয়ান ১৪/২৮ কোচের লোডে চলবে উদয়ন ও পাহাড়িকা।

এদিকে ঢাকা-সিলেট রুটে জয়ন্তিকা, উপবন ও কালনী এক্সপ্রেস ট্রেন এখনও বেহাল দশার মধ্যে চলছে। ‘কালনী এক্সপ্রেস’ প্রথম শ্রেণির আন্তঃনগর ট্রেন হলেও নেই খাবার গাড়ি ও কোনো শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বগি।

অন্যদিকে জয়ন্তিকা ট্রেনে যাত্রীর চাপ থাকলেও প্রথম শ্রেণির আসন ও এসি কোচ ছিলো না। এখন নতুন করে কোচ সংযোজনে আসন ও এসি আসন বাড়ানো হবে বলে রেলওয়ে সূত্র জানায়।