• ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২০
  • জাতীয়
  • 124
মুজিব বর্ষে অতি উৎসাহি না হওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

নিউজ ডেস্কঃ জাতীয় সংসদ ভবন থেকে: মুজিব বর্ষ উদযাপন নিয়ে অতি উৎসাহি হয়ে বা বাড়াবাড়ি কিছু না করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। সেই সঙ্গে মুজিব বর্ষে গৃহহীনদের গৃহ দেওয়ার বিষয়টি প্রধান্য দেওয়ার নির্দেশও দেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ নির্দেশ দিয়েছেন। জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারি দলের সভা কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে আওয়ামী লীগের কয়েক জন নেতার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, সভায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, মুজিব বর্ষ উদযাপনে এমন কিছু করা যাবে না সেটা বাড়াবাড়ি হয়। ৭৫’এ বঙ্গবন্ধু হত্যার পর কি ধরণের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল সেটা আমাদের মনে রাখতে হবে। অতি উৎসাহি হয়ে কিছু করার দরকার নেই। মুজিব বর্ষ উপলক্ষে সেইসব কর্মসূচি নিতে হবে যেসব কর্মসূচির মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু সম্মানিত হন।

এ সসয় তিনি টিআর এর টাকায় বঙ্গবন্ধুর কোনো মোড়াল না করা এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের নীতিমালা অনুযায়ি মোড়াল তৈরি করার কথা বলেন। এক্ষেত্রে ট্রাস্টের অনুমোদন ছাড়া যত্রযত্র কোনো মোড়াল তৈরি করা যাবে না বলেও জানান তিনি।

সূত্র আরও জানায়, সভায় প্রধানমন্ত্রী মুজিব বর্ষে গৃহহীনদের ঘর-বাড়ি করে দেওয়ার উপর গুরুত্ব দিয়ে এ ব্যাপারে এমপিদের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, মুজিব বর্ষে যেন কেউ গৃহহীন না থাকে এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে হবে। যাদের ঘর-বাড়ি নেই তাদের ঘর-বাড়ি তৈরি করে দিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুজিব বর্ষে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তিনি সুস্থ থাকলে আসবেন। এছাড়া ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও ভুটানের রাজাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, তারা আসবেন। মুজিব বর্ষ উপলক্ষে স্মারক ডাক টিকিট প্রকাশ করা হবে। এই ডাক টিকিট যাতে বিশ্বের প্রতিটি দেশের সংসদের স্পিকারদের কাছে পৌঁছানো যায় সে ব্যবস্থা করতে হবে।

এছাড়া মুজিব বর্ষ উপলক্ষে জাতীয় সংদের বিশেষ অধিবেশন হবে বলেও জানা গেছে। এই অধিবেশনে এমপিদের মধ্যে যারা বক্তব্য দেবেন তাদেরকে আগে থেকে স্পিকারকে অবহিত করা এবং প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আগামী ১৯ মার্চ সংসদ ভবন চত্বরে অনুষ্ঠিত হবে শিশু মেলা। সেখানে সব সংসদ সদস্য যেন উপস্থিত থাকেন সে বিষয়েও তিনি নির্দেশ দিয়েছেন।

সভায় প্রধানমন্ত্রী সংসদের অধিবেশনে সদস্যদের উপস্থিতির উপর গুরুত্ব দিয়েছেন। এ সময় তিনি এমপিদের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, সংসদ অধিবেশনে এমপিদের নিয়মিত আসতে হবে। আমি তো নিয়মিত উপস্থিত থাকি। সংসদ চলাকালে মন্ত্রীদের বাইরের কর্মসূচি যত পরিহার করা যায় করতে হবে। আমার পেছনের এবং আশপাশে যারা বসেন তারা যদি সংসদে নিয়মিত উপস্থিত থাকতে না পারেন তাহলে তাদের আসনগুলো খালি দেখা যায়। তাতে বাইরে মেসেজ যায় সংসদ সদস্যরা সংসদের প্রতি ততটা আগ্রহী নন।

সংসদ সদস্যরা যদি নিয়মিত আসতে না পারেন তাহলে তাদের আসনগুলো দুরবর্তি কোনো জায়গায় দেওয়া যায়, সে ব্যাপারে চিন্তা ভাবনা করার জন্যও এসময় প্রধানমন্ত্রী চীফ হুইপকে পরামর্শ দেন।