• মার্চ ১৬, ২০২০
  • শীর্ষ খবর
  • 59
সুনামগঞ্জের আলোচিত শিশু তুহিন হত্যা: বাবা-চাচার মৃত্যুদণ্ড

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার কেজাউড়া গ্রামে শিশু তুহিন হত্যার দায়ে বাবা আব্দুল বাছির (৪০) ও চাচা নাসির উদ্দিনকে (২৫) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে এ মামলায় অভিযুক্ত অন্য দুই আসামি নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৬ মার্চ) সকালে সুনামগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ ওয়াহিদুজ্জামান সিকদার এ রায় দেন।

মামলায় খালাসপ্রাপ্তরা হলেন- চাচা আব্দুল মোছাব্বির ও জামশেদ আলী।

এদিকে একই মামলায় তুহিনের কিশোর চাচাতো ভাই শাহরিয়ারকে (১৭) আট বছরের আটকাদেশ দেন আদালত। তার ১৮ বছর হলে তাকে কারাগারে পাঠানো হবে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১৪ অক্টোবর সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার কেজাউরা গ্রামে এই হত্যাকাণ্ডে ঘটনা ঘটে। সেদিন সকালে বাড়ির পাশের একটি গাছের ডালে ঝুলন্ত অবস্থায় তুহিনের মরদেহ পাওয়া যায়। এসময় তুহিনের গলা, দুই কান ও যৌনাঙ্গ কাটা ছিল ও পেটে বিদ্ধ ছিল দু’টি ছুরি। এ ঘটনায় তুহিনের মা মনিরা বেগম বাদী হয়ে ঘটনার পরের দিন অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে দিরাই থানায় মামলা করেন। এ মামলায় তুহিনের বাবা আব্দুল বাছির, চাচা
নাসির উদ্দিন, আব্দুল মছব্বির (৪৫) ও জমসেদ আলী (৬০) এবং চাচাতো ভাই শাহরিয়ারকে (১৭) গ্রেফতার করে পুলিশ।

তুহিন হত্যা মামলায় গত ৩০ ডিসেম্বর ওই পাঁচ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) জমা দেয় পুলিশ। এরপর চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগ গঠন হয়। জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ২৬ সাক্ষীর সাক্ষ্য শেষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়। পরে মামলার রায়ের জন্য ১৬ মার্চ তারিখ ধার্য করেন বিচারক।

সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানি শেষে অপরাধ প্রমাণ হওয়ায় সোমবার ওই দু’জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। এছাড়া নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় একই মামলায় অভিযুক্ত অন্য দুই আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) শামছুন নাহার বেগম বলেন, আমরা এই রায়ে সন্তুষ্ট। ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এতে করে সাধারণ মানুষের বিচার বিভাগের প্রতি আস্থা আরও বাড়বে।

আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরু।

প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে ও প্রতিবেশী তথা এলাকাবাসীর সহমর্মিতা পেতে নির্মমভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছিল।