• সেপ্টেম্বর ৪, ২০২০
  • শীর্ষ খবর
  • 53
হবিগঞ্জে ত্যাগী ও নির্যাতিতরাই ছাত্রদলের কমিটিতে এসেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ গত ১ সেপ্টেম্বর হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলে ১৯টি আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেন জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. এমদাদুল হক ও সাধারণ সম্পাদক রুবেল আহমেদ চৌধুরী। দীর্ঘ ১০ বছর পর কমিটি আসায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন। ছাত্রদলের সিনিয়র নেতারা বলছেন এই ১৯টি কমিটির মাধ্যমে হবিগঞ্জে ছাত্রদলের কার্যক্রম আবারও প্রাণ ফিরে পেয়েছে। তাই কমিটি আসার পর পদপ্রাপ্তরা অভিনন্দনের জোয়ারে ভাসছেন।

তবে দুএকটি উপজেলা কমিটির পদধারীদের নিয়ে মতপার্থক্য থাকায় বিচ্ছিন্ন ভাবে বিক্ষোভ ও করেছেন পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা। তারপরও ছাত্রদলের এই ১৯টি কমিটি উজ্জীবিত দলের নীতি নির্ধারকরা। ছাত্রদলের বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতা জানান, দলের দুর্দিনে কাজ করা কর্মীরাই নেতৃত্বে এসেছেন। বিগত দিনগুলোতে যারা কোনো পদ পদবী ছাড়া সামনে থেকে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন, হামলা, মামলার শিকার হয়েছেন তারাই পদ পেয়েছেন। দীর্ঘদিন পরে এই কমিটিগুলো আসায় দলীয় কার্যক্রম গতি পাবে। ছাত্রদলের নতুন পদধারীদের কার্যক্রমের প্রভাব ফেলবে বিএনপির কার্যক্রমের উপরও। নেতৃত্বে আসা তরুণদের নতুন নতুন কার্যক্রমের আশাবাদ ব্যক্ত করেন সাবেক ছাত্রদল নেতারা।

হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের পর শক্তিশালী কমিটি ধরা হয় বৃন্দাবন সরকারী কলেজের কমিটি। কারণ ছাত্রসমাজের একটি বড় অংশ লিড দেয় এই প্রতিষ্ঠানের পদধারীরা। বিগতদিনগুলোতেও বৃন্দাবন সরকারী কলেজের কমিটির নেতারা তাদের কাজের মাধ্যমে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। এবার বৃন্দাবন কলেজ কমিটির আহবায়কের দায়িত্ব পেয়েছেন মো. শফিকুল ইসলাম রুহেল ও সদস্য সচিবের দায়িত্ব পেয়েছেন আবিদুর রহমান রাকিব।

বৃন্দাবন কলেজ কমিটির সদস্য সচিব আবিদুর রহমান রাকিব বলেন, দলের জন্য কাজ করে আজ পর্যন্ত কেউ অবমূল্যায়িত হয়নি। আমিও হইনি। দলের জন্য কাজ করেই আমি পদ পেয়েছি। বিগত জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আলহাজ্ব জিকে গউছ ভাইয়ের সাথে শায়েস্তাগঞ্জে নির্বাচনের প্রচারণায় গিয়ে হামলার শিকার হয়েছিলাম আমরা। তখন প্রতিপক্ষ দলের আক্রমণে শিকার হয়ে রক্তাত হয়েছি। আমার উপর যে আঘাত করা হয়েছিল তাতে বেঁচে ফেরার কথা ছিল না। তবে সকলের দোয়ায় ওই যাত্রায় বেঁচে যাই। এছাড়াও দলীয় মিটিং, মিছিল, কেন্দ্রীয় কর্মসূচি সবকিছুতেই দাপটের সাথে অংশগ্রহণ করেছি আমি ও আমার কর্মীরা। বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন থেকে শুরু করে দলীয় সকল কার্যক্রমে সিনিয়রদের সাথে চষে বেড়িয়েছি হবিগঞ্জের রাজপথে। আমার কাজের মূল্যায়ন করে আমাকে এই পদ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, কলেজ ছাত্রদলের সুনাম ও ঐতিহ্য অনেক দিনের। জননেতা আলহাজ্ব জি কে গউছ মহোদয় ও এক সময় এই কলেজ ছাত্রদলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। সেই ধারাবাহিকতায় জেলা বিএনপির অনেক সিনিয়র নেতা সহ সৈয়দ মুশফিক ভাই ও রুবেল আহমেদ চৌধুরী ভাই এই কলেজের নেতৃত্ব সুনামের সাথে দিয়েছেন। তাদের উত্তরসূরি হিসেবে আমি ও এই কলেজ ছাত্রদল সুসংগঠিত করতে কাজ করব এবং সাধারণ ছাত্রদের অধিকার আদায়ে সচেষ্ট ভূমিকা রাখার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ

সদর থানা ছাত্রদলের সদস্য সচিব নাজমুল হোসেন অনি বলেন, মাঠে কাজ করেই নেতৃত্ব পেয়েছি। টাকা দিয়ে বা তোষামোদি করে নয়। আমাদের নেতারা আমাদের যোগ্যতা দেখে পদ দিয়েছেন। তাই সামনে সকলকে সাথে নিয়ে দলের সকল কার্যক্রমে আমাদের আরো দায়িত্বশীল ভূমিকা থাকবে।

হবিগঞ্জ পৌর ছাত্রদল সদস্য সচিব ইলিয়াস আলী তালুকদার বলেন, শিক্ষা, ঐক্য, প্রগতি,ছাত্রদলের মূলনীতি। এই নীতি অনুসরণ করেই আমরা কাজ করে যাব। দীর্ঘ ১৭ বছর পর পৌর ছাত্রদলের কমিটি দেওয়া হয়েছে। তাই এর মধ্যে অনেক যোগ্য পদ প্রত্যাশীর হয়তো ছাত্রত্ব চলে গেছে। তারপরও বর্তমান কমিটিতে ত্যাগী, নির্যাতিত ও মেধাবীদের মূল্যায়ন করে পদ দেওয়া হয়েছে। তাই হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তাদের পরামর্শে আগামীতে পৌর ছাত্রদল দলীয় সকল কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে।

এ ব্যাপারে জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রুবেল আহমেদ চৌধুরী বলেন, ছাত্রদলের ১৯টি ইউনিটের আহ্বায়ক কমিটি দেওয়া হয়েছে। কমিটির সদস্যদের আগামী দুই মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমার চেষ্টা করেছি ত্যাগী, নির্যাতিত ও মেধাবীদের মূল্যায়ন করে পদ দিতে। দুয়েকটি উপজেলায় পদপ্রাপ্তি নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে তাই, বিচ্ছিন্ন ভাবে কিছু ঘটনা ঘটেছে। বড় কোনো দলের বিভিন্ন কমিটি আসার পর এ ধরনের বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটে। এতে হতাশ হবার কোনো কিছু নেই। কারণ আমাদের দেওয়া কমিটিতে আমরা কর্মীদের দলীয় কার্যক্রমকে মূল্যায়ন করেছি। এক আহবায়ক কমিটির মধ্যেতো আর সব ত্যগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা যাবে না। তাই পূর্ণাঙ্গ কমিটি আসার আগ পর্যন্ত সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে। সবার সাথে সমন্বয় করেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেওয়া হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •