• অক্টোবর ১১, ২০১৮
  • শীর্ষ খবর
  • 345
বিশ্বনাথে হামলা থামাতে গিয়ে মধ্যস্থতাকারী বৃদ্ধ খুন

বিশ্বনাথ প্রতিনিধিঃ সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার মান্দারুকা গ্রামে নারী ও শিশুদের ওপর হামলা থামাতে গিয়ে মধ্যস্থতাকারী এক ব্যক্তি খুন হয়েছেন। নিহত ব্যক্তি
সা‌হিদ আলী (৫০) মান্দারুকা গ্রামের মৃত রমিজ উল্লার ছেলে।

বুধবার (১০ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাতটার দিকে মান্দারুকা গ্রামের মো. আকবর আলীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ও নিহতের পরিবারের দেওয়া তথ্যে জানা গেছে, মান্দারুকা গ্রামের মোহা. মিছবা আহমদের সঙ্গে প্রতিবেশী আওয়ামী লীগ নেতা হাজী লয়লুছ মিয়ার মেয়ে
আমিনা বেগমের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্প্রতি আমিনা বেগমের অন্যত্র বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছিলেন পরিবারের সদস্যরা। এর মধ্যে গত শনিবার (৬ অক্টোবার)
রাতে মিছবা আহমদের সঙ্গে পালিয়ে যান আমিনা বেগম। এ ঘটনায় হাজী লয়লুছ মিয়ার পরিবারের পক্ষে আমিনা বেগমকে অপহরণের অভিযোগ এনে গত রোববার
(৭ অক্টোবর) বিশ্বনাথ থানায় মামলা দায়ের করেন।

এদিকে বুধবার (১০ অক্টোবর) ভোরে মিছবা আহমদের খালার বাড়ি সুনামগঞ্জের তাহিরপুর থেকে আমিনাকে জোর করে তাঁর বাবা লয়লুছ মিয়া ও তাঁর ভাই
ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে জোর করে ধরে নিয়ে যান। এর পূর্বে মিছবা ছাত্রলীগ ক্যাডারদের উপস্থিতি টের পেয়ে খালার বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। এসময়
মিছবাকে সেখানে না পেয়ে তার খালা ও পরিবারের স্বজনদের অকথ্য ভাষায় গালিগালজ ও হুমকি দিয়ে যান। পরে আমিনাকে ওই দিন বুধবার সকালে বিশ্বনাথে
নিয়ে আসার পর সন্ধ্যায় মিছবা আহমদের খোঁজে তাঁর বাড়িতে কয়েকজন সন্ত্রাসীদের সঙ্গে নিয়ে যান আমিনার বাবা লয়লুছ মিয়া। এসময় তাঁরা মিছবাকে খোঁজে
না পেয়ে তার মা-বাবা-ভাই-বোনসহ পরিবারের স্বজনদের মারধর করে। এসময় পাশের বাড়ি থেকে মোহা. মিছবার চাচা সা‌হিদ আলী বেড়িয়ে এসে হামলাকারীদের
প্রতিহত করে সামাধানের চেষ্টা করলেও তাঁর উপরও হামলা চালানো হয়। এসময় হামলাকারীদের ছুরির আঘাতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।

পরে বিশ্বনাথ থানা পুলিশ রাত আটটার দিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে
নিয়ে যায়।

বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুদ্দোহা জানান, তুচ্ছ বিষয় নিয়ে এক বৃদ্ধ খুন হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। নিহত
ব্যক্তির মরদেহ সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •