• জুন ১, ২০২১
  • শীর্ষ খবর
  • 59
ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে নগরের সকল ভবন এসেসমেন্ট প্রয়োজন

নিউজ ডেস্কঃ সিলেট সিটি কপোরেশনের উদ্যোগে ঘন ঘন ভূমিকম্পের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কে বিশেষজ্ঞদের মতামত সম্পর্কিত ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বিশেষজ্ঞরা বলেছেন সিলেট নগরীতে ভূমিকম্প হলে ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে হলে নগরে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন কমাতে হবে। এজন্য সিলেট নগরের সকল ভবন এসেসমেন্ট করতে হবে।

মঙ্গলবার (১ জুন) সন্ধ্যা ৭টায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন এমপি। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে যুক্ত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আমহদ।

সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সরকারের যুগ্ম সচিব বিধায়ক রায় চৌধুরীর সঞ্চালনায় সভায় সভাপতিত্ব করে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।

ভূমিকম্পের আশংকায় সিলেট সিটি করপোরেশন দুর্যোগ মোকাবেলা এবং ক্ষয়ক্ষতি হ্রাসকরণের লক্ষ্যে সভায় বিশেষজ্ঞ বক্তা হিসেবে বক্তব্য উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি ও ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল, চুয়েটের সাবেক ভিসি ও ইউএসটিসির উপাচার্য অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম, জিওটেকনিক্যাল বিশেষজ্ঞ, বুয়েটের অধ্যাপক ড. মেহেদী আহমদ আনসারী এবং শাবিপ্রবির অধ্যাপক ড. জহির বিন আলম।

পরামর্শ সমূহ
ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিতকরণ ও ঝুঁকিমুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া
উদ্ধারকর্মীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রস্তুত করা
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভূমিকম্প হলে করনীয় বিষয়ে নিয়মিত মহড়া আয়োজন
ভূমিকম্পে করণীয় বিষয়ে প্রচারণা অব্যাহত রাখা
ইমারত নির্মাণ আইন অনুযায়ী ভবন নির্মাণ হচ্ছে কি না তা তদারকি করা
সিলেটে ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা বৃদ্ধি

সভায় প্রধান অতিথি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন এমপি বলেন, নাগরিকদের সচেতন করতে হবে। ঝুঁকি পূর্ণ ভবন চিহ্নিত করতে হবে। নাগরিকরা যাতে আতঙ্কিত না হয় সেজন্য প্রচার প্রচারণা চালাতে হবে।

ভূমিকম্পে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার তালিকায় সিলেট আছে উল্লেখ্য করে মন্ত্রী বলেন, সিলেট এজন্য আগে টিনের এক তলা বাড়ি বেশি ছিল। এখন প্রয়োজনে বহুতল ভবন হচ্ছে, ঝুঁকিও বাড়ছে। তবে, এবারের ভূমিকম্প পরিস্থিতিতে মন্ত্রণালয়ের দ্রুত উদ্যোগকে স্বাগত জানান তিনি। প্রাকৃতিক এই অনিশ্চিত ঝুঁকি মোকাবেলা ও ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে সরকার সোচ্চার রয়েছে বলেও জানান তিনি।

বিশেষ অতিথি স্থানীয় সরকার বিভাগ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আমহদ বলেন, সিলেট ভূমিকম্পের রেড জোনে রয়েছে। তাই এখানকার প্রস্তুতিটাও নিতে হবে সেদিক বিবেচনায় রেখে। বিশেষজ্ঞদের মতামত –এ অঞ্চলে বড় ধরণের ভূমিকম্প হতে পারে। এজন্য আগাম প্রস্তুতি মূলক এই বিশেষজ্ঞ মতামত সভা অত্যন্ত সময়োপযোগী।

তিনি বলেন, ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগ মোকাবেলায় এ অঞ্চলে উদ্ধারকর্মীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রস্তুত করতে হবে। সিলেটে ফায়ার সাভিসের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আঞ্চলিক কার্যালয় করতে হবে। যেখানে উদ্ধার কাজের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি –সরঞ্জাম মজুদ থাকবে। এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভূমিকম্প হলে করনীয় বিষয়ে নিয়মিত মহড়া আয়োজন, ইমারত নির্মাণ আইন অনুযায়ী ভবন নির্মাণ হচ্ছে কি না তা তদারকি বাড়ানোর জন্য সিসিকের প্রতি আহবান জানান তিনি।

তিনি বলেন, সিলেট শহরে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমিয়ে আনতে হবে। সার্ফেজ ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট নির্ভর পানি চাহিদা পূরণের দিকে যেতে হবে সিলেট সিটি করপোরেশনকে।

ভূমিকম্পের আশংকায় সিলেট সিটি করপোরেশন দুর্যোগ মোকাবেলা এবং ক্ষয়ক্ষতি হ্রাসকরণের লক্ষ্যে সভায় বিশেষজ্ঞ বক্তা হিসেবে বক্তব্য উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি ও ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল। তিনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা প্রণয়ন ও হালনাগাদ অত্যন্ত জরুরী। এছাড়া এ অঞ্চলে বড় ধরণের ভূমিকম্প হলে দুর্যোগ কবলিত মানুষের উদ্ধারে বেশি নজর দিতে হবে। সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের রানওয়ের সক্ষমতা এবং দুর্যোগে ত্রাণ কিংবা চিকিৎসা নিয়ে আসা বিমান/হেলিকপ্টার কতটি নামতে পারবে সে তথ্যও পরিকল্পনায় রাখতে হবে।

চুয়েটের সাবেক ভিসি ও ইউএসটিসির উপাচার্য অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ধারণা করা হয় ডাউকি চ্যুতিতে কম্পন হলে সেটি ৮ মাত্রার হতে পারে। সেক্ষেত্রে বড় ধরণের ক্ষয়ক্ষতির আশংকা উড়িয়ে দেয়া যায় না। তবে এখনই উদ্যোগ নিলে এই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনা সম্ভব। এজন্য সিলেট সিটি করপোরেশনসহ সকল দপ্তর ও শাখাকে জাতিয় দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রণীত গাইড লাইন অনুসরণ করতে হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে নগরের সকল ভবন এসেসমেন্ট করে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করতে হবে। সে অনুযায়ী ভবন গুলোকে ঝুঁকি মুক্ত করার উদ্যোগ নিতে হবে।

বুয়েটের অধ্যাপক ড. মেহেদী আহমদ আনসারী বলেন, এখনও সময় আছে। চাইলে ৬ মাসের মধ্যেই সিলেট নগরের সকল ভবন এসেসমেন্ট করে ফেলা সম্ভব। ভূমিকম্প হলে ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে হলে নগরে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন কমাতে হবে-এর কোন বিকল্প নেই।

বিশেষজ্ঞ বক্তা শাবিপ্রবি’র অধ্যাপক ড. জহির বিন আলম সভার শুরুতে সিলেট নগরে ভূমিকম্প চ্যুতি ও এই শহরের পানির স্থর নেমে যাওয়ার উপর আলোচনা ও মতামত ব্যক্ত করেন।

ভার্চুয়াল সভায় যুক্ত থেকে আলোচনায় অংশ নেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খলিলুর রহমান, সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার নিশারুল আরিফ ও সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম।

অন্যান্যর মধ্যে সভা উপস্থিত ছিলেন সিসিকের প্রধান প্রকৌশলী মো. নূর আজিজুর রহমান, সচিব ফাহিমা ইয়াসমিন, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম, ফায়ার সার্ভিস সিলেটের ভারপ্রাপ্ত উপ পরিচালক আনিসুর রহমান, সিসিকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সিভিল) মো. আব্দুল আজিজ, নির্বাহী প্রকৌশলী শামসুল হক পাঠোয়ারী, নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুস সোবহান, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. হানিফুর রহমান, সহকারী প্রকৌশলী জয়দেব বিশ্বাস, মেয়রের সহকারী একান্ত সচিব সোহেল আহমদ, জনসংযোগ কর্মকর্তা আব্দুল আলিম শাহ প্রমুখ।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •