• জুন ৬, ২০২১
  • জাতীয়
  • 54
চলতি মাসে আকস্মিক বন্যার আভাস

নিউজ ডেস্কঃ চলতি মাসে ভারী বর্ষণের কারণে দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কতিপয় স্থানে হঠাৎ বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির আভাস রয়েছে।

আবহাওয়া অফিস বলছে, ভারী বর্ষণের কারণে আকস্মিক এ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

তবে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও সেটা হবে স্বল্প মেয়াদী। ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী বর্ষণ শুরু হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক সামছুদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, জুন মাসে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে। মাসের প্রথমার্ধে সারাদেশে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু (বর্ষাকাল) বিস্তার লাভ করতে পারে।

এ মাসে বঙ্গোপসাগরে ২টি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে একটি নিম্নচাপ গভীর নিম্নচাপে রূপ নিতে পারে।

এছাড়া দেশের উত্তর থেকে মধ্যাঞ্চল পর্যন্ত ২-৩ দিন মাঝারি/তীব্র ঝড় ও দেশের অন্যত্র ৩-৪ দিন হালকা/মাঝারি ঝড় হতে পারে।

সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে। ভারী বৃষ্টিপাতজনিত কারণে দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কতিপয় স্থানে স্বল্পমেয়াদি আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

অন্যদিকে মাসে দেশে ১টি মৃদু (৩৬-৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস)/মাঝারি (৩৮-৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। জুনে দেশের দৈনিক গড় বাষ্পীভবন হবে ৩ দশমিক ৭৫ মিলিমিটার থেকে ৪ দশমিক ৭৫ মিলিমিটার এবং গড় উজ্জল সূর্য কিরণকাল হবে সাড়ে ৪ থেকে সাড়ে ৫ ঘণ্টা।

মে মাসের আবহাওয়ার পর্যবেক্ষণে তিনি জানিয়েছেন, স্বাভাবিক অপেক্ষা ২৬ দশমিক ৬ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে ময়মনসিংহে। আর কম বৃষ্টিপাত হয়েছে বরিশালে, সেখানে স্বাভাবিক অপেক্ষা ৫১ দশমিক ১ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। স্বাভাবিকের চেয়ে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে রাজশাহীতে। এছাড়া কয়েক দফা তাপপ্রবাহের পর একটি ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়েছে বঙ্গোপসাগরে।

ইয়াস নামের ঘূর্ণিঝড়টি উত্তর-পশ্চিম দিকে শক্তি সঞ্চয় করে প্রথমে প্রবল ঘূর্ণিঝড় হয়ে এবং পরবর্তীতে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়। এরপর এটি আরও উত্তর-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ২৬ মে দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টার মধ্যে ভারতের উড়িষ্যা-পশ্চিম উপকূল অতিক্রম করে এবং দুর্বল হয়ে উত্তর উড়িষ্যা এলাকায় ঘূর্ণিঝড় আকারে অবস্থান নেয়। এরপর এটি স্থলভাগের উপর দিয়ে উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও আরাে দূর্বল হয়ে পর্যায়ক্রমে গভীর নিম্নচাপ, নিম্নচাপ, সুস্পষ্ট লঘুচাপ ও লঘুচাপে পরিণত হয়ে গুরুত্বহীন হয়ে পড়ে।

এ সময় বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল ও উপকূলীয় এলাকায় দমকা হাওয়াসহ মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হয়। বায়ুমণ্ডলের নিম্নস্তরে জলীয়বাষ্পের বৃদ্ধি পাওয়ায় ২-৩, ১৫-১৭, ২৪-২৫, ৩১ মে সময়ে দমকা/ঝড়ো হাওয়া এবং বিজলী চমকানােসহ সিলেট, চট্টগ্রাম, ঢাকা, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে বৃষ্টি/বজ্রবৃষ্টি হয়।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •