• সেপ্টেম্বর ৯, ২০২১
  • শীর্ষ খবর
  • 47
গোয়াইনঘাট-সালুটিকর সড়ক সংস্কার করার দাবি

গোয়াইনঘাট প্রতিনিধিঃ সীমান্ত থেকে নেমে আসা নদ–নদী ও পাহাড়ের পাদদেশ হওয়ায় বর্ষাকালে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় ঢল নামে যখন-তখন। ঢল নামলে সবার আগে পানিবন্দী হয়ে পড়ে সিলেট থেকে পর্যটনকেন্দ্র বিছনাকান্দি যাওয়ার প্রধান সড়কপথ গোয়াইনঘাট-সালুটিকর সড়ক।

২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি আড়াই বছরে সাতটি বন্যায় ডুবেছে। এর মধ্যে ১৬ কিলোমিটার অংশের সাতটি স্থানে রয়েছে গভীর গর্ত। আড়াই বছরে কোনো সংস্কার না করায় এ সড়ক বেহাল। স্থানীয় লোকজন এখন বিদ্রূপ করে এই সড়ককে ‘গাতওয়ালা’ সড়ক বলে ডাকে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে সর্বশেষ সড়কটির জরুরি সংস্কারকাজ হয়েছিল। এরপর ২০২০ সালে পাঁচ দফা বন্যা হয়। এ বছরও দুবার বন্যার কবলে পড়েছে সড়কটি।

স্থানীয় ব্যক্তিরা বলেন, গোয়াইনঘাট-সালুটিকর সড়কটি মূলত পর্যটনকেন্দ্রে যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত হয়। বিছনাকান্দি, পান্তুমাই হয়ে জাফলং যাতায়াতের জন্য পর্যটকেরা এ সড়ক ব্যবহার করেন। শুষ্ক মৌসুমে এই সড়ক দিয়ে বালু-পাথরবাহী ট্রাকও চলাচল করে।

সম্প্রতি সালুটিকর হয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলা সদরে গিয়ে দেখা গেছে, সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ সড়কের পাশে সালুটিকর বাজার। বাজার এলাকার প্রথম ভাগের এক কিলোমিটার অংশে ১০টি গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। নয়াগাঁও থেকে নন্দীরগাঁও গ্রামের মধ্যে আরও পাঁচটি গর্ত দেখা যায়। এদিকে সোনার বাংলা থেকে তোয়াকুল ও বঙ্গবীর পয়েন্ট পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার অংশের সড়ক বেহাল। এই অংশে তিনটি স্থানের গর্ত বড় হয়ে ছোট ডোবার আকার ধারণ করেছে।

তোয়াকুলবাজারের ব্যবসায়ী মুজিবুর রহমান এমন একটি গর্ত দেখিয়ে বলেন, এসব গর্তের কারণে এই সড়ককে মানুষ এখন গাতওয়ালা সড়ক বলছে।

এলাকাবাসী বলেন, গেল আড়াই বছরে কোনো সংস্কারকাজ করা হয়নি। বাধ্য হয়ে তাঁরা নিজেদের উদ্যোগে সড়কের কিছু কিছু অংশ সংস্কার করেছেন।

গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিলুর রহমান বলেন, এ সড়ক শুধু গোয়াইনঘাট উপজেলাবাসী নয়, পশ্চিম সিলেটের যাতায়াতের একমাত্র পথ; পাশাপাশি পর্যটনকেন্দ্রে যাওয়ারও পথ। দুই বছর ধরে সব মিলিয়ে লক্ষাধিক মানুষ ভোগান্তিতে রয়েছে। এই অবস্থায় সর্বশেষ মাসিক উন্নয়ন সমন্বয় সভা থেকে সড়কটিতে দ্রুত সংস্কারকাজ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এলজিইডির গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম জানান, জরুরি সংস্কারকাজের জন্য একটি দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। আগামী মাসের মধ্যে ১৬ কিলোমিটার অংশে সংস্কারকাজ শুরু করার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া সড়কটি পর্যটনবান্ধব করতে দীর্ঘমেয়াদি একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে। প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে ‘গাতওয়ালা’ সড়ক দুর্নাম ঘুচে যাবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •