• অক্টোবর ১৩, ২০২১
  • শীর্ষ খবর
  • 49
আজ মহা অষ্টমী: চাকচিক্য আর ঐতিহ্যের মিশলে জমজমাট পূজা

নিউজ ডেস্কঃ ঝলমলে আলো, নজরকাড়া সাজ আর আলোর রোশনাইয়ে জমজমাট সিলেট নগরের দাড়িয়াপাড়া এলাকা। গতকাল মঙ্গলবার মহাসপ্তমীর বিকেলে সেখানে হাজারো মানুষের ভিড়। সনাতন যুব ফোরামের মণ্ডপে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিমার পাশে করোনার চিহ্ন-সংবলিত গোল একটি প্রতীক রাখা হয়েছে। ওই প্রতীকের মধ্যে একটি শিশু। সেই শিশুকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসছেন দুর্গা দেবী। করোনাভাইরাস থেকে মা দুর্গা সবাইকে রক্ষা করবেন, এটা বোঝাতে এমন নকশা করা হয়েছে।

সনাতন যুব ফোরামের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রজতকান্তি গুপ্ত জানান, ১৯৯৪ সাল থেকে তাঁরা ধারাবাহিকভাবে দুর্গাপূজার আয়োজন করে আসছেন। প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ হাজার দর্শনার্থী তাঁদের পূজা দেখতে আসেন। এবারের পূজা আয়োজনে তাঁদের প্রায় আট লাখ টাকা খরচ হয়েছে। অনেকে তাঁদের প্রতি মাকেই নগরের সবচেয়ে নজরকাড়া প্রতিমা বলছেন।

দাড়িয়াপাড়া এলাকায় চৈতালী সংঘ, শ্রীশ্রী রক্ষা কালীবাড়ি এবং ঝুমকা সংঘেরও মণ্ডপ আছে। নগরের মণিপুরি রাজবাড়ি, মাছুদিঘির পাড়, জামতলা, কাজলশাহ এলাকাতেও পা ফেলার জায়গা নেই। কাজলশাহ পুকুরপাড় ঘেঁষে তৈরি করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন মণ্ডপ। সেখানে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত ছিল গীতা ও চণ্ডীপাঠের প্রতিযোগিতা। চলে ধর্মীয় গীতিনৃত্যের পরিবেশনা।

কাজলশাহ সর্বজনীন পূজা কমিটির সাংস্কৃতিক সম্পাদক লিটন রায় জানান, ১৬ বছর ধরে এ পূজা হচ্ছে। সন্ধ্যার পর পুরো পুকুরপাড় আলোয় ঝলমল করে। দর্শনার্থীরা এখানে ভিড় জমিয়ে ছবি ও সেলফি তুলছেন। পূজার প্রসাদ নিচ্ছেন সবাই।

পূজা–সংশ্লিষ্ট লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ বছর মহানগরে ৫০টি সর্বজনীন এবং ১৭টি পারিবারিক পূজার আয়োজন করা হয়েছে। পারিবারিক আয়োজনের মধ্যে নগরের শেখঘাট এলাকায় লাল ব্রাদার্স পরিবারের দুর্গাপূজা ২১৫ বছরের পুরোনো।

লাল ব্রাদার্স পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, ১৮০৬ সালে তাঁদের পূর্বপুরুষ ব্রজগোবিন্দ দাস এ পূজার সূচনা করেছিলেন। পূজাতে ভারতের লক্ষ্ণৌ ও রাজস্থান থেকে বাইজিরা আসতেন। তাঁদের অংশগ্রহণে চলত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। দেশভাগের আগপর্যন্ত ভারতের ওডিশা থেকে পুরোহিতেরা এসে তাঁদের পূজা পরিচালনা করতেন। এখন চাকচিক্যের দিকে ভাটা পড়লেও পূজা ঠিকই ধারাবাহিকভাবে হয়ে আসছে।

বিশ্বদ্বীপ লাল দাস বলেন, সিলেট শহরের প্রাচীন ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, তাঁদের পরিবারের দুর্গাপূজাই এখন সবচেয়ে প্রাচীন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •