• ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২২
  • শীর্ষ খবর
  • 290
সিলেটে দেয়াল থেকে মুছে ফেলা হয়েছে সুবোধের গ্রাফিতি

নিউজ ডেস্কঃ শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) সংলগ্ন এলাকায় ভিন্ন সময়ে আঁকা দুটি প্রতিবাদী গ্রাফিতির মধ্যে সুবোধের গ্রাফিতিটি মুছে ফেলা হয়েছে। গতকাল রোববার রাতের কোনো একসময় এ গ্রাফিতি মুছে ফেলা হয়। ভবন কর্তৃপক্ষ গ্রাফিতিটি মুছে দিয়েছেন বলে ওই ভবনের নিরাপত্তা প্রহরী জানিয়েছেন।

রাজধানী ঢাকার দেয়ালে দেয়ালে ২০১৭ সালে আঁকা সুবোধের গ্রাফিতি এর আগে গত মঙ্গলবার রাতে ফিরে এসেছিল সিলেটে। নগরের আখালিয়া এলাকায় সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের পাশে একটি ভবনের দেয়ালে প্রতিবাদী এ গ্রাফিতির দেখা মিলেছিল। এতে হাস্যোজ্জ্বল সুবোধকে টেলিফোনে কথা বলতে দেখা গিয়েছিল। টেলিফোন সংযোগের অপর প্রান্তে ইংরেজিতে লোগো আকারে লেখা ‘হবেকি?’ আজ সোমবার সকালে দেখা যায়, গ্রাফিতিটি মুছে ফেলা হয়েছে।

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকার একটি বাসভবনের দেয়ালে বৃহস্পতিবার দুপুরে আঁকা হয়েছিল সুবোধের গ্রাফিতি।

এ ছাড়া একই এলাকায় আরেকটি ভবনের সামনে গত শুক্রবার রাত থেকে দেখা মিলেছিল নতুন গ্রাফিতির। সেটিতেও ইংরেজি হরফে লেখা ‘হবেকি’? ওই গ্রাফিতিতে দেখা গিয়েছিল, অন্ধকার থেকে আলোর দিকে একটি হাত বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সে হাতে ছিল হলুদ একটি ফুল।

সুবোধের গ্রাফিতি আঁকা দেয়ালটি ব্রিটিশ অ্যামেরিকান টোবাকো কোম্পানির অধীন। ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধান ফটকে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এমদাদুল হক বলেন, প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের নির্দেশে দেয়ালে আঁকা চিত্র মুছে দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের ভেতরে রং করা হচ্ছে। তবে বাইরের দেয়ালে রং করা হবে কি না, সেটি বলতে পারেননি তিনি।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বলেন, তাঁদের আন্দোলনে সমর্থন দিতেই ওই দুই গ্রাফিতি আঁকা হয়ে থাকতে পারে।

আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আবেদীন বলেন, গ্রাফিতি কে এঁকেছেন, সেটি জানা যায়নি। তবে প্রতিবাদী এ চিত্র মুছে ফেলার ঘটনা দুঃখজনক। এমন একটা গ্রাফিতি কার কী এমন ক্ষতি করতে পারে যে সেটি মুছে ফেলতে হয়েছে?

গত ১৩ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অসদাচরণসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে তাঁর পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন কয়েক শ ছাত্রী। ১৬ জানুয়ারি দাবি আদায়ের লক্ষ্যে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করেন শিক্ষার্থীরা। সেখানে পুলিশ শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা করে এবং তাঁদের লক্ষ্য করে শটগানের গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে। পরে এই আন্দোলন উপাচার্যের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে রূপ নেয়। এরপর শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করে দাবি পূরণের আশ্বাস দেন। পাশাপাশি উপাচার্যের পদত্যাগের দাবির বিষয়টি আচার্যকে অবহিত করবেন বলে কথা দেন শিক্ষামন্ত্রী। এরপর শিক্ষার্থীরা আন্দোলন কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন।