• এপ্রিল ৪, ২০২২
  • লিড নিউস
  • 237
সুনামগঞ্জে আরেক হাওরে ঢুকছে পানি, স্কুলের শিক্ষার্থীরা কাঁচি হাতে হাওরে

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার বাঘার হাওরে বাঁধ ভেঙে পানি প্রবেশ করছে। কৃষকদের চোখের সামনেই ডুবে যাচ্ছে হাজার হাজার একর ফসলি জমি।

সোমবার (৪ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে দেখা যায়, নদীর পানি উপচে হাওরে প্রবেশ করছে। দ্রুত তলিয়ে যাচ্ছে কৃষকের ফসল। নিজেদের ফসল তলিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখে স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা কাঁচি হাতে নেমেছে ধান কাটতে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতার বাইরে হওয়ায় এই বাঁধটিতে দেওয়া হয়নি কোনো প্রকল্প। শুরু থেকেই বাঘার হাওরে প্রকল্প দেওয়ার দাবি জানালেও পাউবো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

স্হানীয় সূত্রে জানা যায়, বাঘার বাঁধ এলাকায় প্রায় এক হাজার একর জমি রয়েছে। শুরু থেকেই এই এলাকায় হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবি জানানো হয়। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এমন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় প্রকল্প না দিয়ে অপ্রয়োজনীয় জায়গায় প্রকল্প দিয়ে সরকারের টাকা লোপাট করছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) দাবি করছে সার্ভে টিমের পরিমাপ অনুযায়ী প্রকল্প দেওয়া হয়েছে। যার ফলেই এই হাওরের বাঁধটি আওতার বাইরে।

শাল্লার দামপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল আওয়াল বলেন, ১০ কেয়ার (কেদার) জমি করেছি। আর এই হাওরেই সব জমি। আমার চোখের সামনেই সবকিছু ভেসে যাচ্ছে। এখন ছেলে মেয়ে নিয়ে কিভাবে চলবো এই চিন্তাই করছি।

পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া ছাত্র জনি সরকার জানায়, ফসল তলিয়ে যাওয়ার পর বাবার কান্না দেখে নিজেই কাঁচি হাতে ধান কাটতে আসছি। কিন্তু ধান এখনো পাকেনি। এরপরও তলিয়ে যাওয়ার চেয়ে কিছু ধান ঘরে নিতে পারলে কিছু দিনের খাবার হবে তাই এসেছি।

শাল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী (এসও) আব্দুল কাইয়ুম বলেন, আমাদের হাওররক্ষা বাঁধ এখনো ভাঙেনি। যেদিকে বাঘার হাওরে পানি প্রবেশ করেছে এটা আমাদের তালিকার বাইরে। আর আমাদের আওতায় যে বাঁধগুলো রয়েছে সর্বাক্ষণিক মনিটরিং করছি। তবে ঝুঁকিপূর্ণ কোনো বাঁধ শাল্লায় নেই।

শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো.আবু তালেব বাংলানিউজকে বলেন, এখানে সরকারি কোনো বাঁধ দেওয়া হয়নি, এটি পরিকল্পনার বাইরে ছিল। কৃষকরা প্রতিবছর ঝুঁকি নিয়েই এখানে ধান চাষ করেন। এবার পানি ওভার ফ্লো হয়ে এই হাওরে ঢুকে পড়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা খোঁজ নিয়ে জেনেছি ৭-৮ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। আমরা তাদের বলেছি দ্রুত ধান কাটতে আর যারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের আমরা সহায়তার আওতায় নিয়ে আসবো।