• মে ৭, ২০২২
  • জাতীয়
  • 213
পাম্পে পেট্রল নেই , ফিরে যাচ্ছে মানুষ

নিউজ ডেস্কঃ রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি পদ্মা অয়েলের পার্বতীপুর ডিপোর উপব্যবস্থাপক (অপারেশন) আজম খান বলেন, ‘বর্তমানে আমরা গ্যাসফিল্ড থেকে তেল সরবরাহ কম পাচ্ছি। তাই বিভিন্ন ডিলার ও এজেন্টকে ঠিকমতো সরবরাহ করতে পারছি না। তবে গ্যাসফিল্ড থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক হলে তেলের সংকট আর থাকবে না।’

পাম্পে সাদা কাগজে লেখা ‘তেল নাই।’ পেট্রল বা অকটেন কিনতে এসে তেল ছাড়াই ফিরতে হচ্ছে মোটরসাইকেল চালকদের। এ অবস্থা নীলফামারী, দিনাজপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলার। এক মাস ধরে এই অবস্থা চলছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

এই সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন যমুনা অয়েলের চট্টগ্রাম টার্মিনালের ডেপুটি ম্যানেজার। এই কর্মকর্তা জানান, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ, জাহাজ ভাড়া বৃদ্ধির কারণে আমদানি করা জ্বালানি তেলের ট্যাংকার কম আসছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) থেকে পেট্রল সরবরাহে ঘাটতি রয়েছে। ফলে ডিপোগুলো চাহিদার তুলনায় কম পেট্রল পাচ্ছে।

নীলফমারী শহরের বন বিভাগ এলাকার রশিদা ফিলিং স্টেশনে শনিবার দেখা যায়, তেল নিতে এসে ফিরে যাচ্ছেন বড় বাজার এলাকার হৃদয় হোসেন। পাম্পে তেল না থাকার নোটিশ দেয়া।

হৃদয় বলেন, ‘সকাল থেকে তিনটি পাম্পে গেছি তেল নেয়ার জন্য কিন্তু পাইনি। বলছে, পেট্রল নেই। এখানে এসে দেখি পেট্রল তো নেই, এমনকি অকটেনও নেই।’

সদর উপজেলার খোকশাবাড়ী ইউনিয়নের টেপুরডাঙ্গা এলাকার তেলের ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি কয়েক দিন থেকে তেল নিতে এসে ঘুরে যাচ্ছি। গ্রামে অনেক মানুষ মোটরসাইকেলের জন্য তেল কিনতে আসছে কিন্তু আমি দিতে পারছি না। কবে নাগাদ তেল পাওয়া যাবে, তা নিশ্চিত করে বলতে পারছে না পাম্প কর্তৃপক্ষ।’

রশিদা ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক মো. শহিদুল্লাহ জানান, এক মাস ধরে পেট্রল সংকট চরমে পৌঁছেছে। ক্রেতাদের দেয়া যাচ্ছে না। ঈদের কিছুদিন আগে ১৪ হাজার লিটার অকটেন এসেছিল। সেগুলো দিয়ে কোনো রকমে চালাতে হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন এই পাম্পে দেড় হাজার লিটার পেট্রল ও ৬০০ লিটার অকটেন প্রয়োজন। সরবরাহ না থাকায় বেশ কিছুদিন ধরে তেল বিক্রি বন্ধ। তাই পাম্পের গায়ে তেল নেই লিখে দিয়েছি।’

জেলা পেট্রল পাম্প মালিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আখতারুজ্জামান স্বপন জানান, জেলার ৩৬টি পাম্পে প্রতিদিন প্রায় ৭০ হাজার লিটার পেট্রল ও ২৫ হাজার লিটার অকটেন প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ‘তিন মাস ধরে পেট্রল সংকট দেখা দিয়েছে। পার্বতীপুর ডিপোয় না পেলে বাঘাবাড়ী থেকে তেল এনে পাম্পগুলো চালানো হচ্ছিল। মাসখানেক ধরে পরিস্থিতি ভালো নয়। এখন অধিকাংশ পাম্পে অকটেনও নেই। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।’

দিনাজপুর শহরের বিভিন্ন পাম্প ঘুরেও দেখা গেছে পেট্রল ও অকটেনের সংকট। অনেক পাম্পেই ঝুলছে, ‘পেট্রল ও অকটেন নেই।’ কোথাও কোথাও খোলাবাজারে ১০০ থেকে ১৩০ টাকা লিটারে পেট্রল বিক্রি হচ্ছে।

ক্রেতা ও বিক্রেতারা বলছেন এক সপ্তাহ ধরে তেলের এই সংকট। পেট্রল না পেয়ে অকটেন ব্যবহার শুরুর পর এখন আর অকটেনও ঠিকমতো মিলছে না।

এ বিষয়ে যমুনা অয়েল লিমিটেডের পার্বতীপুর ডিপোর ইনচার্জ মো. আহসান বলেন, ‘আমরা খুলনা থেকে পার্বতীপুর ডিপোয় পেট্রল নিয়ে আসি। এখান থেকে বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করা হয়। মার্চ থেকে তেলের স্বাভাবিকতায় ব্যাঘাত ঘটেছে। চট্টগ্রাম থেকে তেল আসছে না। তবে কেন আসছে না তা আমরা জানি না।

‘পেট্রল সংকটের কারণে অকটেনের ওপর চাপ বেড়েছে। সে কারণে অকটেনের ওপরও প্রভাব পড়েছে। তবে কবে নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য আমার কাছে নেই।’

আরেক রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি পদ্মা অয়েলের পার্বতীপুর ডিপোর উপব্যবস্থাপক (অপারেশন) আজম খান বলেন, ‘বর্তমানে আমরা গ্যাসফিল্ড থেকে তেল সরবরাহ কম পাচ্ছি। তাই বিভিন্ন ডিলার ও এজেন্টকে ঠিকমতো সরবরাহ করতে পারছি না। তবে গ্যাসফিল্ড থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক হলে তেলের সংকট আর থাকবে না।’

যমুনা অয়েলের চট্টগ্রাম টার্মিনালের ডেপুটি ম্যানেজার (অপারেশনস) নজরুল ইসলাম বিপিসি থেকে পেট্রল সরবরাহে ঘাটতির কথা জানান।

তিনি বলেন, ‘বিপিসি থেকেই আমরা পেট্রল কম পাচ্ছি। ফলে ডিপোগুলোয় বণ্টনের ক্ষেত্রে চাহিদার তুলনায় কম পেট্রল দিতে হচ্ছে। এ কারণে সংকট তৈরি হয়েছে।

‘তবে মূল কারণ হচ্ছে বিশ্বে তেলের বাজার টালমাটাল। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ, জাহাজ ভাড়া বৃদ্ধি এগুলোর ফলে এক বছর ধরেই দেশে আমদানি করা জ্বালানি তেলের ট্যাংকার কম আসছে।’