• মে ২২, ২০২২
  • লিড নিউস
  • 184
সিলেটে কমছে বন্যার পানি, দুর্ভোগে মানুষ

নিউজ ডেস্কঃ সিলেটে বন্যার পানি নামতে শুরুর পর থেকে নতুন দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে বন্যা আক্রান্ত এলাকার লোকজনকে। সিলেট নগরীর বন্যা আক্রান্ত এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে দুর্গন্ধ। বন্যার পানিতে ময়লা-আবর্জনা পচে তৈরি হয়েছে উঠকো গন্ধ।

রবিবার (২২ মে) পর্যন্ত যাদের বাসা-বাড়ি থেকে পানি নেমে গেছে তারাও ফিরতে পারছেন না নিজ ঘরে। ঘরের ভেতর ও বাহিরে চরম দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় বাসা-বাড়িতে ওঠা দায় হয়ে পড়েছে। অনেকে শ্রমিক লাগিয়ে বাসা-বাড়ি পরিস্কার করলেও এখনো ফিরছেন না দুর্গন্ধের কারণে।

সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ বলছে- পানি পুরোপুরি না নামলে ময়লা-আবর্জনাও পরিস্কার করা সম্ভব হবে না। আর চিকিৎসকরা বলছেন, ময়লা দুর্গন্ধযুক্ত এই পরিবেশের কারণে বন্যা পরবর্তীতে নানা রোগ বালাইয়ের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে।

রবিবার নগরীর উপশহর, তেররতন, সাদিপুর, কুশিঘাট, সোবহানীঘাট, যতরপুর, ছড়ারপাড়, মাছিমপুর, তালতলা ও জামতলাসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে। সুরমা নদীর পানি কমায় লোকালয় থেকেও পানি নামছে। বন্যাকবলিত এলাকায় মারাত্মক দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। দুর্গন্ধের কারণে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। বহুতল ভবনের নিচতলা এবং কলোনিতে যারা বসবাস করতেন, পানি নেমে যাওয়ায় তারা ফিরে এসেছেন। কিন্তু দুর্গন্ধের কারণে পরিবার নিয়ে তারা বাসায় উঠতে পারছেন না। অনেককে দেখা গেছে শ্রমিক লাগিয়ে বাসা পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করতে। তবে দুর্গন্ধ না কমা পর্যন্ত তারা বাসায় ফেরার চিন্তা বাদ দিয়েছেন।

উপশহরের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন জানান, এক সপ্তাহ পর তার বাসা থেকে পানি নেমেছে। কিন্তু বাসার ভেতর ও আশপাশ এলাকায় এতো বেশি দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে তাতে কোনভাবেই পরিবার নিয়ে বাসায় উঠা সম্ভব নয়। তাই আপাতত শ্রমিক লাগিয়ে বাসা পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করিয়ে রাখছেন। পরিবার নিয়ে তিনি বর্তমানে এক আত্মীয়ের বাসায় অবস্থান করছেন। দুর্গন্ধ কমার পর তিনি বাসায় ফেরার চিন্তা করছেন।

সিলেট সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ক কর্মকর্তা হানিফুর রহমান জানান, বন্যার পানিতে ময়লা-আবর্জনা পচে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু এখনো বন্যার পানি পুরোপুরি না কমায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদার করা যাচ্ছে না। তবে যথাসম্ভব পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুর রহমান জানান, বন্যা পরবর্তীতে আক্রান্ত এলাকায় অপরিচ্ছন্ন ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বিরাজ করে। দুর্গন্ধ ছড়ায়। এ থেকে ডায়রিয়া ও বিভিন্ন ধরনের চর্মরোগ দেখা দিতে পারে। এ ব্যাপারে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

এদিকে, রবিবার সুরমা ও কুশিয়ারাসহ জেলার সবকটি নদীর পানি হ্রাস পাওয়া অব্যাহত ছিল।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, রবিবার সন্ধ্যা ৬টায় সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ৬৯ সেন্টিমিটার ও সিলেট পয়েন্টে ৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। গেল ২৪ ঘন্টায় এ দুই পয়েন্টে পানি কমেছে যথাক্রমে ১১ ও ১০ সেন্টিমিটার। এছাড়া কুশিয়ারার পানি রবিবার সন্ধ্যা ৬টায় জকিগঞ্জের আমলসীদে বিপৎসীমার ১১৬ সেন্টিমিটার ও শেওলায় ৪৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

সিলেট শহরের মতো জেলার সবকটি উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। বেশিরভাগ রাস্তাঘাট থেকে বন্যার পানি নেমে গেছে। তবে নিম্নাঞ্চলে এখনো বাড়ি-ঘর বন্যার পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে।