• মে ২৪, ২০২২
  • শীর্ষ খবর
  • 237
‘নৌকা না থাকলে প্রাণে বাঁচা দায় ছিল’

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ হঠাৎ গভীর রাতে পাহাড়ি ঢলের পানি ঢোকে বশির মিয়ার ঘরে। তছনছ হয়ে যায় ঘরবাড়ি। কোনো রকমে নৌকায় করে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি সড়কে ওঠেন। পরে আশ্রয় নিয়েছেন একটি বিদ্যালয়ের ভবনে।

বশির মিয়ার বাড়ি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের জগদীশপুর গ্রামে। রোববার রাত সাড়ে ১২টার দিকে অব্যাহত বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে তাঁর ঘরে পানি ঢোকে। একটি নৌকায় করে তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কোনো রকম কলকলিয়া-তেলিকোনা সড়কে ওঠেন। পরে সফাত উল্যা উচ্চবিদ্যালয়ে গিয়ে আশ্রয় নেন। স্ত্রী, সন্তান, নাতি-নাতনিসহ ১১ সদস্যের পরিবার বশির মিয়ার। সাত বছর আগে জগদীশপুর এলাকায় নলুয়ার হাওরে বাড়ি তৈরি করে বসবাস করছেন।

বশির মিয়ার স্ত্রী আলেছা বেগম বলেন, ‘রাতে ঝড়বৃষ্টি এসে হানা দিয়েছে। নৌকা না থাকলে আমাদের প্রাণে বাঁচা দায় ছিল। উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে কিছু শুকনা খাবার দেওয়া হয়েছে। আর কোনো সহায়তা পাননি।

জগদীশপুর গ্রামের বাসিন্দা আবদুস ছোবহান বলেন, নলুয়ার হাওরের মধ্যে বশির মিয়ার পরিবারের বসবাস। পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টিতে পানি ঘরে ঢুকে তাঁরা বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছিলেন। কোনো রকম জান নিয়ে ফিরতে পেরেছেন। সংসারের অতিপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।

আজ মঙ্গলবার সফাত উল্যা উচ্চবিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের দুটি কক্ষে ছয়টি পরিবারের লোকজন বসবাস করেছেন। নারী ও শিশুরা আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছে। তবে পরিবারের পুরুষ সদস্যরা কাজের খোঁজে বাইরে গেছেন। আশ্রয়কেন্দ্রের নারীরা জানান, এখানে প্রথমে ১০টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছিল। তবে কোনো সুযোগ-সুবিধা না থাকায় অনেকেই আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে চলে গেছেন।

আশ্রয়কেন্দ্রে ত্রাণ বিতরণের ফাঁকে কথা হয় জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান বিজন কুমার দেবের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে শুকনা খাবার নিয়ে এসেছি। বন্যার্ত মানুষের খোঁজখবর নিচ্ছি। ভবিষ্যতে যাতে তাঁরা আরও সহায়তা পান, সে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান বলেন, বন্যায় হতদরিদ্র পরিবারগুলো অসহায় হয়ে পড়েছে। পানি কমলে তাদের ঘরবাড়ি মেরামত করতে হবে। ওই পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে সমন্বিত চেষ্টা থাকতে হবে।

জগন্নাথপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজেদুল ইসলাম বলেন, বন্যার্তদের জন্য ৪৩ মেট্রিক টন চাল ও ৫০ হাজার টাকা পাওয়া গেছে। জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে তালিকা তৈরি করে এগুলো বিতরণ করা হবে। স্থানীয় সংসদ সদস্য পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে ঢেউটিনের জন্য আবেদন করেছেন। ওই সহায়তা পাওয়া গেলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ঘর নির্মাণে সহায়তা হবে।