• মে ২৬, ২০২২
  • শীর্ষ খবর
  • 248
সুনামগঞ্জে স্কুলে ফিরছে শিক্ষার্থীরা, শুরু হয়েছে পাঠদান

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পানি নামছে। এতে স্কুলে ফিরছে শিক্ষার্থীরা, আবার শুরু হয়েছে পাঠদান। তবে যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আশ্রয়কেন্দ্র ছিল, সেগুলোর কোনো কোনোটিতে এখনো পাঠদান শুরু হয়নি।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সাতটি উপজেলায় সাম্প্রতিক বন্যায় ৩৮২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়। এখন এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বন্যার পানি নেমে গেছে। ক্ষতি হয়েছে ২৩৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন, আসবাব, খেলার মাঠ। টাকার অঙ্কে ক্ষতির পরিমাণ ৮৮ লাখ ৮৭ হাজার টাকা। বেশি ক্ষতি হয়েছে জেলার দোয়ারাবাজার ও ছাতক উপজেলায়। এই দুই উপজেলা বন্যায় আক্রান্ত ছিল বেশি। বন্যায় জেলার ২০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছিল। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে মানুষজন বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন।

একইভাবে বন্যায় জেলার প্রায় ৫০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ প্লাবিত হয়। এসব প্রতিষ্ঠান থেকেও পানি নামায় আবার পাঠদান শুরু হয়েছে।

বন্যায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট প্লাবিত হওয়া এবং চারদিকে পানি থাকায় ঝুঁকির কারণে শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে পারেনি। অনেক অভিভাবকই শিক্ষার্থীদের স্কুলে পাঠাননি। যে কারণে প্লাবিত প্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠদান বন্ধ ছিল। এখন বন্যার পানি কমেছে। তাই শিক্ষার্থীরা আবার স্কুলে যেতে শুরু করেছে।

সদর উপজেলার জগাইরগাঁও, লালপুর ও গৌরারং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায় পাঠদান চলছে। শিক্ষার্থীরা আবার ক্লাসে ফিরেছে।

লালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শহীদুল হক বলেন, তাঁদের বিদ্যালয়ে বন্যার পানি ছিল প্রায় এক সপ্তাহ। আনুষ্ঠানিকভাবে বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা না দিলেও বন্যার কারণে এত দিন শিক্ষার্থীরা আসেনি। বিদ্যালয় প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি রাস্তাঘাটেও বন্যার পানি ছিল। তিনি জানান, বন্যায় স্কুলের মাঠের অনেক স্থানে গর্ত হয়ে গেছে। এখনো পানি আছে মাঠে। শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা করতে সমস্যা হচ্ছে।

জগাইরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ফেরদৌসী আরা বেগম বলেন, তাঁদের বিদ্যালয়ের নিচতলায় বন্যার পানি ছিল। এ কারণে নিচতলার আসবাবের ক্ষতি হয়েছে। এখন দ্বিতীয়তলায় পাঠদান করছেন তাঁরা।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম আবদুর রহমান জানান, বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় আবার পাঠদান শুরু হয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠানে আশ্রয়কেন্দ্র ছিল, সেগুলোতে পরিচ্ছন্নতার কাজ করেই পাঠদান শুরু করতে হবে। দুয়েকটিতে এখনো বন্যার্ত লোকজন আছেন। এ ছাড়া ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্লাবিত হওয়া মাধ্যমিক স্কুল ও কলেজ থেকে পানি নেমে যাওয়ার পর আবার পাঠদান চলছে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

এদিকে সুনামগঞ্জে গত ছয় দিন ভারী বৃষ্টি হয়নি। একই সময়ে উজানের পাহাড়ি ঢল নেমেছে কম। যে কারণে সার্বিক বন্যার পরিস্থতির উন্নতি হয়েছে। জেলার নদী ও হাওরে পানি কমেছে। বৃহস্পতিবার সকালে জেলা শহরের কাছে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ৬৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তবে পানি ধীরে কমছে বলে জানান সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপবিভাগীয় প্রকৌশলী প্রীতম পাল।