• জুন ৯, ২০২২
  • জাতীয়
  • 224
বাজেট ঘোষনা : ১০ টাকার চাল হচ্ছে ১৫ টাকা

নিউজ ডেস্কঃ বিশ্বজুড়ে চলা সংকটের মাঝে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল নতুন অর্থবছরের জন্য পৌনে ৭ লাখ কোটি টাকার বেশি আকারের বাজেট প্রস্তাব করেছেন। এর মধ্যে অসহায় গরিব মানুষের সহায়তায় সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৫৭৬ কোটি টাকা।

এই বরাদ্দ মোট বাজেটের ১৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ। আর মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

নতুন বাজেটে চড়া মূল্যের বাজারে অতিদরিদ্রদের জন্য সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চালের দাম ১০ টাকা থেকে ৫ টাকা বাড়িয়ে ১৫ টাকা করার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘চালের বাজারদর নিয়ন্ত্রণসহ স্বল্প-আয়ের মানুষের জন্য খাদ্যপ্রাপ্তি সহজলভ্য করার লক্ষ্যে আমরা ওএমএস কার্যক্রমের মাধ্যমে নিয়মিতভাবে সুলভমূল্যে চাল ও আটা বিক্রি করেছি। চলতি ২০২১-২০২২ অর্থবছরেও এ কর্মসূচিতে ৫ লাখ ৭০ হাজার টন চাল ও ৪ লাখ ৮৫ হাজার টন গমের ফলিত আটা বিতরণ করা হচ্ছে।

‘এর মধ্যে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় স্বল্প আয়ের ৫০ লাখ মানুষের মধ্যে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি করা হচ্ছিল। নতুন অর্থবছরে তা ৫ টাকা বাড়িয়ে ১৫ টাকা করা হচ্ছে।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ২০২২-২০২৩ অর্থবছরেও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি অব্যাহত রাখব। ৫০ লাখ নিম্ন-আয়ের পরিবারকে বছরে কর্ম-অভাবকালীন সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর এবং মার্চ ও এপ্রিল, অর্থাৎ ৫ মাসব্যাপী ১৫ টাকা কেজি দরে পরিবারপ্রতি মাসে ৩০ কেজি চাল বিতরণপূর্বক খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হবে।’

সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় সরকার অসহায় মানুষদের ভাতা দিয়ে থাকে। নতুন অর্থবছরের বাজেটে প্রতিবন্ধী ছাড়া অন্য ভাতার পরিমাণ ও সুবিধাভোগীর সংখ্যাও বাড়ানো হয়নি।

অর্থমন্ত্রীর প্রস্তাব অনুযায়ী ১ জুলাই থেকে প্রতিবন্ধীরা প্রতি মাসে ৮৫০ টাকা করে ভাতা পাবেন। এতদিন পেতেন ৭৫০ টাকা।

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে ২০ লাখ ৮ হাজার প্রতিবন্ধী এই ভাতা পেতেন। নতুন বাজেটে তা বাড়িয়ে ২৩ লাখ ৬৫ হাজার করা হয়েছে। আর এ জন্য নতুন বাজেটে মোট ২ হাজার ৪২৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছেন অর্থমন্ত্রী।

নতুন বাজেটে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় মা ও শিশুসহায়তা কর্মসূচির উপকারভোগীর সংখ্যা ১০ লাখ ৪৫ হাজার থেকে ২ লাখ ৯ হাজার বাড়িয়ে করা হচ্ছে ১২ লাখ ৫৪ হাজার।

এর বাইরে অন্যান্য ভাতার পরিমাণ ও সুবিধাভোগীর সংখ্যায় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।

অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় ‘দুস্থ, প্রতিবন্ধী ও বয়স্কদের জন্য গৃহীত কার্যক্রম’ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘সরকার দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে প্রবীণদের অধিকার সমুন্নত রাখায় সচেষ্ট। দুঃস্থ, প্রবীণ ব্যক্তিদের অধিকার সুরক্ষায় ব্যাপক পরিসরে বয়স্ক ভাতা প্রদান করা হচ্ছে এবং বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতার ক্ষেত্রে প্রবীণ নারীকে অগ্রাধিকার প্রদান করা হচ্ছে।

‘২০২১-২০২২ অর্থবছর থেকে জনপ্রতি মাসিক ৫০০ টাকা হারে ৫৭ লাখ ১ হাজার ভাতাভোগীর জন্য বয়স্ক ভাতা খাতে ৩ হাজার ৪৪৪ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হচ্ছে, যা চলমান থাকবে।

‘২০২১-২০২২ অর্থবছরে ২০ লাখ ৮ হাজার প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে মাসিক ৭৫০ টাকা হারে ভাতা প্রদান করা হয়েছে। উপকারভোগীর সংখ্যা আগামী ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে ৩ লাখ ৫৭ হাজার বৃদ্ধি করে ২০ লাখ ৮ হাজারের স্থলে ২৩ লাখ ৬৫ হাজারে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ সময় মাসিক ভাতার হার ৭৫০ টাকা থেকে ১০০ টাকা বৃদ্ধি করে ৮৫০ টাকা করা হবে। ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে প্রতিবন্ধী ভাতা বাবদ ২ হাজার ৪২৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়ার প্রস্তাব করছি।’

তিনি বলেন, “ভাতা কর্মসূচির বাইরেও সরকার প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিবন্ধী শিক্ষা উপবৃত্তি চালু করেছে, ২০২১-২০২২ অর্থবছরে যার উপকারভোগীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ এবং বার্ষিক বরাদ্দ ছিল ৯৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। দেশের অটিজম ও নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য ও জীবন ঝুঁকি হ্রাসকল্পে নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্টের আওতায় ‘বঙ্গবন্ধু প্রতিবন্ধী সুরক্ষা বিমা’ চলতি বছরের জাতীয় বিমা দিবসে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করেছেন।”