• জুন ১৬, ২০২২
  • লিড নিউস
  • 42
আবার ডুবেছে সিলেট নগর, বাড়ছে দুর্ভোগ

নিউজ ডেস্কঃ এক মাসের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো পানিতে তলিয়ে গেছে সিলেট নগরের অনেক এলাকা। পানি উঠে গেছে বাসাবাড়িতেও। সিলেট নগর ঘুরে বৃহস্পতিবার সকালে দেখা যায়, উপশহর, তেরোরতন, ঘাসিটুলা, সোবহানী ঘাট, তালতলা, মাছিমপুর, কালিঘাট, ছড়ারপাড়সহ অন্তত ১০-১২টি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে এলাকার সড়ক। অনেক বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও পানি ঢুকে গেছে।

এক মাসেরও কম সময়ের ব্যবধানে দুই দফা বন্যায় দুর্ভোগে পড়ছেন এসব এলাকার বাসিন্দারা। নগরের তুলনামূলক নিচু ও সুরমা নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন।

নগরের শাহজালাল উপশহর এলাকার বাসিন্দা সরফ উদ্দিন বলেন, ‘বুধবার দুপুরেই উপশহরের বেশির ভাগ সড়ক তলিয়ে যায়। রাতের দিকে বাসায় পানি ঢুকে পড়ে। পানি বৃদ্ধি এখনও অব্যাহত রয়েছে।’

‘গত মাসেই বন্যায় বাসাবাড়ি পানিতে তলিয়ে গিয়েছিল। প্রায় এক সপ্তাহ বাসায় পানি ছিল। এ সময় বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সরবরাহও বন্ধ ছিল। অনেক দুর্ভোগের পর পানি নামে। এখন আবার একই দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।’

নগরের ঘাসিটুলা এলাকার একটি কলোনির বাসিন্দা আবিদ আহমদও জানান, এক মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বাবের মতো তার বাসায় পানি ঢুকে পড়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। বারবার এভাবে ঘরে পানি ঢুকে জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে যায়। অনেক কষ্ট করতে হয়। আমরা যাব কই?’
নদী উপচে পানি ঢুকে পড়েছে নগরের বৃহৎ পাইকারি বাজার কালিঘাট এলাকার অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।
কালিঘাট এলাকার ব্যবসায়ী নীলাঞ্জন দাশ টুকু বলেন, ‘আগের মাসের বন্যার ক্ষতিই কাটিয়ে উঠতে পারিনি। এখন আবার বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছি। এভাবে বারবার বন্যা হলে ব্যবসা করব কীভাবে?’

নগরের অনেক এলাকা পানিতে তলিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়নি বলে জানিয়েছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)।
সিসিকের প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান বলেন, ‘নগরের কিছু নিচু এলাকায় পানি উঠেছে। তবে এখনও আশ্রয়কেন্দ্র খোলার মতো পরিস্থিতি হয়নি। তবে আমরা প্রস্তুত আছি। প্রয়োজন হলেই আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হবে।’

তিনি বলেন, নগরে খাওয়ার পানির সরবরাহও স্বাভাবিক আছে। ফলে বিশুদ্ধ পানিরও সংকট দেখা দেয়নি।

বৃহস্পতিবারও থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে সিলেটে। ১৯ জুন পর্যন্ত এভাবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। অব্যাহত আছে ঢলও। ফলে বাড়ছে নদ-নদীর পানি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের উপসহকারী প্রকৌশলী নয়ন পাশা বলেন, ‘সিলেটের সুরিমা, কুশিয়ারা ও লোভা নদীর পানি বিভিন্ন পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে কিছুটা কমলেও বেড়েছে সিলেট পয়েন্টে।’
এর আগে গত মে মাসের মাঝামাঝিতে ভয়ঙ্কর বন্যা দেখা দেয় সিলেটে। ১৮ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ এই বন্যায় তলিয়ে যায় জেলার ১২টি উপজেলা ও নগরের বেশির ভাগ এলাকা।

এই রেশ না কাটতেই আবারও বন্যার কবলে পড়েছে সিলেট। তবে বন্যায় নগরের চেয়েও সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষেরা।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ এলাকার দিনমজুর ইকবাল হোসেন বলেন, ‘পানি তো ইবার যাইতে করি কর না। মাঝখানে কয়দিনের লাগি একটু কমছিল। এখন আবার বাড়ি গেছে। প্রায় এক মাস ধরি আমরা পানির নিচে আছি।’পানির কারণে কাজের সুযোগ না থাকায় দুর্ভোগে আছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কাজকাম নাই। খাইয়া না খাইয়া আছি।’

জেলার প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে জানিয়ে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম জানান, পানিবন্দি মানুষের জন্য ৪৪৩টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। গতকাল চাল বিতরণ করা হয়েছে। আজ (বৃহস্পতিবার) অর্থ বিতরণ করা হবে।

বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে সিলেটের পাঁচ উপজেলা সদর, গোয়াইঘাট, কানাইঘাট, কোম্পানীগঞ্জ ও জৈন্তাপুরে। এসব উপজেলার বেশির ভাগ এলাকা প্লাবিত হয়ে আছে। তলিয়ে গেছে এসব এলাকার রাস্তাঘাট। বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি অনেক অফিসেও পানি উঠে গেছে।

গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিলুর রহমান বলেন, ‘বৃহস্পতিবার পানি তেমন বাড়েনি। বন্যাকবলিত মানুষের মধ্যে ইতোমধ্যে আমরা ত্রাণ পবিতরণ কার্যক্রম শুরু করেছি।’

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •