• জুন ১৮, ২০২২
  • শীর্ষ খবর
  • 107
বন্যায় নিঃস্ব গোলাপগঞ্জের হাজারো পরিবার

গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধিঃ সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায় উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও ভারী বর্ষণের কারণে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।বন্যায় গোলাপগঞ্জ পৌরসভাসহ উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে উপজেলাজুড়ে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী রয়েছেন।ঘরবাড়ি ভেঙ্গে, ফসলি জমি হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ।

শনিবার (১৮ জুন)সুরমানদীর বাধে পরিবার নিয়ে আশ্রয় নেন গোলাপগঞ্জ উপজেলার লক্ষ্মীপাশা ইউনিয়নের মো. সামাদুর রহমান। বসতভিটা ও জমিজমা হারিয়ে পাশে আহাজারি করছিলেন তার মা জুলেখা খানম ও বাবা মো. রফিকুল ইসলাম।

মো. সামাদুর রহমান সিলেটটাইমসবিডিকে বলেন, প্রবল বন্যার ফলে সৃষ্ট নদী ভাঙ্গনে বাড়ি, ধানের জমি এবং গৃহপালিত পশু সব হারিয়ে এখন অসহায় অবস্থায় জীবন যাপন করছি আমরা। নদীর পাড়ে আশ্রয় নিয়েছে।বাড়ি বন্ধক দিয়ে টাকা নিয়ে কৃষিজমি করেছিলাম, গরু কিনেছিলাম।বন্যার পানি সব ভাসিয়ে নিয়েছে। এখন আমিসহ আমার পরিবার নিঃশ্ব হয়ে গেছি।

চলমান বন্যায় মো. সামাদুর রহমানের মত এই ইউনিয়নের শতাধিক মানুষ সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন।

জানা গেছে, বন্যায় গোলাপগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাঘা ও লক্ষ্মীপাশা ইউনিয়ন । এসব ইউনিয়নের প্রায় ৯০ শতাংশ গ্রাম পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এসব ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে অবস্থিত বিভিন্ন সড়ক এরই মধ্যে প্রায় ৫ ফুট পানির নিচে রয়েছে। তাই যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে পানিবন্দী এলাকায় দেখা দিয়েছে নৌকার সংকট। পর্যাপ্ত নৌকা না থাকায় পানিবন্দী মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বিড়ম্বনায় পড়ছে।

গোলাপগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, বানভাসি মানুষের মধ্যে ২৪ টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। তবে নৌকার সংকট থাকায় পানিবন্দী মানুষের কাছে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। হাজারো হেক্টর ফসলি জমি পানিতে তালিয়ে গেছে। মানুষের বসতবাড়ি ভেঙ্গে গেছে। গবাদিপশু পানিতে ভেসে গেছে।