• জুন ১৯, ২০২২
  • লিড নিউস
  • 200
আশ্রয়কেন্দ্রে খাবারের হাহাকার

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বন্যায় সিলেটের দুর্গকুমার পাঠশালায় আশ্রয় নিয়েছেন ছড়ারপাড় এলাকার বাসিন্দা লিটন মিয়া। শুক্রবার এ আশ্রয়কেন্দ্র ওঠেন তিনি। বৃহস্পতিবার কিছু লোক এসে রান্না করা খাবার দিয়ে যান। এরপর আর কোনো সহায়তা পাননি লিটন। তিনি বলেন, ‘এক দিন কেবল খাবার পেয়েছিলাম। এরপর আর কিছু পাইনি। এখানে রান্নার সুযোগ নেই। তাই খুব কষ্টে আছি। তবু তো উপোস থাকা যায় না। আমরা না হয় যেকোনো কিছু খেয়ে ফেললাম। বাচ্চারা তো বুঝতে চায় না। তাই বাসায় যাই রান্না করতে। বাসায় পানি উঠলেও চুলা ডুবেনি। পানি ডিঙিয়ে বাসায় গিয়ে রান্না করে এখানে খাবার নিয়ে আসি।’

এখন পর্যন্ত কোনো ত্রাণ পাননি বলে জানান সিলেট সদর উপজেলার মানসিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নেয়া শরিফা বেগম। বলেন, ‘বাড়ি থেকে হাঁড়ি-পাতিল কিছুই আনতে পারিনি। খাবারও আনিনি। এখানে এখন পর্যন্ত কেউ ত্রাণ নিয়েও আসিনি। তাই খুব কষ্টে আছি।’

শুধু এ দুটি আশ্রয়কেন্দ্র নয়, সিলেটের সব আশ্রয়কেন্দ্রের চিত্রই এমন। আশ্রয়কেন্দ্র্রগুলোতে ঠাঁই নেয়া বানভাসি মানুষেরা ভুগছেন খাবারের তীব্র সংকটে। নগরে এখন পর্যন্ত সরকারি কোনো উদ্যোগে ত্রাণ তৎপরতা শুরু হয়নি। তবে অনেক সেচ্চাসেবী সংগঠন শুকনো খাবার দিয়ে সাহায্য করছে।

মোহাম্মদ আলী নামে একজন উঠেছেন দুর্গাকুমার পাঠশালায়। তিনিও জানালেন তিন দিনে কোনো সরকারি ত্রাণ পাননি। ব্যক্তি-উদ্যোগে কয়েকজন রান্না করা খাবার দিয়েছেন। আলী বলেন, ‘রান্না করা খাবার তো রাখা যায় না। একবেলায় খেয়ে ফেলতে হয়। তাই একবেলা খেলে পরের বেলা উপোস থাকতে হচ্ছে।’

এদিকে নগরের বাইরে সেনাবাহিনী ও প্রশাসন ত্রাণ বিতরণ করলেও তা পর্যাপ্ত নয় বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। নগরের ভেতরে ব্যক্তি ও বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান খাবার বিতরণ করলেও দুর্গম এলাকাগুলোতে আশ্রয় নেয়া মানুষরা রয়েছেন সংকটে।

জলযানের অভাবে দুর্গম এলাকায় ত্রাণ তৎপরতা ব্যাহত হচ্ছে বলে সিলেটের জেলা প্রশাসক মজিবর রহমান জানিয়েছেন এ পর্যন্ত জেলায় ৬১২ টন চাল, প্রায় আট হাজার প্যাকেট খাবার ও ৩৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে। আমরা বন্যাকবলিত মানুষদের উদ্ধার ও সহায়তায় সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছি। সেনাবাহিনীও এ ক্ষেত্রে সহায়তা করছে। তবে নৌকা সংকট ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে অনেক দুর্গম এলাকায় পৌঁছানো যাচ্ছে না। তবে আমাদের আন্তরিকতা ও চেষ্টার ঘাটতি নেই।’

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ এলাকার বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র ঘুরে দেখেছেন ওই উপজেলার বাসিন্দা শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. জফির সেতু। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে ত্রাণের জন্য হাহাকারের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি শনিবার উপজেলার দীঘলবাঁকেরপাড়-ফেদারগাঁও উচ্চবিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়েছিলাম। সেখানে গাদাগাদি করে আশ্রয় নিয়েছেন বানভাসি মানুষ। তাদের খাওয়ার পানি নেই, খাবার নেই। বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত এই আশ্রয়কেন্দ্রে কাউকে এক প্যাকেট ত্রাণ নিয়ে আসতে দেখিনি খাবারের অভাবে মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েছে। বাচ্চারাও কান্না করছিল।’

বন্যাকবলিতদের উদ্ধারের পাশাপাশি তাদের খাদ্য সহায়তা এবং চিকিৎসাসেবা প্রদানেও সেনাবাহিনী কাজ করছে বলে জানিয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। রোববার সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণ শেষে এ কথা বলেন তিনি।